শেষ কথাটাও বলতে পারল না সাবিকুন তার বাবার সাথে

প্রকাশিত

ত্রিশাল প্রতিনিধি :  বারবার বেহুশ হয়ে পড়ছে সাবিকুন। কিছুক্ষণ পর পর জ্ঞান ফিরতেই শুরু হয় বিলাপ। কেন সে দু’দিনের জন্য নানারবাড়ি বেড়াতে গিয়েছিল। বাড়িতে থাকলে তো বাবার শেষ কথা আর শেষ হাসিটা দেখতে পেতো সে। এখন কে দেখবে তাদের। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম বাবাকে হারিয়ে পাগল প্রায় সাবিকুনের আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠে চারপাশ।

বৃহস্পতিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে প্রাণ হারান ময়মনসিংহের ত্রিশালের রামপুর ইউনিয়নের কাকচর গ্রামের কৃষক হেদায়াতুল ইসলাম ওরফে গেদু মিয়া (৪৫), আহত হন তার একমাত্র ছেলে কাউসার আহমেদ (১৬)। মাদরাসা কর্তৃপক্ষের খামখেয়ালীপনার কারনেই ওই দুর্ঘটনার ঘটেছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।

স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে ছেলে কাউসার আহমেদকে নিয়ে ক্ষেতে মই দিতে (চাষ করতে) যান কৃষক হেদায়াতুল ইসলাম ওরফে গেদু মিয়া। মই দিতে দিতে হঠাৎ বাবা-ছেলে দু’জনই জড়িয়ে যান মাটিতে পড়ে থাকা বিদ্যুতের তারে। এ সময় ট্রাক্টর চালক মজিবর রহমান টের পেয়ে আশপাশের লোকজনকে ডাকতে থাকেন। তার ডাকে ছুটে আসেন অনেকেই। কিন্তু ওই বিদ্যুতের তারের মূল খুঁটি ছিল অনেক দূরে। প্রাথমিক ব্যবস্থা হিসেবে গেদু মিয়া ও কাউসারকে শুকনো বাঁশের সাহায্যে তার সরিয়ে বাঁচানোর চেষ্টা করে।

পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাদেরকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করে। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর সেখানে চিকিৎসক হেদায়াতুল ইসলাম ওরফে গেদু মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসাধীন রয়েছেন কাউসার আহমেদ।

গত কয়েক মাস ধরেই বড়মা-কাকচর ফাজিল মাদরাসার বিদ্যুতের তারের বাশেঁর একটি খুঁটি ভেঙে মাটিতে তার পড়েছিল। স্থানীয়রা বহুবার নতুন খুঁটি স্থাপনের জন্য বলার পরও কোন ব্যবস্থা নেননি মাদরাসার অধ্যক্ষ কিংবা কর্তৃপক্ষ। তবে কৃষক গেদু মিয়া ও তার ছেলেকে হাসপাতালে নেয়ার পর অধ্যক্ষ তোফাজ্জল হোসেনের নির্দেশে নতুন খুঁটি স্থাপন করেন কর্মচারি নূরুল ইসলাম ও আবদুল বাতেন।

মাদরাসা কর্তৃপক্ষের খামখেয়ালীপনার কারনেই ওই দুর্ঘটনার ঘটেছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। এ ব্যাপারে ত্রিশাল থানায় কোন অভিযোগ বা মামলা হয়নি বলে জানান ওসি (তদন্ত) ফায়েজুর রহমান।

বৃহস্পতিবার বিকেলে গেদু মিয়ার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তার স্ত্রী হালিমা বেগম, বড় মেয়ে সাবিকুন নাহার ও স্বজনদের আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠেছে চারপাশ। বাবার সঙ্গে শেষ কথা বলতে না পারার যন্ত্রণায় বার বার বেহুশ হয়ে পড়ছে সাবিকুন।

স্থানীয় আবদুল হাকিম, আবদুল জব্বার, হৃদয় আহমেদ জানান- গত কয়েক মাস ধরে বড়মা-কাকচর ফাজিল মাদরাসার বিদ্যুতের তারের বাশেঁর একটি খুঁটি ভেঙে তার মাটিতে পড়ে থাকতে দেখে আমরা বহুবার নতুন খুঁটি স্থাপনের জন্য বললেও কোন ব্যবস্থা নেননি মাদরাসার অধ্যক্ষ তোফাজ্জল হোসেন। ব্যবস্থা নেয়নি ম্যানেজিং কমিটির কেউ।

এ বিষয়ে জানতে অধ্যক্ষ তোফাজ্জল হোসেনকে মাদরাসায় না পেয়ে মুঠোফোনেও তার সঙ্গে যোগাগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।