শাহজালাল বিমানবন্দরের নিরাপত্তা

প্রকাশিত

যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়াসহ অনেক দেশ ইতিপূর্বে আমাদের প্রধান বিমানবন্দর- শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে, এমনকি কার্গো পরিবহন বন্ধও করে দিয়েছে। তারপরও পুরো বিমানবন্দর এলাকাকে এতদিন সিসি টিভি পর্যবেক্ষণের আওতায় আনা হয়নি। মাত্র ২০০ সিসি টিভি ক্যামেরা দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো পর্যবেক্ষণ করা হতো। অবশেষে আরও ৫০০ সিসি টিভি ক্যামেরা বসিয়ে পুরো বিমানবন্দরের নিরাপত্তা জোরদার এবং চোরাচালান রোধের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বিষয়টি নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। পাশাপাশি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে এলইডি মনিটর ও ডিজিটাল সাইনবোর্ড বসানোর মাধ্যমে বিমানবন্দর এলাকার সৌন্দর্যবর্ধনের কাজও ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। এতে করে দেশে-বিদেশে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, সর্বোপরি দেশের ভাবমূর্তি কিছুটা হলেও উজ্জ্বল হবে বলে আশা করা যায়।

জানা যায়, শাহজালালের বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ এলাকা এতদিন সিসি টিভি পর্যবেক্ষণের আওতায় না থাকায় এক নিরাপত্তা কর্মকর্তার কক্ষ থেকে পৌনে দুই কেজি সোনা উদ্ধারের পর তা কীভাবে সেখানে গেছে, সেটা জানতে বহু অনুসন্ধানের পরও কোনো ফুটেজ খুঁজে না পেয়ে টনক নড়ে সংশ্লিষ্টদের। এছাড়া ভিআইপি গেট দিয়ে প্রবেশ করা বা বের হওয়ার ক্ষেত্রে ম্যানুয়াল চেক সম্ভব নয় বিধায় সেখানে মানুষ ও গাড়ি স্ক্যানের যন্ত্রও প্রয়োজন। এজন্য এসব যন্ত্র ও ৫০০ সিসি টিভি বসানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কর্পোরেশন এজেন্সি জাইকার সহায়তায়। আমরা মনে করি, দেরিতে হলেও এসব উদ্যোগ বিমানবন্দরের নিরাপত্তা জোরদার ও চোরাচালান রোধে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে।

শাহজালালের নিরাপত্তা দুর্বলতা এবং স্বর্ণ ও মাদকসহ অন্যান্য নিষিদ্ধ দ্রব্য অবাধ চোরাচালানের বিষয়টি বারবার আলোচনায় এসেছে। নিরাপত্তা ত্রুটির কারণে সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে যাত্রী না হয়েও বিমানে গিয়ে বসে পড়ার ঘটনাও ব্যাপক আলোচিত। কর্মকর্তাদের বহন ও ময়লা অপসারণে নিয়োজিত গাড়ি কোনো ধরনের তল্লাশি ছাড়াই বিমানবন্দরে প্রবেশ করা ও বের হওয়ার ঘটনাও ঘটছে অহরহ। এ পরিপ্রেক্ষিতে সিসি টিভি বসানো একটি ভালো উদ্যোগ। তবে যতক্ষণ পর্যন্ত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে শুরু করে নিরাপত্তারক্ষী- সবাই সচেতন না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন সম্ভব নয়। এ কারণে নিরাপত্তা ত্রুটি দূর করার পাশাপাশি সিভিল এভিয়েশন থেকে নিয়ে কাস্টমস, পুলিশ প্রশাসন সবাইকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। এসব সংস্থার সদস্যদের প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ সহযোগিতা ছাড়া বিমানবন্দর ব্যবহার করে কোনো ধরনের অনিয়ম করা যে সম্ভব নয়, তা বলাই বাহুল্য।

কোনো দেশের প্রধান বিমানবন্দর দেখে দেশটি সম্পর্কে বিদেশিদের অনেক কিছু জানা হয়ে যায়। এছাড়া আন্তর্জাতিক সিভিল এভিয়েশন সংস্থা বিমানবন্দরের নিরাপত্তা র‌্যাংকিং ও পর্যালোচনা করে থাকে। সৌন্দর্যবর্ধন ও সিসি টিভির মাধ্যমে নিরাপত্তা জোরদারের উদ্যোগ অতীতের বদনাম ঘোচাতে ভূমিকা রাখবে। ডিজিটাল মনিটর ও এলইডি স্ক্রিন স্থাপনের মাধ্যমে যাত্রীদের বিভিন্ন তথ্য দেয়া, দেশের ঐতিহ্য তুলে ধরা, পর্যটন এলাকার খবরাখবর জানানো, এমনকি সরকারের মোটা অঙ্কের রাজস্ব আয়ের সুযোগও তৈরি হয়েছে। সিসি টিভি বসানো ও অন্যান্য প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজও যথাসময়ে সম্পন্ন হওয়া প্রয়োজন। সরকারের উচ্চমহল থেকে নিয়ে বিমানবন্দরসংশ্লিষ্ট সবাই এ ব্যাপারে ইতিবাচক ভূমিকা রাখলে আমাদের প্রধান বিমানবন্দরটি তার গৌরব ফিরে পাবে অবশ্যই।

Be the first to write a comment.

Leave a Reply