শিশুদের বই থেকে সুচিকে বাদ দেওয়ার দাবি!

প্রকাশিত

শিশুদের জন্য লেখা একটি অনুপ্রেরণামূলক বই থেকে মিয়ানমারের নোবেলজয়ী নেত্রী অং সান সু চির বিষয়ে লেখা অধ্যায় বাদ দেওয়ার দাবি তুলেছেন অভিভাবকেরা। সম্প্রতি মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো নিপীড়ন এবং সে ক্ষেত্রে সু চির ভূমিকার পরিপ্রেক্ষিতে অভিভাবকেরা এ দাবি তুলেছেন।

গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, ওই বইটির নাম ‘গুড নাইট স্টোরিজ ফর রেবেল গার্লস’। ২০১৭ সালে প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রে ও পরে যুক্তরাজ্যে বইটি প্রকাশ করা হয়। শিশুদের রোলমডেল হতে পারে—এমন নারী ব্যক্তিত্বদের নিয়ে বইটি রচনা করা হয়েছে। বইয়ে অ্যামেলিয়া ইয়ারহার্ট, মেরি কুরি, হিলারি ক্লিনটন, সেরেনা উইলিয়ামস প্রমুখ সফল নারী ব্যক্তিত্বকে নিয়ে প্রবন্ধ লেখা হয়েছে। সেভাবেই এসেছিল অং সান সু চির প্রসঙ্গ। কিন্তু অভিভাবকেরা এখন আপত্তি জানিয়ে বলছেন, শিশুদের বই থেকে সু চির প্রসঙ্গ বাদ দিতে হবে।

মোট ১০০ জন নারীকে নিয়ে বইটি লেখা হয়েছে। গত বছর যখন ‘গুড নাইট স্টোরিজ ফর রেবেল গার্লস’ গ্রন্থনা করা হয়, তখন লেখকদের কাছে সু চি ছিলেন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। কিন্তু এ বছরের আগস্টে মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর চালানো নিপীড়নের পরিপ্রেক্ষিতে সু চির প্রতি বিশ্ববাসীর দৃষ্টিভঙ্গি এখন বদলে গেছে। জাতিসংঘ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর চালানো নির্যাতনকে ‘জাতিগত নির্মূলের প্রকৃষ্ট উদাহরণ’ বলে অভিহিত করেছে।

মূলত ছয় বছর ও তার বেশি বয়সী শিশুদের জন্য বইটি তৈরি করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বইটির পেজে অভিভাবকেরা সু চির ব্যাপারে আপত্তির কথা জানিয়েছেন। ফেসবুক পেজে লেনকা উজাকোভা নামের এক অভিভাবক লিখেছেন, ‘এই বইয়ের ৯৯ শতাংশই অনুপ্রেরণাদায়ী। কিন্তু গণহত্যার দায়ে অভিযুক্ত একজনের বিষয়ে পড়া বিরক্তিকর। এসব নারী ব্যক্তিত্বের মধ্যে অং সান সু চি স্থান পেতে পারেন না। এই বইয়ে তাঁর বিষয়ে কিছু থাকায় আমি অবাক হয়েছি।’

আরেক অভিভাবক গেরি পিভ লিখেছেন, ‘আমার তিন বছরের মেয়ের জন্য বইটি কিনেছিলাম। কিন্তু অং সান সু চিকে দেখে আমি আঁতকে উঠি। আমি আশা করি, প্রকাশকেরা এ বিষয়টি মাথায় নিয়ে প্রয়োজনীয় সম্পাদনা করবেন এবং আরেকটি সংস্করণ বের করবেন।’

‘গুড নাইট স্টোরিজ ফর রেবেল গার্লস’ এ বছরের ব্যবসাসফল বইগুলোর অন্যতম। এদিকে এমন বিরূপ প্রতিক্রিয়ার পরিপ্রেক্ষিতে বইটির লেখকেরা এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘আমরা বর্তমান পরিস্থিতি সূক্ষ্মভাবে পর্যালোচনা করছি। পরবর্তী সংস্করণ থেকে তাঁকে বাদ দেওয়ার চিন্তাও আমরা বাদ দিইনি।’

চলতি বছরের নির্যাতনের ঘটনায় ২৫ আগস্ট থেকে সাড়ে ছয় লাখের বেশি রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে চলে আসে। সেই পালিয়ে আসা এখনো অব্যাহত আছে। অবশ্য মিয়ানমারের সরকার বরাবরই নিপীড়নের অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে। তারা বলছে, রোহিঙ্গা জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে সরকার এবং বেসামরিক মানুষের ওপর কোনো নিপীড়ন চালানো হচ্ছে না।