সড়ক-মহাসড়ক বন্ধ করে পশুর হাট নয়-সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের

প্রকাশিত

মৃণাল চৌধুরী সৈকত :
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আসন্ন ঈদ-উল-আযহায় সড়ক-মহাসড়ক বন্ধ করে কোন প্রকার পশুর হাট বসানো যাবে না। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকারের সময়ে বাংলাদেশে প্রতিটি নির্বাচন কোন প্রকার সহিংসতা ও রক্তপাত ছাড়াই অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আগামী জাতীয় নির্বাচনও তাই হবে।
তিনি বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, বিএনপি নির্বাচনের আগেই হেরে যায়। বিগত বছর গুলোতে বিএনপি বারবার হুংকার দিলেও তারা কোন আন্দোলন গড়ে তুলতে পারেনি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্ট থেকে স্বর্ণ লুটের বিষয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, বিএনপি এটাকে একটা ইস্যু হিসেবে দাঁড় করাতে আপ্রান চেষ্টা করে যাচ্ছে। তথ্য যাচাই না করেই বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্ট থেকে স্বর্ণ লুট করে নিয়ে গেছে এমন কথা বলে বেড়াচ্ছে। আসলে এটা একটা ক্লারিক্যাল (করণীক ভুল)। ভল্টের স্বর্ণ ভল্টেই রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আমাদেরকে সেটা নিশ্চিত করেছে।
গতকাল বুধবার দুপুরে টঙ্গীতে সড়ক ও জনপথ বিভাগের কার্যালয়ে আসন্ন ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে যানজট নিরসনকল্পে করণীয় নির্ধারণ বিষয়ক সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।


সেতুমন্ত্রী বিআরটিএ’র প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও বলেন, কোন অজুহাতেই যত্রতত্র নির্মাণ সামগ্রী ফেলে রাখা যাবে না। কোথায়ও রাস্তা ও ড্রেনের কোন স্লাব উল্টে রাখা যাবে না। সংস্কার কাজের নামে সড়ক-মহাসড়কে যেন যানজটের সৃষ্টি না হয় সেদিকে সংশ্লিষ্ট সকলে দৃষ্টি রাখতে হবে। কথায় নয় কাজ করে দেখাতে হবে। বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকার গনবান্ধব সরকার।


আসন্ন ঈদ-উল-আযহার অন্তত: ১০দিন পূর্ব থেকে সড়ক-মহাসড়কের নির্মাণ ও সংস্কার কাজ বন্ধ রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন সেতুমন্ত্রী।
মন্ত্রী আরও বলেন, ঈদের আগে মহাসড়কের ভারি যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখতে হবে এবং ফিটনেস বিহীন লক্কড়-ঝক্কড় লেগুনা, ইজিবাইক, অটোরিকশাসহ অন্যান্য গাড়ি বন্ধ রাখতে হবে।
ঈদের আগে বিভিন্ন কারখানায় কর্মরত গার্মেন্টকর্মীদের বেতনভাতা পরিশোধের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে ছুটি দেয়ার জন্য গার্মেন্ট মালিকদের প্রতি আহ্বান জানান মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ঈদের আগেই লাইসেন্স বিহীন গাড়ি ও চালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তপক্ষকে নির্দেশ দেন, সেই সাথে সড়ক-মহ্সড়কের পাশে ময়লা-আবর্জনা পরিস্কারসহ যানজট নিরশনে সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষকে এগিয়ে আসার আহবান জানান।

সভায় গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমি নির্বাচিত হয়েছি তবে এখনো দায়িত্ব বুঝে পাইনি। তবুও আমি বর্তমানে যিনি মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তার সঙ্গে আলাপ আলোচনা করে কাজ করবো।
জাহাঙ্গীর বলেন, সিটি করপোরেশনের নিজস্ব ডাম্পিং ষ্টেশন নেই, তাই আমি ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের নিকট একটি ডাম্পিং ষ্টেশনের জন্য লিখিত দিয়েছি। টঙ্গী থেকে চৌরাস্তা পর্যন্ত দু’পাশের ফুটপাত মুক্ত করা হবে। মহাসড়কের দু’পাশে দাড়িয়ে থাকা ট্রাকগুলো দ্রুত সরিয়ে একটি ট্রাক টার্মিনালে রাখতে হবে। কোন রাস্তায় হাট ইজারা দেওয়া হবেনা। সিটি করপোরেশন থেকে কোন ফুটপাত ইজারা দেওয়া হবেনা। যেগুলো ইজারা দেওয়া হয়েছে সেগুলো বাতিল করা হবে।
সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ নজরুল ইসলাম, হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি মো. আতিকুর রহমান, বিকেএমইএ সভাপতি সেলিম ওসমান, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ূন কবীর, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ, সড়ক ও জনপদের প্রধান প্রকৌশলী ইবনে আলম হাসান, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আব্দুর সবুর, ঢাকা বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সবুজ উদ্দিন খান, বাংলাদেশ পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব এনায়েতউল্লাহ প্রমুখ।

##