সাদুল্যাপুরে স্কুলছাত্রীকে গণ ধর্ষণ

প্রকাশিত

গাইবান্ধা: গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার নলডাঙ্গা এলাকায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন গ্রেফতার তিন জন। শনিবার সন্ধ্যার দিকে গাইবান্ধা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তারা জবানবন্দি দেন। আদালতের বিচারক রমেশ কুমার দাগা তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

জবানবন্দি দেওয়া তিন জন হলেন- নলডাঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামী যুবলীগের আহ্বায়ক দুদু মিয়ার ছেলে সোহাগ মিয়া (২২), নলডাঙ্গা ইউনিয়নের কিশামত হামিদ গ্রামের মাহফুজার রহমানের ছেলে বাবু মিয়া (২১) ও একই ইউনিয়নের পশ্চিম খামার দশলিয়া গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে শরিফুল ইসলাম (২২)।

শুক্রবার বিকালে নলডাঙ্গা সরকারি খাদ্য গুদাম এলাকায় মেয়েটি ধর্ষণের শিকার হয়। শনিবার সকালে তার চাচা বাদি হয়ে পাঁচজনকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, শুক্রবার বিকালে মেয়েটি বাড়ি থেকে তার মায়ের সঙ্গে কাপড় কিনতে নলডাঙ্গা বাজারে যায়। ফেরার পথে মা তার বাবার বাড়ি গেলে মেয়েটি হেঁটে একাই বাড়ি ফিরছিল।

পথে নলডাঙ্গা সরকারি খাদ্য গুদাম এলাকায় পৌঁছালে সোহাগ তার পথরোধ করে। এরপর সোহাগসহ তার সহযোগী শরিফুল, বাবু, রুবেল ও খুশু ওড়না দিয়ে মেয়েটির মুখ বেঁধে পাশের আখ ক্ষেতে নিয়ে দলবেঁধে ধর্ষণ করে।

পরে মেয়েটির চিৎকারে আশপাশের লোকজন গিয়ে তাকে উদ্ধার এবং ঘটনাস্থল থেকে শরিফুল ও বাবুকে আটক করে। পরে নলডাঙ্গা রেলগেট এলাকার একটি দোকান থেকে সোহাগকে আটক করে পুলিশে হস্তান্তর করে এলাকাবাসী।

সাদুল্যাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বোরহান উদ্দিন বলেন, মেয়েটির চাচার দায়ের করা মামলায় ওই তিন যুবককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে শনিবার বিকালে গাইবান্ধা আদালতে পাঠানো হয়। এরপর আদালতে তারা দলবেঁধে ধর্ষণের কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়। এছাড়া পলাতক দুই আসামি রুবেল ও খুশু মিয়াও ধর্ষণ করেছে বলে আটকরা বলেছে।

তিনি বলেন, জবানবন্দি শেষে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। বর্তমানে তারা তিনজনেই গাইবান্ধা জেলা কারাগারে রয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চালাচ্ছে।

Be the first to write a comment.

Leave a Reply