শিশু বলাৎকারের ঘটনা ৬ হাজার টাকায় মীমাংসা!

প্রকাশিত

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল-

বরিশালের মুলাদী উপজেলার চরকালেখান ইউনিয়নের বড়কান্দি গ্রামে কলা পাতা কাটার অজুহাতে চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রকে (১২) ডেকে বাগানে নিয়ে বলাৎকারের অভিযোগ উঠেছে।

গত বুধবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। তবে পরদিন বৃহস্পতিবার স্থানীয় প্রভাবশালীরা অভিযুক্ত জলিল হাওলাদারকে (৫৫) বলাৎকারের শাস্তি হিসেবে ৬ হাজার টাকা জরিমানা করেন। এ বিষয়ে কোন ধরনের বাড়াবাড়ি না করার জন্য ওই শিশুর পরিবারকে শাসিয়ে দেয় তারা। বাধ্য হয়েই শালিস মেনে নিতে হয়েছে বলে জানিয়েছে শিশুটির পরিবার।

অভিযুক্ত জলিল হাওলাদার চরকালেখান ইউনিয়নের বড়কান্দি মৃত আব্দুর রহিম হাওলাদারের ছেলে। তিনি আওয়ামী লীগ কর্মী এবং তার এক ছেলে ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেতা বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

ওই শিশুর মা জানান, গত বুধবার দুপুরে প্রতিবেশী জলিল হাওলাদার কলা গাছের পাতা কাটার কথা বলে তার ছেলেকে ডেকে নেয়। পরে বাগানে নিয়ে তার ছেলেকে মুখ চেপে জোরপূর্বক বলাৎকার করে জলিল। ছেলে চিৎকার দিলে তার দাদি সেখানে ছুটে যায়। এসময় জলিল হাওলাদার পালিয়ে যান। পরে স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দিয়ে বিষয়টি জানায়।

এ ঘটনায় থানার এএসআই বাদল হোসেন তার ছেলেকে উদ্ধার করে বুধবার সন্ধ্যায় মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। কর্তব্যরত চিকিৎসক তার ছেলেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

বৃহস্পতিবার বিকেলে এক শালিস বৈঠকের আয়োজন করে স্থানীয় কথিত গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। বৈঠকে জলিল হাওলাদারকে শালিসদারদের কাছে ক্ষমা চাওয়ানো হয়। এসময় শালিসদাররা তাকে ৬ হাজার টাকা জরিমানা করেন। জরিমানার ৬ হাজার টাকা তাৎক্ষণিক ওই শিশুর পরিবারের হাতে তুলে দেয় হয়।

তবে শালিসের বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে দাবি করেছেন মুলাদী থানার ওসি এসএম মাকসুদুর রহমান। এ বিষয়ে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেন তিনি।