সরকার সংলাপে বসতে বাধ্য হবে: মওদুদ

প্রকাশিত

সিক্স প্রতিবেদক: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, ‘সরকার বিএনপির সঙ্গে সংলাপে বসতে বাধ্য হবে।’

সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন মওদুদ আহমদ। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ওই আলোচনাসভার আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী তরুণ দল।

মওদুদ আহমদ বলেন, ‘শোনা যাচ্ছে বিনা শর্তে সংলাপ হতে পারে, ফোনে সংলাপ হতে পারে, অনানুষ্ঠানিক সংলাপ হতে পারে। আবার শোনা যাচ্ছে বিএনপির সঙ্গে কোনো সংলাপই হবে না। তবে সরকারের পক্ষ থেকে যাই বলা হোক না কেন- আর মাত্র ২-৩ মাস সময় আছে। এর মধ্যে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে, সরকার বিএনপির সঙ্গে সংলাপে বসতে বাধ্য হবে।’

মওদুদ বলেন, ‘নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে। সংসদ ভেঙে দিতে হবে। ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিয়ে সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে। নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করতে হবে।’

বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, ‘আমরা জাতীয় ঐক্যমঞ্চ তৈরি করার চেষ্টা করছি। এই লক্ষ্যে সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা চলছে। আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই সরকারকে উৎখাত করব। তা না হলে আগামী প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না।’

মওদুদ আহমদ বলেন, ‘প্রায় ১০ বছর হতে চলল অরাজক সরকারের। বিনা ভোটে নির্বাচিত হওয়ায় জনগণের কাছে কোনো দায়বদ্ধতা তাদের ছিল না। তার অনেক উদাহরণ রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে রিজার্ভ হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে উধাও হয়ে গেল। সোনা তামা হয়ে গেল, পাথর ও কয়লা গায়েব হয়ে গেল। অথচ এসব ঘটনায় একজনও গ্রেফতার করা হলো না। সর্বশেষ মার্কিন রাষ্ট্রদূতের ওপর হামলা হলো, তাতেও কেউ গ্রেফতার হলো না। এর দুটো কারণ থাকতে পারে। এক, এরা সরকারের মদদপুষ্ট মানুষ। দুই, দুপক্ষের জন্য দুই আইন। নিজেদের বেলায় প্রয়োগ হবে না। বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের জন্য প্রয়োগ হবে।’

বিএনপির এই নীতিনির্ধারক বলেন, ‘সদ্য সমাপ্ত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নতুন করে প্রমাণিত হলো- এই সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অধীনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে পারে না। সেখানে সবকিছু করেছে পুলিশ আর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তাদের অবস্থা দেখলে দেশে কোনো সরকার আছে বলে মনে হয় না।’

সংগঠনের সভাপতি ডা. মো. আবু বকর সিদ্দিকের সভাপতিত্বে ও দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপনের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা তৈমুর আলম খন্দকার, আব্দুস সালাম, বাংলাদেশের লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জিনাফের সভাপতি লায়ন মিয়া মোহাম্মাদ আনোয়ার ও শাহবাগ থানা কৃষকদলের সভাপতি এম জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।