শরণখোলায় চায়না গ্রুপের বিরুদ্ধে মাটি লুটের অভিযোগ!

প্রকাশিত

শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধিঃ
বাগেরহাটের শরণখোলায় অবৈধ ভাবে একটি সরকারি খালের মাটি লুটের অভিযোগে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান চায়না গ্রুপের খনন কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন। ১৫ এপ্রিল (বুধবার) দুপুরে উপজেলার খোন্তাকাটা ইউনিয়নের পশ্চিম রাজৈর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরদার মোস্তফা শাহিন জানান, প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই স্থানীয় কতিপয় লোভী ব্যক্তি নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য গোপনে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান চায়না গ্রুপের কাছে ওই খালটির মাটি বিক্রি করেন এবং মোটা অংকের অর্থ লুটপাটের ধান্ধা শুরু করেন। নিয়ম অনুযায়ী সরকারী সম্পদের (খালের) মাটি বিক্রির টাকা সরকারি ফান্ডে জমা হবে। কিন্তু ঠিকাদার গ্রুপ আমাকে (প্রশাসনকে) কিছু অবগত না করেই স্থানীয় অনেক কৃষকদের নানা প্রজাজির কৃষি পন্য ধ্বংস করে মাটি উত্তোলন শুরু করেন। তাই অবৈধ ভাবে সরকারি খালের মাটি খননের কারনে ওই ঠিকাদার কোম্পানীর কাজ বন্ধ করা হয়েছে এবং তাদের ব্যবহৃত কয়েকটি গাড়ী আটক করা হয়েছে। ঠিকাদার কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে সঠিক জবাব না দিলে তাদের বিরুদ্ধে বিধিগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে, স্থানীয়দের সুত্র জানায়, সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান সহ তার কয়েকজন সহযোগী এবং ওই এলাকার সমাজ সেবক ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ নেতা রাসেল গাজী ও যুবলীগ নেতা রাসেল আকন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না গ্রুপের স্থানীয় কতিপয় অসাধু প্রতিনিধিদের যোগসাজশে স্থানীয় একাধিক কৃষকের ক্ষেত নষ্ট করে খালের মাটি লুটে সহয়তা করেন। অপরদিকে, কৃষকরা তাদের ক্ষেত নষ্টের ক্ষতিপুরণ চাওয়ায় যুবলীগ নেতা রাসেল আকন তাদের কয়েক জনকে লাঞ্চিত করেন এবং মামলার ভয় দেখান বলে অভিযোগ ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের। এ বিষয়ে রাসেল আকন ও রাসেল গাজী বলেন, বহু বছরের পুরাতন ওই খালটি মরে যাওয়ায় স্থানীয় জমির মালিকরা তা খননের দাবি করে সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যান সাহেবের কাছে আবেদন করেন। তার জন্য তিনি চায়নাদের সাথে কথা বলে খালটি খননের ব্যবস্থা করেন এবং আমরা এলাকার স্বার্থে খালটি খননে সহয়তা করছি মাত্র। এছাড়া আমাদের বিরুদ্ধে যেসকল অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে তা সম্পুর্ন মিথ্যা।
তবে, এ বিষয়ে জানতে চেয়ারম্যান মোঃ জাকির হোসেন খাঁন মহিউদ্দিনের মুঠোফোনে বহুবার ফোন করলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।
এছাড়া ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের তদারকি কর্মকর্তা ইঞ্জিনিয়ার মোঃ দেলোয়ার হোসেন জানান, এ ব্যাপারে তিনি কিছুই জানেন না। তবে, ঠিকাদার গ্রুপের স্থানীয় প্রতিনিধি মোঃ মুজাহিদুল ইসলাম জানান, আমাদের কোম্পানী কয়েক বছর যাবৎ অত্র এলাকায় ৩৫/১ পোল্ডারের ভেড়ীবাঁধের কাজ করছেন। কিন্তু অবৈধ ভাবে কারো কোন মাটি উত্তোলনের কলঙ্ক নেই। সংশ্লিষ্ট ইউপি চয়ারম্যানের অনুমতিক্রমে ওই সরকারি খালের মাটি খনন করা হচ্ছে। এখানে অবৈধ কিংবা যোগসাজসের কোন বিষয় নেই। ###