লালমনিরহাট জেলায় দুই উপজেলায়  গ্যাসের সিলিন্ডার বিস্ফোরণে শিশু ও  চুলায় রান্না করতে গৃহবধূর মৃত্যু

প্রকাশিত
লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধিঃলালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় গ্যাসের চুলায় রান্না করতে গিয়ে পরনের কাপড়ে আগুন লেগে শাহিনা বেগম (৩৫) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে।শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার সিঙ্গিমারী ইউনিয়নের দক্ষিণ গড্ডিমারী গ্রামের ৪ নং ওয়ার্ডে এ দুর্ঘটনা ঘটে।নিহত শাহিনা বেগম ওই এলাকার মৃত আবু সাঈদের মেয়ে ওআদিতমারী উপজেলার কমলাবাড়ি ইউনিয়নের কুমরিরহাট এলাকার আইয়ুব জাহিদ কমলের স্ত্রী।স্থানীয়রা জানায়, স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে বাবার বাড়ি বেড়াতে এসে বিকেলে গ্যাসের চুলায় রান্না বসান শাহিনা বেগম।এ সময় তার অসাবধানতার কারণে চুলার আগুন পড়নের কাপড়ে লাগে। বাড়িতে অন্য কেউ না থাকায় এবং স্বামী পাশের রুমে ঘুমে থাকায় ওই আগুনে গোটা শরীর পুরে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় শাহিনার। শাহিনা বেগমের একটি হাত আগে থেকে অচল ছিল।হাতীবান্ধা থানার ওসি এরশাদুল আলম এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মৃত দেহ ময়নাতদন্তের জন্য লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অপর দিকে জেলার   কালীগঞ্জ উপজেলায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে লিংকন (৫) নামে এক শিশু চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন শিশুটির মা-বাবা চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন।শুক্রবার (৩০এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ আগে গতবুধবার (২৮ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৮টার দিকে কালীগঞ্জ উপজেলা ডাকবাংলা ভবনের পাশে একটি নিজ বাসায় এ গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে বাবা সাইফুল ইসলাম (৩৫), মা লায়লা বেগম (২৫) ও শিশু লিংখন আহত হন।স্থানীয়রা জানান, বুধবার (২৮এপ্রিল) রাত সাড়ে ৮টার দিকে সেহেরীর রান্নার প্রস্তুতি করছিলেন শিশুটির মা লায়লা বেগম। হঠাৎ করে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হলে বিকট শব্দে তারা তিনজন ছিটকে পড়ে যান। পরে তাদের আত্মচিৎকার করলে স্থানীয় লোকজন ছুটে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে। প্রথমে আহত অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানকার চিকিৎসকরা রংপুরে রেফার করেন। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিট চিকিৎসাধীন অবস্থায়  শিশুটি মারা যান। এসময় তাদের শরীরে আগুন ধরে গিয়ে তিনজনের মধ্যে  শিশুটির শরীরের ৫৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রবিউল হাসান বলেন, শিশুসহ তার মা-বাবা দুজনের শরীর পুড়ে গেছে। শিশুটির বাবা সাইফুল ডাকবাংলো কেয়ারটেকার হিসাবে কর্মরত ছিলেন।

এ বিষয়ে কালীগঞ্জ ফায়ার স্টেশনের (ভারপ্রাপ্ত) কর্মকর্তা আবু তাহের জানান, ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তবে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকেই আগুনের সূত্রপাত বলে তিনি জানান।