সাশ্রয়ী ভেন্টিলেটর উদ্ভাবন করলেন ইউজিবি উপাচার্য

প্রকাশিত

কভিড-১৯ ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের শ্বাসতন্ত্রের ফুসফুসকে নষ্ট করে দেয়। ফলে, আক্রান্ত হওয়ার পরেই রোগীদের প্রচন্ড শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। শ্বাসকষ্ট তাঁদের মৃত্যুর কারণও হয়ে ওঠে। তাই কৃত্রিমভাবে শ্বাসপ্রক্রিয়া চালু রেখে রোগীকে বাঁচিয়ে রাখতে চিকিৎসকরা ভেন্টিলেটর ব্যবহার করেন। দেশে ও বিদেশে করোনার প্রকোপে ভেন্টিলেটর এর অভাবে বহু লোক চিকিৎসা না পেয়ে মারা যায় ঘটনা অহরহই ঘটছে। রোগীদের অপমৃত্যু রুখতে এবং ভেন্টিলেটরের অভাব দূর করার জন্য এবার শ্বাসযন্ত্র প্রযুক্তি (ভেন্টিলেটর) উদ্ভাবন করলেন বরিশালের বেসরকারি একটি বিশ্ববিদ্যালয়।

ইউনিভার্সিটি অব গ্লোবাল ভিলেজ (ইউজিবি) ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সৈয়দ আলী মোল্লা পূর্বের রোবট তৈরির অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এই যন্ত্রটি তৈরি করেছেন। বিদেশি যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে দেশীয় প্রযুক্তিতে এটি বানানো হয়েছে। সেটি এখন পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। বাংলাদেশ মেডিক্যাল রিসার্স কাউন্সিলের (বিএমআরসি) অনুমোদন মিললেই, করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য দেশের বিভিন্নপ্রান্তে তা পাঠানো হবে।

জানা যায়, বিদেশ থেকে আসা ভেন্টিলেটর কিনতে যেখানে ৩ লাখ ৪২ হাজার থেকে ১০ লাখ টাকা খরচ করতে হয়, ঘরোয়া প্রযুক্তিতে তৈরি এই ভেন্টিলেটর মাত্র ৬০ হাজার থেকে ৭০ হাজার টাকাতেই পাওয়া যাবে। তবে অন্য ভেন্টিলেটরের মত এই ভেন্টিলেটর অনেক বেশি স্বয়ংক্রিয়, যাতে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখেই ভেন্টিলেটরটি নিয়ন্ত্রণ করা যায়। করোনা রোগীর সংস্পর্শে এসে চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা যাতে সংক্রমিত না হন, তার জন্যই এমন ব্যবস্থা করা হয়েছে। এমনকি কোনো কারণে ভেন্টিলেটর যদি বন্ধ হয়ে যায়, তিনি ক্ষেত্রে অ্যালার্মের ব্যবস্থাও রয়েছে। এমনকি অক্সিজেনের অভাবে রোগী যাতে না মারা যায় তার ব্যবস্থা আছে। তাছাড়া বিদেশ থেকে আমদানি করা মেশিনের মতই এই মেশিন শ্বাসকষ্ট সমস্যার রোগীদের জন্য কাজ করবে। যেটি করোনাকালে দেশে খুবই প্রয়োজন।

করোনা মহামারির সময়ে পুরো বিশ্বজুড়ে ভেন্টিলেটর মেশিনের ব্যবহার ও চাহিদা বেড়ে গেছে। বাংলাদেশে প্রতি সাড়ে তিন লাখ মানুষের জন্য একটি মাত্র ভেন্টিলেটর মেশিন রয়েছে যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই নগণ্য। পক্ষান্তরে ভারত ও পাকিস্তানে প্রতি বিশ হাজার মানুষের জন্য একটি মাত্র ভেন্টিলেটর মেশিন রয়েছে। এ তুলনায় বাংলাদেশে ভেন্টিলেটরের অনেক অভাব রয়েছে। তাছাড়া করোনাকালে বিদেশ থেকে আমদানি ব্যয়ও অনেক।

বিজ্ঞানী সৈয়দ আলী মোল্লা দাবী করে বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে আমাদের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি করলে অনেক কম খরচে দেশীয় প্রস্তুতকারকরা ভেন্টিলেটর বানাতে পারবেন। কারণ আমরা যে প্রযুক্তিতে ভেন্টিলেটরের এই উপাদানগুলো বানাচ্ছি, তার খরচ সামান্য। আর যদি তা বাংলাদেশ মেডিক্যাল রিসার্স কাউন্সিলের (বিএমআরসি) স্বীকৃতি পায়।

সৈয়দ আলী মোল্লা আরো বলেন, ভেন্টিলেটরের মধ্যে থাকে সেন্সর ও অ্যাকচুয়েটর। রোগীদের দেওয়ার আগে চিকিৎসকেরা এদের মাধ্যমেই বায়ু ও অক্সিজেনের চাপ এবং আয়তন মেপে নেন। ভেন্টিলেটরে বায়ু ও অক্সিজেনকে মজুত রাখা এবং তাদের চাপ ও আয়তনকে কাঙ্খিত মাত্রায় রাখা হয় যাতে করে অতিরিক্ত বায়ু রোগীদের জন্য বিপদজনক না হয়।

স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতির ভেন্টিলেটরের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বিজ্ঞানী সৈয়দ আলী মোল্লা বলেন, রোগীদের ‘পজিটিভ প্রেসার সহ ইনভেসিভ (ওহাধংরাব) ভেন্টিলেশন’-এর তৈরি ব্যবস্থা করা হয়েছে। যা সরাসরি রোগীর ফুসফুসের মধ্যে অক্সিজেন সরবরাহ করে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজ চেয়ারম্যান ড. মো. ইমরান চৌধুরী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে তারা নতুন নতুন উদ্ভাবনের দিকে ছুটছেন। প্রফেসর ডা. মো. সৈয়দ আলী মোল্লার একান্ত প্রচেষ্টা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় ও উদ্যোগে ভেন্টিলেটর স্বল্প মূল্যে উৎপাদন করা যাবে। সরকারি অনুমোদনের জন্য বাংলাদেশ মেডিক্যাল রিসার্স কাউন্সিলে (বিএমআরসি) আবেদন করবেন। অনুমোদন পেলেই প্রতিটি ভেন্টিলেটর তৈরিতে সর্বোচ্চ ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা খরচ পড়বে।