সোমা ও সুমনা অনলাইনে জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ হয়

প্রকাশিত

স্টাফ রিপোর্টার: অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে এক ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগে গ্রেফতার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী মোমেনা সোমা অনলাইনে আইএস ও আল-কায়েদাসহ জঙ্গি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন উপকরণ দেখে জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ হয়। পরবর্তীতে সে তার ছোটবোন আসমাউল হুসনাকেও জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ করে। তবে তাদের সঙ্গে কোনো জঙ্গি সংগঠনের সংশ্লিষ্টতা এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। গতকাল দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের এমন তথ্য জানান।
মনিরুল ইসলাম বলেন, গত কয়েকদিন আগে অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশ থেকে যাওয়া মোমেনা সোমা নামের এক শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করে সেখানকার পুলিশ। সেই সূত্র ধরে তার বাসায় আমরা অভিযান চালাই। সেখানে থাকা তার ছোট বোনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সে নিজেও জঙ্গিবাদে জড়ায়। আসমাউল হুসনাকে জিজ্ঞাসাবাদে বিভিন্ন ওপেনসোর্স এবং অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিকভাবে কথা বলে আমরা এসব তথ্য পেয়েছি। মোমেনা পড়াশোনার জন্য ১ ফেব্রুয়ারি অস্ট্রেলিয়া যায়। এর আগে তুরস্কের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার জন্য যেতে চেয়েছিলো। কিন্তু ভিসা না পাওয়ায় পরে অস্ট্রেলিয়া যায়। অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার আগে সে আসমাউল হুসনাকে বলেছিল, সেখানে গিয়ে একটা অঘটন ঘটাবে। যদি বাংলাদেশের পুলিশ তার বাসায় আসে সেখানেও যেন অন্তত একজন পুলিশকে হত্যা করে সে শহীদ হয়।
মনিরুল ইসলাম বলেন, ২০১৫ সালের দিকে মোমেনা সোমা নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতো। সে সময় তার মা মারা যায়। এরপর থেকে সে নিজেকে একটু গুটিয়ে নেয়। ওই সময় থেকে সে জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়ে।
সোমার সঙ্গে আইএসের হয়ে যুদ্ধ করতে যাওয়া নাজিবুল্লাহ আনসারির যোগাযোগ ছিল জানিয়ে সিটিটিসি প্রধান বলেন, ২০১৪ সালের দিকে বাংলাদেশ থেকে নিখোঁজ হওয়া তরুণ নাজিবুল্লাহ আনসারির সঙ্গে সোমার যোগাযোগ ছিল। দুই জনের বিয়ের কথাও হয়েছিল। তবে পরিবারের অমতে বিয়ে হয়নি। সোমার ছোট বোন আসমাউল হুসনা ওরফে সুমনা ও তার বাবাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। গুলশান হামলা মামলার চার্জশিট যে কোনো দিন দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
প্রসঙ্গত, গত ৯ ফেব্রুয়ারি অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে এক ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী মোমেনা সোমাকে (২৪) গ্রেফতার করে সে দেশের পুলিশ। পরে সিটিটিসি সোমার বিষয়ে খোঁজ নিতে গত ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর কাজীপাড়ার তার বাসায় যায়। সেখান থেকে আসমাউল হুসনা ওরফে সুমনাকে গ্রেফতার করা হয়।