সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় কৃষককে মোবাইলে হত্যার হুমকি

প্রকাশিত

মোঃ ইমাম হোসেন ,বিশেষ প্রতিনিধি:সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় কৃষকের ফসলী জমির মাটি কাটার কাজে বাধা দেওয়ায় গৌতম চন্দ্র সরকার নামে এক কৃষককে মোবাইল ফোনে গুলি করে হত্যার হুমকি দিয়েছেন বলে প্রকল্প কমিটির সভাপতির ছেলে দেবাশীষ তালুকদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সোমবার বিকেলে উপজেলার জয়শ্রী গ্রামের বাসিন্দা ও হুমকির ভয়ে আতংকিত কৃষক গৌতম চন্দ্র সরকার বাদি হয়ে উপজেলার চন্দ্র সোনারথাল নামক হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ মেরামত কাজে স্থানীয়ভাবে গঠিত ৩০ নম্বর প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি (পিআইসি) দীপক রঞ্জন তালুকদার ও তার ছেলে দেবাশীষ তালুকদারকে আসামি করে এ ব্যাপারে ধর্মপাশা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগে জানা গেছে, উপজেলার চন্দ্র সোনারথাল ফসলরক্ষা বাঁধ মেরামত কাজে পাউবো’র অধীনে স্থানীয়ভাবে গঠিত ৩০ নম্বর প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি করা হয় জয়শ্রী বাজারের ওষুধ ব্যবসায়ী দিপক রঞ্জন তালুকদারকে। উক্ত প্রকল্প কমিটির বিপরীতে ১১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা বরাদ্ধ দেয় পাউবো। অপর দিকে একই বাঁধের ৩৬ নম্বর প্রকল্পের সভাপতি করা হয় জয়শ্রী গ্রামের মিহির রঞ্জন তালুকদারকে। আর পাউবো তার এ প্রকল্পের বিপরীতে আরো ১৭ লাখ ৩৪ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়। নীতিমালা অনুযায়ী বাঁধের ৫০ ফুট দূর থেকে মাটি কেটে ওই বাঁধে ফেলার কথা । এমনকি বাঁধ সংলগ্ন কোনো কৃষকের ফসলী জমি থেকে মাটি কেটে ওই বাঁধে ফেলতে হলে জমির মালিকের সাথে সমঝোতার মাধ্যমে মাটি কাটার কথা থাকলেও উক্ত প্রকল্প কমিটির সভাপতি দিপক রঞ্জন তালুকদার ও একই বাঁধের ৩৬ নম্বর প্রকল্পের সভাপতি মিহির রঞ্জন তালুকদার পাউবো’র বেঁধে দেয়া নীতিমালাকে উপেক্ষা করে এমনকি তাঁরা দুইজনই জমির মালিকদেরকে না জানিয়েই কৃষকদের ফসলী জমি থেকে মাটি কেটে ওই বাঁধে ফেলতে থাকেন। রবিরার দুপুরে জয়শ্রী গ্রামের কৃষক গৌতম চন্দ্র সরকার, একই গ্রামের কৃষক সঞ্জু মোহন সরকার, কৃষক প্রবীর মজুমদার ও কৃষক মন্টু তালুকদার ওই প্রকল্প এলাকায় গিয়ে তাদেরকে না জানিয়ে তাদের ফসলী জমি কেটে বাঁধে ফেলার জন্য প্রকল্প সভাপতি দিপক রঞ্জন তালুকদার ও মিহির রঞ্জন তালুকদারকে বাঁধা দেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বাক-বিতন্ডা হয়। এর কিছুক্ষন পরই ৩০ নম্বর প্রকল্প সভাপতি দিপক চন্দ্র তালুকদারের ছেলে দেবাশীষ তালুকদার তার ব্যবহৃত ০১৭১৯-৩৭৪৭৩৬ নম্বর মোবাইল ফোনে কৃষক গৌতম চন্দ্র সরকারকে গুলি করে হত্যা করার হুমকি দেন।
হুমকির ভয়ে আতংকিত কৃষক গৌতম চন্দ্র সরকার আজ মঙ্গলবার দুপুরে ধর্মপাশা প্রেসক্লাবে এসে উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, দীপক রঞ্জন তালুকদার ও তার ছেলে দেবাশীষ তালুকদারের বিরুদ্ধে আমি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পর থেকেই পিআইসি দীপক রঞ্জন তালুকদার ও পিআইসি মিহির রঞ্জন তালুকদার তারা আমার বিরুদ্ধে উল্টো কয়েকটি চাঁদাবাজী মামলা দায়ের করবেন বলে আমাকে হুমকি দিয়ে আসছেন।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত যুবক দেবাশীষ তালুকদারের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার মোবাইল ফোনে কৃষক গৌতম চন্দ্র সরকারকে হুমকি দেয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, তিনিই প্রথম আমাকে ফোনে গাল-মন্দ করেন। পরে আমি রাগের মাথায় তাকে এসব কথা বলেছি। তবে তিনি আমার সিনিয়র তাঁকে আমার এসব কথা বলা ঠিক হয়নি বলেও জানান দেবাশীষ।
দেবাশীষ তালুকদারের পিতা ৩০ নম্বর প্রকল্প কমিটির সভাপতি দীপক রঞ্জন তালুকদার বলেন, আমি ও আমার পাশের প্রকল্প কমিটির সভাপতি মিহির রঞ্জন তালুকদারকে কৃষকরা তাদের জমি থেকে মাটি কাটতে বাধা দিলে আমরা সঙ্গে-সঙ্গেই সেখান থেকে মাটি কাটা বন্ধ করে দেই। তবে আমার ছেলে রাগের মাথায় মোবাইল ফোনে কৃষক গৌতমকে যাই বলে থাকুক তা আপনারা পত্রিকায় লিখবেন না এটা আপনাদের কাছে আমার অনুরোধ রইল এবং এ বিষয়টি আমি দ্রুতই মীমাংসা করব।
ধর্মপাশা থানার ওসি সুরঞ্জিত তালুকদার বলেন, এ ধরনের একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তবে বিষয়টি তদন্ত স্বাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।