সরকার গঠন করতে ‘উই আর রেডি’ : এরশাদ

প্রকাশিত

আগামী নির্বাচনে জয়ী হয়ে জাতীয় পার্টি (জাপা) সরকার গঠন করবে। দলটি আবারও জেগে উঠেছে। জনগণ জাতীয় পার্টিকে ক্ষমতায় দেখতে চায়। ‘উই আর রেডি’। আগামী নির্বাচনে জয়ী হয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করবো বলে জানিয়েছেন দলের চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ।

শনিবার (২৪ মার্চ) দুপুরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় পার্টির (জাপা) নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত জাতীয় জোটের মহাসমাবেশে তিনি একথা বলেন।

তিনি বলেন, আমরা ২০-২৫ বছর ক্ষমতায় ছিলাম না। জনগণ কী পেয়েছে? দুই জন দেশকে কী দিয়েছে? আমরা আগামী নির্বাচনে জয়ী হয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করবো। নির্বাচনের জন্য আমরা সম্পর্ণরুপে প্রস্তুত আছি। আমরা ক্ষমতায় গেছে মানুষ নিরাপত্তা পাবে। দেশের মানুষ শান্তিতে ঘুমাতে পারবে।

আমাদের এই মহাসমাবেশে যত লোক হয়েছে, তাতে প্রমাণ হয় যে, জাতীয় পার্টির সমর্থন এখনো অনেক বেশি। ঢাকা শহর জাতীয় পার্টি সমর্থকদের ভিড়ে অবরুদ্ধ। মানুষ চলাচল করতে পারছে না। আমরা প্রমাণ করেছি জাতীয় পার্টি আছে।

ঢাকার বাইরে যান তাহলেই বুঝবেন দেশ কতটা উন্নয়নশীল হয়েছে উল্লেখ করে এরশাদ বলেন, দেশে কারও জীবনের নিরাপত্তা নেই। সবাই আতঙ্কের মধ্যে দিনযাপন করছে।

এ সময় সমাবেশ প্রসঙ্গে এরশাদ বলেন, বাধা দেওয়া হচ্ছে। ঢাকা শহর আজ অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। সব রাস্তা বন্ধ। মানুষ চলাচল করতে পারছে না। এতেই প্রমাণিত হয়েছে জাপা আছে জাপা আগামীতে থাকবে।

এর আগে পার্টির কো-চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় নেত্রী রওশন এরশাদ বলেন, আগামীতে জাতীয় পার্টি কারও ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার হবে না। আমরাই সরকার গঠন করবো।

রওশন এরশাদ বলেন, আজকে জনগণ পরিবর্তন চায়, শান্তি চায়। বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা এনে দিয়েছিলেন। আর এরশাদ সেই স্বাধীনতার স্বাদ দিয়েছেন। আমরা ক্ষমতায় গেলে জনগণের ভাগ্যোন্নয়নের জন্য কাজ করবো।

তিনি বলেন, আর আগামীতে জাতীয় পার্টি কারও ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি হবে না। আমরাই সরকার গঠন করবো।

শনিবার দুপুর সোয়া ১২টায় মহাসমাবেশে এরশাদ বক্তব্য রাখা শুরু করেন, সাড়ে ১২টায় তিনি বক্তব্য শেষ করেন। লিখিত বক্তব্যে এরশাদ ১৮ দফা পেশ করেন এবং ২৮টি বার্তা দেন।

শনিবার সকাল থেকেই জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে আসতে শুরু করে। ঢোল-তবলা, ব্যানারসহ ব্যাপক উৎসাহে তাদের সমাবেশে যোগ দিতে দেখা যায়। সমাবেশ সঞ্চালনা করেন জাপা’র ঢাকা উত্তর শাখা প্রেসিডেন্ট ফয়সাল চিশতি। মঞ্চে অন্যদের মধ্যে ছিলেন- বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ, জাপা’র কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের, সেক্রেটারি রুহুল আমিন হাওলাদার, প্রেসিডিয়াম সদস্য জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। সম্মিলিত ইসলামি জোটের নেতাদেরও মঞ্চে দেখা যায়।