স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য সঙ্গত মনে করছেন না ফখরুল

প্রকাশিত

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক: রায় ঘোষণার আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘হুঁশিয়ারিমূলক’ আগাম বক্তব্য ‘সঙ্গত নয়’ বলে মনে করছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার বিকালে রাজধানীর টিকাটুলীতে সদ্য প্রয়াত ঔপন্যাসিক শওকত আলীর বাসায় পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানানোর পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা এখনো রায়টা পাইনি। আইনগতভাবে নীতিগতভাবে রায় ঘোষণা হওয়ার আগে পর্যন্ত আমরা রায় নিয়ে প্রতিক্রিয়া সেভাবে বলতে পারব না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ নিয়ে আজকে কথা বলেছেন। এই কথা বলা কোনো মতেই সঙ্গত নয়। তিনি রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে আছেন। এ থেকে এটা পরিস্কার বুঝা যায় যে, তারা কী চিন্তা করছেন?’

খালেদা জিয়ার মামলার রায় ‘দ্রুততার সাথে করানো হচ্ছে’ অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘নজিরবিহীন তাড়াহুড়ার মধ্যে দ্রুততার সাথে এই মামলা শেষ করার চেষ্টা হচ্ছে। দেশনেত্রীর আইনজীবীরা পরিষ্কার করে বলেছেন যে, জাস্টিস হারিড ইজ জাস্টিস বারিড।’

‘কারণ তারা (ক্ষমতাসীন) কর্ণপাত করছেন না। তারা ডিটারমিনড যে, তারা আগামী নির্বাচন করতে চান বিএনপিকে বাদ দিয়ে এবং সেজন্যই তাড়াহুড়া করে বিচার কাজ শেষ করা এবং এ সমস্ত কমেন্ট করা। আমরা এখন পর্যন্ত কোনো কর্মসূচি ঘোষণা করিনি। তাহলে কোথায় যাবেন?’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘অনেকদিন আগে থেকেই সরকারের লোকজন এই মামলা নিয়ে আগাম বক্তব্য দেওয়া শুরু করেছেন। প্রধানমন্ত্রী বহু আগেই রায় দিয়ে দিয়েছেন। নিশ্চয় মনে আছে অনেক আগেই তিনি বলে দিয়েছিলেন এতিমের টাকার ব্যাপারে। অন্যান্য মন্ত্রীরা বলছেন। তারা প্রতিটি দিন, প্রতিটি মুহূর্ত, প্রতিটি ক্ষণ তারা হুমকি দিয়েছেন, তারা শক্তি প্রয়োগ করেছেন, বল প্রয়োগ করেছেন।’

‘কয়েকদিন আগে এরশাদ সাহেব রংপুরে বলেছেন, আর মাত্র কয়েকদিন তারপর যেতে হবে জেলে। তার দলের একজন প্রতিমন্ত্রীও একই কথা বলেছেন। এ ধরনের কথা দিয়ে এটা প্রমাণিত হয়, আগামী বলে দেওয়া। রায় নিয়ে ক্ষমতাসীনদের এই ধরনের কথা দিয়ে এটাই প্রমাণিত হয়, আগাম বলে দেওয়া-তারা পূর্বনির্ধারিত, পরিকল্পিত। দ্য আর প্রিপিয়ার্ড ফর এভরি থিং।’

প্রয়াত ঔপন্যাসিক শওকত আলীর পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ করে তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি তার জ্যেষ্ঠ ছেলে আসিফ শওকত কল্লোল, তার স্ত্রী ফারজানা আফরোজ পারুলসহ আত্বীয় স্বজনের সাথে কথা বলেন। তাদের খোঁজ-খবর নেন।

মির্জা ফখরুল যে কক্ষে শওকত আলী থাকতে সেখানে গিয়ে কিছুক্ষণ নিরবে দাঁড়িয়ে তার স্মৃতির প্রতি সম্মান জানান।

তিনি বলেন, ‘কথাসাহিত্যিক অধ্যাপক শওকত আলী আমার শিক্ষকই ছিলেন বলা যায়। আমি যখন স্কুলের ছাত্র তখন তিনি আমার জন্মভুমি ঠাকুরগাঁও কলেজে অধ্যাপনা করতেন। ভালো সাহিত্য পড়তে এবং সৃজনশীল লেখা পড়তেন, পৃথিবী ও মানুষকে জানবার জন্যে যে সাহিত্য, সেই সাহিত্য পাঠে আমাকে মনোযোগী করেছেন। তিনি আজীবন দেশের মানুষের কাছে বেঁচে থাকবেন তার সাহিত্যের মধ্য দিয়ে, তার লেখার মধ্য দিয়ে।’

এ সময়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান উপস্থিত ছিলেন।

বৃহস্পতিবার সকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল  বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে শওকত আলী মারা যান।