শিশু ও ঘরবন্ধী মানুষদের ঘরে ঘরে শিশুস্বর্গের ঈদ উপহার

প্রকাশিত

তেঁতুলিয়া (পঞ্চগড়) প্রতিনিধিঃ বিশ্বব্যাপী মহামারী করোনা ভাইরাসের পাদুর্ভাব থেকে বাদ পড়েনি বাংলাদেশও। করোনা মোকাবেলায় ২৬ মার্চ হতে টানা প্রায় দুই মাস জুড়ে চলছে লকডাউন। এই টানা লকডাউনে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখায় বন্ধ করে দেয়া হয়েছে কর্মসংস্থান, হাটবাজারের দোকান-পাট ও হোটেল-রেস্তোরা। কর্মসংস্থান বন্ধ থাকায় দেড় মাসের বেশি সময় ধরে ঘরবন্ধী নি¤œ ও মধ্যবিত্তসহ অসহায় মানুষরা যখন খাদ্য সংকটে, ঠিক তখন শুরু থেকেই দেশের শীর্ষ বিদ্যাপীঠ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের গড়া স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান শিশুস্বর্গ এগিয়ে এসেছে সীমান্তের অসহায় মানুষদের ঘরে খাদ্য উপহার নিয়ে। এ পর্যন্ত তিন হাজারেরও বেশি পরিবারের ঘরে পৌছে দিয়েছেন খাদ্য সামগ্রী উপহার।

এদিকে প্রতিবছর দুটি ঈদ উৎসবে দেশের উত্তর সীমান্তবর্তী জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার সুবিধা সীমান্তের বঞ্চিত কমলমতি শিশুদের ঈদের খুশি ছড়িয়ে দিতে উপহার দেয়া হয় ঈদের নতুন জামা। এ বছর মহামারী করোনা প্রকোপের কারণে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে কমলমতি শিশুদের ঈদবস্ত্র না দিয়ে পৌছে দিচ্ছেন ঈদের খাদ্য সামগ্রী। আর বিশেষ ঈদ উপহার দিয়েছেন উপজেলার কর্মরত সাংবাদিকদেরও। এমনই জানালেন শিশুস্বর্গের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক কবীর আকন্দ।

কবীর আকন্দ বলেন, বিশ্ব জুড়ে ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতি করোনা প্রকোপে লকডাউনের পুরো সময়জুড়ে ইতিমধ্যে শিশুস্বর্গের ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আমরা ৩০৮৬ টি পরিবারকে খাদ্য সামগ্রী উপহার দিতে পেরেছি। সামনে ঈদুল ফিতর। করোনায় স্থবির পরিস্থিতি। এ পরিস্থিতিতে আমাদের সাধ্যমত ৫শতাধিকেরও বেশি পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার হিসেবে পৌছে দিব চাল, ডাল, তেল, আলু, সেমাই, দুধ ও চিনি সবকিছু মিলিয়ে ঈদ প্যাকেজ। তিনদিন ধরে স্বেচ্ছাসেবীদের মাধ্যমে পৌছে দেয়া হচ্ছে এসব ঈদ উপহারের খাদ্য সামগ্রী। চলবে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত।

প্রসঙ্গত, দেশের অন্যতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের দ্বারা পরিচালিত এ প্রতিষ্ঠানটি ২০১০ সাল হতে জন্মলগ্ন হতে অসহায় গরীব মেধাবী শিশুদের মাঝে শীতবস্ত্র, ঈদবস্ত্র, শিক্ষা উপকরণ, উপবৃত্তি বিতরণ করে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিয়েছে। এ প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৩৪ জন হতদরিদ্র পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। অনেকে অধ্যয়ন শেষ করে সরকারী-বেসরকারি প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানে কর্মজীবনে প্রবেশ করেছে। এছাড়া এলাকার স্বল্প শিক্ষিত কিশোর-তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহযোগিতা করে আসছেন। বাদ যায়নি পিছিয়ে পড়া নারীরাও। তাদেরকেও প্রতিষ্ঠান কর্তৃক পরিচালিত সমিতির মাধ্যমে নারীদের মাঝে গাভী দিয়ে আত্মনির্ভরশীল স্বাবলম্বী করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে শিশুদের উন্নত শিক্ষার জন্য শিশুস্বর্গ বিদ্যা নিকেতন নামের স্কুল চালু করা হয়েছে। স্বাস্থ্য সেবা প্রদানের লক্ষ্যে শিশু হাসপাতাল ও নির্মানেরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নির্মাণ করা হচ্ছে শিশু আশ্রম।