লড়াই হবে নৌকা ও আনারসে

প্রকাশিত

জমে উঠেছে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার মুলনা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। আর মাত্র একদিন পর ভোট। তাই দিনরাত ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ভোট ভিক্ষে চাইছেন প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা। এ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৬ জন প্রার্থী হলেও মূলত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বর্তমান চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ মনোনীত সেলিম শিকদার (নৌকা) ও আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী নুরুল আমিন হাওলাদারের (আনরস) মধ্যে। এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভক্ত হয়ে পড়েছে জাজিরা উপজেলার আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে আব্দুর রশিদ হাওলাদার নামের এক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও ভোটের মাঠে তার উপস্থিতি চোখে পড়েনি।
সরেজমিনে জানা গেছে, জাজিরা উপজেলার মুলনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে ৬জন ও সাধারণ সদস্য এবং সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ৪০জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মোট ভোটার ১০ হাজার ১শ ৬৬ জন, এর মধ্যে মহিলা ভোটার ৪ হাজার ৭শ ৮২ জন। আগামিকাল সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ৯টি কেন্দ্রে এ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে নৌক প্রতিকে প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন বর্তমান চেয়ারম্যান সেলিম শিকদার। সেলিম শিকদার নৌকা প্রতীক পেলেও স্থানীয় আওয়ামী লীগের সকল নেতাকর্মীদের নৌকার পক্ষে মাঠে নামাতে পারেনি। স্থানীয় আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতারা আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী নুরুল আমিন হাওলাদারকে সমর্থন দিয়ে আনারস প্রতীকে নির্বাচন করানো হচ্ছে। এতে অনেকটা দুর্বল হয়ে পড়েছে আওয়ামী লীগ প্রার্থী সেলিম শিকদার। অবশ্য, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও স্থানীয় সংসদ সদস্য বিএম মোজাম্মেল হক এবং তার অনুসারিরা নৌকা প্রতীকের পক্ষে কাজ করে যাচ্ছে। এদিকে সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক জেলা পরিষদের প্রশাসক মাস্টার মুজিবুর রহমান, সাবেক জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোবারক আলী শিকদার, ছাত্রলীগ নেতা মিথুন ঢালীসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতারা আনারস প্রতীকের পক্ষে মরিয়া হয়ে নেমেছে। এতে অনেকটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে আনারস। গত নির্বাচনে সামন্য ভোটের ব্যবধানে সেলিম শিকাদরের সঙ্গে পরাজিত হয়েছিলেন নুরুল আমিন হাওলাদার। এ বছর আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতারা তার সঙ্গে থাকায় ভোটের হিসেবে তার পাল্লা অনেকটা ভারী বলে ধারণা করছে স্থানীয়রা।
নির্বাচনী এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে । ব্যানার ফেস্টুন আর পোস্টারে ছেয়ে গেছে গোটা হাট-বাজার। দম ফেলার ফুসরত নেই প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের। দুপুর না গড়াতেই মাইকিংয়ে মাইকিংয়ে সরব হয়ে উঠছে মাঠঘাট। গভীর রাত পর্যন্ত দল বেঁধে ভোটারের বাড়ি বাড়ি যাচ্ছে সমর্থকরা। সাধারণ ভোটারদের দাবি হচ্ছে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন। তারা সকল প্রকার ভয়-ভীতির উর্ধ্বে থেকে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট প্রদানের পরিবেশ তৈরি করতে নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন। শরীয়তপুরের অতিক্তি পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আব্দুল হান্নান জানান, নির্বাচনের দিন আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ৫ স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হবে। পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি সদস্যদের সমন্বয়ে নির্বাচনের একদিন আগে থেকে ভোট গ্রহণের পরের দিন পর্যন্ত শন্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। রির্টানিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মঞ্জুর হোসেন খান বলেন, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের সব ধরনের প্রস্তুতি আমাদের রয়েছে। আশা করি সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য একটি সুন্দর নির্বাচন আমরা উপহার দিতে পারবো।

Be the first to write a comment.

Leave a Reply