সেরা নির্বাচন

প্রকাশিত
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হওয়া রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ নির্বাচন কোনো প্রকার সংহিংসতা ও নির্বাচনী অনিয়ম ছাড়াই উৎসবের আমেজে সম্পন্ন হয়েছে। সামগ্রিকভাবে রসিক নির্বাচন ছিল শান্তিপূর্ণ ও বিশ্বাসযোগ্য।
রংপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হওয়ায় নির্বাচন কমিশনের ভ‚মিকার প্রশংসা করেছেন পর্যবেক্ষকরা।  ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপ (ইডব্লিউজি) বলেছে রংপুর সিটি নির্বাচন এ যাবৎকালের সেরা স্থানীয় নির্বাচন। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এটিকে মডেল নির্বাচন হিসেবেও উল্লেখ করেছে। গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাব এবং রংপুর নগরীর সাহিত্য পরিষদ মিলনায়তনে পৃথক সংবাদ সম্মেলনে  এভাবেই প্রশংসা করে এই দুই পর্যবেক্ষক সংগঠন।
রসিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ বিষয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইডব্লিউজি’র পরিচালক মো. আব্দুল আলীম বলেন, ২০১৩ সালের পর থেকে বরিশাল, খুলনা, রাজশাহী, সিলেট, ঢাকা এবং সর্বশেষ নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচন আমরা পর্যবেক্ষণ করেছি। সর্বশেষ কুমিল্লা সিটি নির্বাচনেও ছোট ছোট কয়েকটি দুর্ঘটনা আমরা রেকর্ড করেছি। কিন্তু এই নির্বাচনে একটি জাল ভোটের ঘটনা ঘটেনি, কেউ একটা জাল ভোট দেওয়ার চেষ্টাও করেনি। স্থানীয় সরকারের অন্য নির্বাচনগুলোর সঙ্গে তুলনা করে দেখা গেছে এই নির্বাচনটি এ যাবৎকালের অন্যতম সেরা নির্বাচন। নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় এই নির্বাচন অংশীজনদের আস্থা আরো বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করবে। ইডবিøউজি’র পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে আব্দুল আলীম বলেন, রসিক নির্বাচন সংহিংসতা ও নির্বাচনী অনিয়ম ছাড়াই উৎসবের আমেজে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সামগ্রিকভাবে এ নির্বাচন ছিল শান্তিপূর্ণ ও বিশ্বাসযোগ্য। ভোটাররা ভয়-ভীতির ঊর্ধ্বে থেকে সুশৃঙ্খলভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরেছেন। ইডবিøউজি’র পর্যবেক্ষণ মতে এই নির্বাচনে ভোট প্রদানের হার ৭০ শতাংশ।
এ সময় রসিক নির্বাচন নিয়ে বিএনপির অভিযোগ প্রসঙ্গে নির্বাচন বিশেষজ্ঞ নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ বলেন, নির্বাচনের শুরু থেকে ফল প্রকাশ পর্যন্ত আমরা এলাকায় ছিলাম। স্থানীয় জনসাধারণ, গণমাধ্যমের প্রতিনিধিসহ যারা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলেন তাদের অনেকের সঙ্গে আমাদের মতবিনিময় হয়েছে। তাদের কাছ থেকে এ জাতীয় কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি কিংবা কেউ শুনেছেন বলেও আমাদের জানাননি। সে জন্য ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপ মনে করে, এ জাতীয় বক্তব্য হয়তো রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রদান করা হয়েছে এবং তাদের এই অভিযোগের সঙ্গে মাঠ পর্যায়ের কোনো সম্পর্ক নেই। সংবাদ সম্মেলনে আরেক বিশেষজ্ঞ মো. আব্দুল আউয়াল বলেন, নির্বাচন সংক্রান্ত বিধি-বিধানগুলো রাজনৈতিক দলসহ সবার উচিত শ্রদ্ধার সঙ্গে দেখা ও পালন করা এবং এগুলো তাদের রাজনৈতিক চরিত্রের মধ্যে সম্পৃক্ত করবেন বলে আমরা নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করি। তিনি বলেন, একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য যেসব পূর্বশর্ত তার সবক’টিই রংপুর সিটি নির্বাচনে তা বিদ্যমান ছিল। এগুলোকে চর্চায় আনতে হবে। নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক দল এবং জনগণ তাদের দিক থেকে যে সদিচ্ছা দেখিয়েছেন, নির্বাচনে সবার যেমন স্বতঃস্ফূর্ততা ছিল এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আগামী জাতীয় নির্বাচনেও এ ধরনের অবস্থা বিরাজমান থাকবে বলে আশা করা যায়।
ইডব্লিউজি জানায়, রংপুর সিটি করপোরেশনের ১৯৩টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ইডবিøউজি ১৫টি ওয়ার্ডের ২৬টি (১৩.৫ শতাংশ) ভোট কেন্দ্র পর্যবেক্ষণ করেছে। ভোট গ্রহণ শুরুর সময় ইডব্লিউজি ’র পর্যবেক্ষকরা ৯৩ দশমিক ৬ শতাংশ ভোট কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ মেয়র প্রার্থীর পোলিং এজেন্ট, ৯৫ দশমিক এক শতাংশ ভোট কেন্দ্রে বিএনপি মেয়র প্রার্থীর পোলিং এজেন্ট এবং ৯২ দশমিক ৯ শতাংশ ভোট কেন্দ্রে জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থীর পোলিং এজেন্টদের দেখতে পেয়েছেন। এদিকে রংপুর সিটি করপেরেশনের নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ, সুষ্ঠ ও শান্তিপূর্ণ হয়েছে বলে জানালেন সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজন এই নির্বাচনকে মডেল বলে আখ্যায়িত করে।
শনিবার দুপুরে রংপুর নগরীর সাহিত্য পরিষদ মিলনায়তনে নির্বাচনোত্তর সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলা হয়।  সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সুজনের রংপুর বিভাগের সমন্বয়কারী রাজেশ দে। উপস্থিত ছিলেন জেলা সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আকবর হোসেন, মহানগর সভাপতি ফকরুল আনাম বেঞ্জুসহ প্রমুখ। রসিক নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য নির্বাচন কমিশন, রিটার্নিং অফিসার, সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সুজন ধন্যবাদ জানায়।  সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনে জয়ী মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের করণীয় সম্পর্কে পাঁচ দফা প্রস্তাব দেওয়া হয়। প্রস্তাবগুলো হলোÑ নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সিটি করপোরেশনকে দুর্নীতিমুক্ত, কার্যকর ও জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলবেন, সিটি করপোরেশন পরিচালনায় পরাজিত প্রার্থীদের পরামর্শ গ্রহণ করবেন, শপথ গ্রহণের পরেই পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা প্রণয়ন করবেন, নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সব কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করবেন। নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা দলীয়করণ ও স্বজনপ্রীতি পরিহার করবেন এবং বছরে কমপক্ষে একবার কাজের জবাবদিহির জন্য জনগণের মুখোমুখি হবেন বলে আশা প্রকাশ করা হয়। বিএনপির মেয়র প্রার্থী কাওছার জামান বাবলা রসিক নির্বাচনকে ‘তামাশার নির্বাচন’ হিসেবে যে মন্তব্য করেছেন, সে ব্যাপারে সুজন প্রতিনিধিরা বলেন, এই অভিযোগের কোনো সত্যতা নেই।

Be the first to write a comment.

Leave a Reply