শামছুন্নাহার একজন মানবিক নারী পুলিশ সুপার

প্রকাশিত

তুহিন সারোয়ার, আত্মঅহংকার, উগ্রতা কিংবা ক্রোধকে পদদলিত করে নিজেকে সাধারণ মানুষের কাতারে নিয়ে আসা সত্যিকার অর্থের এই নারী পুলিশ সুপার শামছুন্নাহার। তাঁর বেড়ে উঠা ছোট কালের কথা না ভুলে গিয়ে এবং চাঁদপুর জেলা পুলিশের সর্বোচ্চ পুলিশ কর্মকর্তা ও রাষ্ট্রপতি পদক প্রাপ্ত পদবীর কথা ভুলে গিয়ে শুক্রবার (১৬ মার্চ) নিজ কার্যালয়ের সামনে পুকুরে দমকল দিয়ে পানি সেঁচে সেখানে হঠাৎ করে সেলোয়ার-কামিজ পরেই হাঁটুসমান কাদামাটিতে নেমে পড়লেন কোনো এক নারী।

এসময় তিনি পুকুরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে সহকর্মীদের মাছগুলো ড্রামে ভরেন এবং নিজেও মাছ ধরেন। পরে সেই মাছগুলো সহকর্মীদের মাঝে বিতরণ করে দেন।

চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে হওয়া এমন দৃশ্য দেখে উপস্থিত সবাই তাদের মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ধারন করে নেন অবিশ্বাস্য এক মুহুর্তেরর স্মৃতি খন্ড। এদিন চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জিএম শাহীন এমন নয়টি ছবি তার ফেসবুকে পোস্ট করে লিখেন, “অামাদের চাঁদপুরের পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার পিপিএম। একজন মানবিক পুলিশ কর্মকর্তা।

আলোকিত মানুষ । নিজ কার্যালয়ের সামনের পুকুরে কাঁদা মাটি-পানিতে নেমেছেন মাছ ধরতে। মাটির মানুষ তিনি। পুকুরে পাওয়া সব মাছই দিয়েছেন অধীনস্থদের। শুক্র বার দুপুরে পুলিশ সুপারের মাছ ধরার অসাধারণ এ ছবি গুলো তুলেছেন কয়েক জন পুলিশ সদস্য।

ওনার মধ্যে অহংকার, উগ্রতা, হিংস্রতা, কিংবা ক্রোধ দেখিনি কোন দিন। সততার সাথে দায়িত্ব পালন করে যিনি জেলাবাসীর অন্তরে স্থান করে নিয়েছেন। মানবিক গুণসম্মৃদ্ধ এই পুলিশ সুপারের জন্য অনেক শুভ কামনা।”

জনাব শামসুন্নাহার ফরিদপুর জেলার সন্তান। তিনি এ জেলার সদর উপজেলার চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের ইসমাইল মুন্সীর ডাঙ্গীতে জন্মগ্রহণ করেন। চার ভাইবোনের মধ্যে শামসুন্নাহার সবার বড়। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও এমফিল সম্পন্ন করার পর স্কলারশিপ নিয়ে চলে যান যুক্তরাজ্যের বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখান থেকে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন।

তারা ২ বোন ও ২ ভাই। সবার বড় তিনি। মা-বাবার স্বপ্নও তাকে নিয়ে ছিল আকাশ ছোঁয়া। মেজো ভাই ডাক্তার। সেজো ভাই হাইকোর্টের আইনজীবী। সবার ছোট বোন স্কুলের শিক্ষিকা। দুই সন্তানের জননী এই সফল নারী।

২০০১ সালে সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদানের পর পুলিশ সদর দপ্তর, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, ট্যুরিস্ট পুলিশসহ বিভিন্ন ইউনিটে দায়িত্ব পালন করেন।

২০০১ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘের শাখা অফিস ইতালিতে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। ২০০৯ ও ২০১০ সালে পূর্ব-তিমুরে জাতিসংঘ মিশনের জাতীয় পুলিশের মানবসম্পদ উন্নয়ন কর্মকান্ডে দায়িত্ব পালন করেন।

জাতিসংঘে উচ্চপদে সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের স্বীকৃতিস্বরূপ পেয়েছেন সাতবার জাতিসংঘ শান্তি পদক। তাছাড়া পুলিশে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য পেয়েছেন দু’বার আইজি ব্যাজ। তার অরেকটি বড় পরিচয় পুলিশ সপ্তাহ-২০১৬ এ প্যারেডের নেতৃত্ব দেন তিনি।