হবিগঞ্জে বিভিন্ন উপজেলা যুবদলে ‘মানি নেতা’র আবির্ভাব! সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল, সমালোচনার ঝড় 

প্রকাশিত
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি :
রাজনীতির কোনো পাঠ কিংবা দলের পেছনে কোনো অবদানের প্রয়োজন নেই। টাকাই এখানে মুখ্য। যিনি যত টাকা দেবেন তিনি তত বড় নেতা হবেন। বলা হচ্ছে অন্যতম রাজনৈতিক দল বিএনপির তৃণমূলের কথা। সেখানে চলছে পদ দেয়ার নামে বাণিজ্য। টাকা দিয়ে কেউ কেউ নেতা হতে যাচ্ছেন। এটাই নাকি হবিগঞ্জ যুবদলের বর্তমান সেক্রেটারির কৌশল। এ কারণে দলটির নিবেদিতপ্রাণ নেতাকর্মীরা হতাশ। এ সুযোগে অযোগ্য আর অথর্বরা টাকার বিনিময়ে বিএনপির অঙ্গ সংগঠন যুবদলের বড় নেতা হতে পারেন।
দলীয় সূত্র জানায়, হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলা-পৌর যুবদলের কমিটি গঠন নিয়ে পদ বানিজ্য, কমিটি বানিজ্য, কমিটি কিংবা পদের বিনিময়ে লাখ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জেলা যুবদলের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক জালাল আহমেদ এর বিরুদ্ধে। এমনই অভিযোগ এনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিচ্ছেন অনেকে। পদ দেয়ার নামে টাকার বানিজ্যের বিষয়টি ভাইরাল হওয়ায় সমালোচনার ঝড় উঠছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।
পাঠকদের জন্য ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া কয়েকটি স্ট্যাটাস হুবুহু তুলে ধরা হলো…
Milon Khan লিখেছেন, হবিগঞ্জ জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জালাল আহমদ প্রথমত আমাকে জেলা যুবদলের সদস্য বানানোর কথা দিয়েও রাখেননি এবং পরে বানিয়াচং উপজেলা যুবদলের সভাপতি বানিয়ে দেওয়ার কথা বলে ৬০ হাজার টাকা নিয়েছেন এবং এর বাহিরেও বিগত দুই বছরে বিভিন্ন রকম আর্থিক সহযোগিতা করেছি এখন বলতেছেন উনি আমাকে সভাপতি অথবা আহ্বায়ক কোনোটাই দেওয়া সম্ভব নয়, তিনি আরো লিখেছেন দলে এই রকম প্রতারক বাটপার থাকলে দলের দূর্নাম হওয়া ছাড়া সুনাম অর্জন করা সম্ভব না উনি যে এত বড় একজন নীরব বাটপার আমার বুঝতে দেরি হয়ে গেল কেন্দ্রীয় যুবদলের কাছে বিচার চাই।
Hasnul Hok Bappi লিখেছেন, বাহুবল উপজেলা যুবদলের পদ দেওয়ার কথা বলে দুবাই প্রবাসী সোহেলের কাছ থেকে ফরমাবাজ সাধারণ সম্পাদক জালাল ৩৫ হাজার টাকা আত্মসাৎ ব্যাপারটা লজ্জাজনক।
জালাল এর অপকর্ম নামে আইডি থেকে লেখা হয়েছে, পৃথিবীর সব সম্পর্কগুলো হেরে যায় টাকার কাঁছে।
এই জালালের বাচ্চাগুলো টাকার বিনিময়ে সবকিছুই করতে পারে। যুবদলের এই কমিটিতে ৪৮ জন কর্মীর কাঁছ থেকে প্রায় ১৮ লক্ষ টাকা আত্মাসাৎ করেছে সে।
এদিকে, দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান পরীক্ষিত নেতাদের নিয়ে দল পুনর্গঠনের ঘোষণা দেন। এরপর বেশ কিছু নির্দেশনাসহ জেলা নেতাদের চিঠি পাঠান যুগ্ম মহাসচিব। সে চিঠিতেও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের বক্তব্যের প্রতিধ্বনি ছিল। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও যুগ্ম মহাসচিবের চিঠিকে থোরাই কেয়ার করছেন না জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জালাল আহমদ।
নেতা কর্মীদের অভিযোগ, বিভিন্ন থানা ও পৌরতে কমিটিতে অনেকেই আসতে পারে টাকার বিনিময়ে। দলের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে এসব ‘মানি নেতা’র আবির্ভাব ঘটলে মনোবল হারিয়ে ফেলবে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।
দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর কড়া হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে নেতা বানিয়ে দেওয়া হলে, ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীরা মার্কা মারা নেতা মেনে নিবে না। এতে ঘটছে পারে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ। তৃণমূল নেতাকর্মীদের হাতে লাঞ্ছিত হতে হবে পদ পাওয়া নেতারা। তারা জানান, এ-সব বিষয়ে কেন্দ্রেও দেয়া হয়েছে এসব অভিযোগ।
নেতাকর্মীরা আরো জানান, জেলার বিভিন্ন থানা কমিটি কিংবা পৌর কমিটি ঘোষণার আগেই অনেকই ঢাক ডোল পিটিয়ে স্পষ্টভাবেই বলছেন, টাকার বিনিময়েই তারা নেতা হয়ে যাবেন।
উপজেলা ও পৌর কমিটি গঠনে স্বজনপ্রীতি ও অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় দলের তৃণমূলের ত্যাগী ও রাজপথে সক্রিয় নির্যাতিতদের বাদ দিয়ে কাউকে অর্থের বিনিময়ে নেতা বানানোর উৎসবে মেতে না উঠতে অনুরোধ জানিয়েছেন বিভিন্ন উপজেলার নেতৃবৃন্দ।
এবিষয়ে জানতে চেয়ে জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জালাল আহমদ এর মোবাইল ফোনে বার বার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এব্যাপারে জেলা যুবদলের সভাপতি মিয়া মোহাম্মদ ইলিয়াছ এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ফেসবুকে অনেকই অনেক কিছু লেখেন তবে বিষয়টি সত্য কি-না খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, টাকার বিনিময়ে যুবদলে স্থান পাওয়ার সুযোগ নেই। পরীক্ষিত ও ত্যাগীদের দিয়ে প্রতিটি কমিটি দেওয়া হবে।

Be the first to write a comment.

Leave a Reply