শিবপুরে শিশু শ্রেণীর ছাত্রীকে ধর্ষণ,পাঁচ লাখ টাকায় আপোষের চেষ্টা!

প্রকাশিত

নরসিংদী প্রতিনিধিঃ নরসিংদী জেলার শিবপুর উপজেলায় শিশু শ্রেণীর ছাত্রীকে ধর্ষণের এক চাঞ্চল্যকর সংবাদ পাওয়া গেছে।শনিবার সন্ধ্যায় এ ঘটনায় শিবপুর মডেল থানায় নারী শিশু নির্যাতন দমন আইনে শিশুটির মা বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন।গত বৃহস্পতিবার বিকেলে শিবপুর উপজেলার চক্রধা ইউনিয়নের বিলশরন গ্রামে এ চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে।এ ঘটনাটি স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি করিম মুন্সী ৫ লাখ টাকায় আপোস-মিমাংসার চেষ্টা করেছেন।কিন্তু শিশুটির পরিবার আপোসে রাজি না হয়ে থানায় মামলা করেন।ধর্ষণের শিকার শিশুটির পরিবারিক সূত্রে জানা যায, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে বাড়ির আঙিনায় আরো কয়েকটি শিশুর সঙ্গে খেলা করার সময় খাবার কিনে দেওয়ার কথা বলে পাশের বাড়ির ফজলু নামে ৬৫ বছর বয়স্ক এক প্রতিবেশী তাকে নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে দরজা জানালা বন্ধ করে দেয়।পরে শিশুটির মুখ চেপে ধরে ধর্ষণ করে।রক্তাক্ত অবস্থায় ছাড়া পেয়ে বাইরে আসে শিশুটি।কান্নাকাটি করতে করতে এই ঘটনা অপর শিশুদের জানালে,মানুষ খারাপ বলবে তাই কাউকে জানাতে নিষেধ করে অন্য শিশুরা।ওই দিনই বিকেলে তার মায়ের কাছে সব খুলে বলে শিশুটি।পরে শিশুটির মা গত বৃহস্পতিবার রাতেই নরসিংদী সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করেন।এই ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার রাতে অভিযোগ দিলেও শনিবার বিকেলে মামলা নিয়েছে শিবপুর মডেল থানা পুলিশ।নরসিংদী হাসপাতালের ধর্ষণের শিকার শিশুটিকে সরেজমিনে দেখতে গেলে তার মা বলেন,‘আমার স্বামী কাতার প্রবাসী।বাড়িতে আমার দুই মেয়েকে নিয়ে থাকি।আমার ছোট মেয়েটি শিশু শ্রেণিতে পড়ে।বৃহস্পতিবার স্কুল থেকে ফেরার পর তাকে দুপুরের খাবার খাওয়াই।এরপর বিকেল ৪টার দিকে দরকারী কাজে আমি এক প্রতিবেশির বাড়িতে যাই।এই সময় সে আরও কয়েকটি বাচ্চার সঙ্গে উঠানে খেলা করছিল।ফিরে এসে তাকে গোসল করাতে নিয়ে যাই।এসময় সে কান্নাকাটি শুরু করলে এর কারণ জানতে চাইলে ঘটনা খুলে বলে।এ সময় তার যৌনাঙ্গ দিয়ে রক্ত ঝরছিল।তখনই তাকে শিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে হাসপাতালের ডাক্তার আমাদের তাড়াতাড়ি নরসিংদী সদর হাসপাতালে ভর্তি করতে বলে।বৃহস্পতিবার রাতেই তাকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।তিনি আরো বলেন, ‘এই ঘটনার পর রাতেই শিবপুর থানায় অভিযোগ দেই।সেদিন রাতেই পুলিশ হাসপাতালে এসে দেখে গেলেও শনিবার বিকেল পর্যন্ত মামলা হিসেবে নেওয়া হয়নি।এদিকে ঘটনার পরদিন শুক্রবার আমার অনুপস্থিতিতে বিচার (শালিস দরবার) ডাকা হয়।বিচারে অভিযুক্ত ব্যক্তি তার দোষ স্বীকার করে নিলে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি করিম মুন্সী পাঁচ লাখ টাকায় মীমাংসা করে দেন।কিন্তু টাকা দিয়ে এই অন্যায়ের মিমাংসা হোক এটা আমি চাই না।আমি অপরাধীর শাস্তি চাই।আমি থানা পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছি বলে আমাকে ক্রমাগত হুমকি-ধমকি দিচ্ছে অভিযুক্ত ব্যক্তির ছেলেরা।মামলা উঠিয়ে নেওয়ার জন্যও চাপ দেওয়া হচ্ছে।নরসিংদী সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) সৈয়দ আমীরুল হক শামীম জানান, বৃহস্পতিবার রাতে মায়ের সঙ্গে শিশুটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এলে গুরুতর বিবেচনায় আমরা তাকে ভর্তি করে নিই।ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য সব তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়েছে।ভেজেইনাল সোয়াব মাইক্রোস্কোপিক পরীক্ষাও করা হয়েছে।খুব দ্রুতই ফলাফল হাতে চলে আসবে।এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চক্রধা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি করিম মুন্সী সাংবাদিকদের জানান, এসব নিয়ে লেখালেখির দরকার নাই।আমরা সমাধানের একটা চেষ্টা করেছিলাম কিন্তু সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারি নাই।তিনি এই বিষয়ে আর কিছু বলতে রাজী হননি।শিবপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল কালাম আজাদ এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন,পাঁচ বছরের একটি শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ আমরা পেয়েছিলাম।পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে যুক্তিযুক্ত মনে হওয়ায় সেটিকে মামলা হিসেবে নেওয়া হয়েছে।এ ঘটনায় অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে অভিযান চালানো হচ্ছে।এ ঘটনয় তীব্র নিন্দা ও হ্মোব প্রকাশ করেন নরসিংদীর সুশীল সমাজ।