সংরক্ষণের অভাবে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে জগন্নাথপুরের পাইলগাঁও’র জমিদার বাড়ি

প্রকাশিত

গোলাম সারোয়ার, জগন্নাথপুর থেকে:-
অযত্ন, অবহেলা আর সংরক্ষণের অভাবে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার পাইলগাঁও জমিদার বাড়িটি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। যুগ যুগ ধরে প্রাচীন পুরার্কীতির অন্যতন নির্দশন এই জমিদার বাড়িটি অমূূল্য প্রতœসম্পদ হিসেবে বিবেচিত হয়। কিন্তু সংরক্ষণের অভাবে বাড়িটি তার জৌলুস হারাতে বসেছে।


পাইলগাঁও জমিদার বাড়ি ঘুরে ও এলাকাবাসীর সাথে আলাপ করে জানা গেছে, এ জমিদার পরিবারের প্রধান কর্তা জমিদার ব্রজেন্দ্র নারায়ন চৌধুরী ছিলেন একজন প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ও রাজনীতিবিদ। তিনি ছিলেন সিলেট বিভাগীয় কংগ্রেসের সভাপতি এবং আসাম আইন পরিষদের সদস্য। এছাড়াও সিলেট সরকারী মহিলা কলেজ তাদের দান করা ভুমির উপর প্রতিষ্ঠিত। তিনি সেই কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন। তাঁর ভাই সুখময় চৌধুরী ছিলেন ব্রিটিশ ভারতের অনারারী ম্যাজিষ্ট্রেট। তিনি ১৯১৯ সালে পাইলগাঁও গ্রামে সর্বপ্রথম জগন্নাথপুর উপজেলার মাধ্যমিক বিদ্যাপীঠ তাঁর পিতা ব্রজেন্দ্র নারায়ন চৌধুরীর নামে প্রতিষ্ঠা করেন। এরকম অসংখ্য প্রতিষ্ঠান তাঁদের কর্মযঞ্জের নির্দশন হিসেবে সিলেট বিভাগে কালের স্বাক্ষী হয়ে রয়েছে।
জমিদারবাড়ি ঘুরে দেখা গেছে, এক সময়ের নয়নাভিরাম এই বাড়িটিতে রয়েছে দু’টি বিশাল দিঘী, রয়েছে একটি সুন্দর কাচারী ঘর যেখানে জমিদার আমলের প্রজাদের বিভিন্ন বিচারকার্য্য সম্পন্ন হতো। রয়েছে একটি কারাগার, যেখানে সাজাপ্রাপ্ত কয়েদিদের রাখা হতো। রয়েছে একটি সুরম্য অট্টালিকা যেখানে জমিদার পরিবারের লোকজন বসবাস করতেন। আরো রয়েছে কয়েকটি মন্দির যা দোলবেদি, ভোগ মন্দির, বিষ্ণু মন্দিরসহ নানা নামে পরিচিত, রয়েছে সান বাঁধানো ঘাট। দেশ ভাগের পর জমিদার বাড়ির উত্তরাধিকারীরা বাড়িঘর অরক্ষিত রেখে ভারত পাড়ি জমান। প্রায় সাড়ে ৫ একর ভুমির উপর প্রতিষ্ঠিত এ অঞ্চলের ইতিহাস ঐতিহ্যের নির্দশন এই জমিদার বাড়িটি প্রয়োজনীয় সংস্কার ও সংরক্ষণের অভাবে তার জৌলুস হারিয়ে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান সংরক্ষণের অভাবে বাড়িটি তার জৌলুস হারাতে বসেছে। তারপরও প্রাচীন প্রতœতত্ত্বের নির্দশন এই বাড়িটি দেখতে প্রতিদিন দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে লোকজন আসেন। আমরা স্থানীয় প্রশাসনের নিকট দাবি জানাচ্ছি দ্রুত বাড়িটি সংস্কার করে দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হোক। স্থানীয়রা আরো জানান জগন্নাথপুরে এখনও গড়ে উঠেনি কোন পর্যটন এলাকা। এই জমিদার বাড়িটি যদি সংস্কার করে রক্ষণাবেক্ষণ করা হয় তাহলে পর্যটকের আগমন ঘটত।