সেই বোনকে নিতে কারাগারে এলেন ভাই

প্রকাশিত

টাঙ্গাইলের বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব প্রান্তের বাসস্ট্যান্ডে পরিবহন শ্রমিকদের হাতে গণধর্ষণের শিকার প্রতিবন্ধী নারী বাসযাত্রীর পরিচয় মিলেছে।

তার স্বজনেরা টাঙ্গাইল কারাগারে এসে নিরাপত্তা হেফাজতে তার সঙ্গে রোববার সকালে দেখা করেন। পরে তাকে নিজেদের হেফাজতে নেয়ার জন্য আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেন। রোববার বোনকে নিতে কারাগারে আসেন ভাই।

গণধর্ষণের শিকার প্রতিবন্ধী তরুণীর ভাই হেলাল মিয়া জানান, কোরবানির ঈদের পরদিন ২৩ আগস্ট ঢাকার খিলগাঁওয়ের বাসা থেকে তার বোন বের হয়ে যায়।

এরপর থেকে তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরদিন খিলগাঁও থানায় একটি জিডি করা হয়। শনিবার রাতে খিলগাঁও থানা পুলিশের মাধ্যমে খবর পেয়ে তিনি তার বোনকে নিতে টাঙ্গাইল কারাগারে আসেন।

বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশারফ হোসেন বলেন, ওই প্রতিবন্ধী নারী তার গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়ায় বলে জানায়। আবার ঢাকার খিলগাঁও বাসায় বসবাস করত বলেও জানায়। গত ২৩ আগস্ট ঢাকার খিলগাঁও বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় ওই নারী। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকা পুলিশের সহায়তায় তার ভাই হেলাল মিয়াকে নিখোঁজ ওই প্রতিবন্ধী নারীর সংবাদ পাঠানো হয়।

খবর পেয়ে তার ভাই তাকে নিতে আসেন। তবে এর আগে আদালতের নির্দেশে ওই নারীকে সরকারি আশ্রয় কেন্দ্রে পাঠানো হয়। রোববার বিকেলে আদালতে হেলাল মিয়া তার প্রতিবন্ধী বোনকে ফিরিয়ে নেয়ার আবেদন করেন। যদিও আজ ওই প্রতিবন্ধী নারীকে তার ভাইয়ের কাছে বুঝিয়ে দেয়া হয়নি। আগামীকাল তাকে তার ভাইয়ের কাছে বুঝিয়ে দেয়া হবে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, আদালতের নির্দেশে ওই নারীকে সরকারি আশ্রয় কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। আদালতের পরবর্তী আদেশ পেলে তার ভাই ও পরিবারের হেফাজতে ওই নারীকে দেয়া হবে।

গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় টাঙ্গাইল থেকে ছেড়ে আসা একটি বাস যাত্রী নিয়ে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্বপার বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছায়। তবে বাসস্ট্যান্ডে অন্যান্য যাত্রী নেমে গেলেও বাসে বসা ছিল ওই প্রতিবন্ধী নারী।

ফাঁকা বাসে ওই নারীকে পেয়ে ধর্ষণ করে বাসচালক, সুপারভাইজার ও হেলপার। এ সময় ধর্ষণের শিকার ওই নারীর চিৎকার শুনে মহাসড়কের টহলরত পুলিশ বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্বপার বাসস্ট্যান্ড দাঁড়ানো বাস থেকে হাতেনাতে ধর্ষক হেলপারকে ধরতে সক্ষম হয়। তবে চালক ও সুপারভাইজার বাস থেকে পালিয়ে যায়। এ সময় ধর্ষিতা নারীকে উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে রাখে। পরে আদালতের নির্দেশে ওই নারীকে সরকারি আশ্রয় কেন্দ্রে পাঠানো হয়।

বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশারফ হোসেন বলেন, শুক্রবার এ ঘটনায় জড়িত গ্রেফতার হেলপার নাজমুলকে টাঙ্গাইল কারাগারে পাঠানো হয়। সে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। তবে ধর্ষণে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করলেও বাসচালক আলম এ ধর্ষণের ঘটনাটি ঘটিয়েছে বলে নাজমুল জানিয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান চালানো হচ্ছে।