লিভারপুল সমর্থকদের পাগলামিতে রাজকীয় বিল্ডিংয়ে আগুন

প্রকাশিত

দীর্ঘ ৩০ বছরের অপেক্ষার পর ধরা দিল সাফল্য। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের চ্যাম্পিয়ন হলো লিভারপুল। ভক্ত-সমর্থকদের উদযাপনটা বাধ ভাঙা হবে, সেটাই স্বাভাবিক। লিভারপুলের শিরোপা নিশ্চিত হয়ে যাওয়ার পর তারা রাতভর উদযাপন করেছেনও।

করোনার এই সময়টায় কোনো বিধি নিষেধের তোয়াক্কা না করে আনফিন্ডে জড়ো হন সমর্থকরা। তারা নানা রকম পাগলামি, আনন্দ উল্লাসে শিরোপা উৎসব করেছেন। শুধু অ্যানফিল্ড স্টেডিয়ামে বাইরে নয়, হোটেল, পানশালা বা রেস্টুরেন্ট- যে যেখানে খেলা দেখেছে সেটিই রূপ নিয়েছে উৎসবের কেন্দ্র হিসেবে।

এই আনন্দ উদযাপন যেন থামার নয়। টানা দ্বিতীয় দিনও একই অবস্থা। সরকারিভাবে বারবারই সাবধান করা হচ্ছে, করোনার এই ঝুঁকিপূর্ণ সময়টায় নিজেদের সামলে রাখতে। কিন্তু সব বাধা উপেক্ষা করে ফের শহরের কেন্দ্রে জড়ো হন ভক্ত সমর্থকরা।

তবে সব কিছুরই তো সীমা থাকে। লিভারপুলের কয়েকজন ভক্ত-সমর্থক সেই সীমা ছাড়িয়ে গেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, সমর্থকদের মধ্য থেকে কে বা কারা রাজকীয় লিভার বিল্ডিংয়ের দিকে আতশবাজি ছুঁড়ে দেন। সেখান থেকে আগুন ধরে যায় বিল্ডিংয়ে। সেই আগুন লাগার পর আবার কয়েকজন সমর্থকদের আনন্দে তালি দিতেও দেখা যায়।

বিল্ডিংয়ের বেলকনিতে লেগে যাওয়া সেই আগুন নেভাতে চারটি ফায়ার ইঞ্জিন পাঠানো হয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে। তবে কি ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এখন পর্যন্ত জানা যায়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মার্সেসাইড পুলিশকে কঠোর হতে হয়েছে। দুইজনের বেশি জড়ো হওয়াতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে তারা।

‘লিভারপুল ইকো’তে প্রকাশিত আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশের দিকে কাঁচের বোতল ছুড়ে মারছেন কয়েকজন সমর্থক। পুলিশের মুখপাত্র অবশ্য এই বোতল নিক্ষেপ কিংবা কাউকে গ্রেফতারের বিষয়ে কিছু বলতে রাজি হননি। তবে তিনি স্বীকার করেন, রাতভর বেশ ঝামেলা পোহাতে হয়েছে।

এদিকে ক্লাব লিভারপুলের পক্ষ থেকে সমর্থকদের এমন উদযাপনের নিন্দা জানানো হয়েছে। করোনার এই সময়টায় এভাবে বিধি নিষেধ অমান্য করে উদযাপন না করে অপেক্ষা করার আহ্বান জানানো হয়েছে সমর্থকদের প্রতি। পরে সঠিক সময় সুযোগ হলে আবারও উদযাপন অনুষ্ঠান করা হবে বলে আশ্বাস দেয়া হয় ক্লাব থেকে।