শিবগঞ্জে ক্ষমতাসীন দলের দুই গ্রুপের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া আহত-১০

প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক চাঁপাইনবাবগঞ্জ: চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে দুই ইউপি চেয়ারম্যানের কথা বাকবিতন্ডাকে কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীন দলের দু’গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এসময় ক্ষমতাসীন দলের কর্মীরা হামলা চালিয়ে উপজেলা পরিষদের চেয়ার-টেবিল ও মোটরসাইকেল ভাঙচুরসহ ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে।
ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার দুপুরে শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের অফিসারের কার্যালয় চত্ত্বরে।এতে ক্ষমতাসীন দলের শিবগঞ্জ পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আলীরাজ,মনাকষা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শামীম রেজা সহ ১০ জন নেতাকর্মী আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আহতরা শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. সামিল উদ্দিন আহম্মেদ শিমুল ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাকিব আল রাব্বির উপস্থিতিতে উপজেলা সমন্বয় কমিটির সভা চলাকালে মনাকষা ইউপি চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা শাহাদাৎ হোসেন খুররম এর সাথে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মো. গোলাম কিবরিয়ার এলাকার উন্নয়ন নিয়ে কথা বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়ে ।
একপর্যায়ে মনাকষা ইউপি চেয়ারম্যান শাহাদাৎ হোসেন খুররম সভা কক্ষ ত্যাগ করলে বেলা দুইটার দিকে ক্ষমতাসীন দলের কতিপয় কর্মী উপজেলা পরিষদের কিচেন রুমে হামলা চালিয়ে দরজা জানালা, চেয়ার-টেবিলসহ আসবাবপত্র ভাঙ্গচুর করে এবং দুপুরের খাবারের প্যাকেট নষ্ট করে দেয়। পরে উপজেলা চত্ত্বরে থাকা ৮-১০টি মোটরসাইকেল ভাঙচুরসহ মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শিউলী বেগমের অফিসের জানালার কাঁচ ভাঙ্গচুর করা হয়। এসময় ক্ষমতাসীন দলের দু’পক্ষ নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে এবং ধাওয়া পাল্টা ধাওয়াসহ ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে।
সংবাদ পেয়ে সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ ইকবাল হোছাইনের নেতৃত্বে শিবগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে ঘটনাস্থল থেকে সংসদ সদস্যসহ শিবগঞ্জ পৌরসভার মেয়র কারিবুল হক রাজিন কে নিরাপত্তা দিয়ে বাড়ি পৌছে দেন। এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ ইকবাল হোছাইনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ঘটনার পরপরই তিনিসহ শিবগঞ্জ থানার সকল ওসি ও পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
এতে করে কোন বড় ধরণের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি। স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা: সামিল উদ্দিন আহম্মেদ শিমুলের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন আমাদের দলের কোন ধরনের লবিং গ্রুপিং নেই। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আমার আপনজন তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পুলিশ প্রশাসনের সাথে আলাপ-আলোচনা করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
শিবগঞ্জ পৌরসভার মেয়র কারিবুল হক রাজিন বলেন, অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল ত্যাগ করার সময় শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে আমার ও স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা: সামিল উদ্দিন আহম্মেদ শিমুলের পথ গতিরোধ করে। এতে ছাত্রলীগের কতিপয় কর্মী দ্বারা আমি মারধরের শিকার হই।

Be the first to write a comment.

Leave a Reply