হাকালুকি হাওরে চলছে মাছ লুটের মহোৎসব!

প্রকাশিত

আবদুল আহাদ, মৌলভীবাজার –
মৌলভীবাজারের হাকালুকি হাওরে অবৈধ বেড়জাল ও কারেন্ট জাল দিয়ে মাছ লুটের মহোৎসব চলছে। বৃহত্তম এ হাওরের পানি কমতে শুরু হওয়ার সাথে সাথেই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে অবৈধ মৎস্য শিকারীরা। প্রতিদিন সন্ধ্যা নামলেই শত শত জাল নিয়ে হাওরে শুরু হয় মাছ লুট, চলে ভোররাত পর্যন্ত। সকালের সূর্য উঠার আগেই এসব মাছ দেশের বিভিন্ন শহরে পাঠানো হয়। চলতি বছরের শুরু থেকে এখনও অবধি হাওর এলাকায় বড় ধরনের কোন অভিযান না হওয়ায় মাছ লুটেরারা এমন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে দাবী স্থানীয় সচেতন মহলের। সরেজমিন হাকালুকি হাওরে গেলে চোখে পড়ে মাছ শিকারিদের তান্ডবলিলা। হাওরের সাদা জলে জাল টানার দৃশ্যই বেশি চোখে পড়ে। ২-৩ হাজার ফুট প্রশস্থ একেকটি জালে বড় মাছসহ সব ধরনের ছোট মাছ ধরা পড়ে। একটি বেড়জালে ১৫-২০ জন লোক গ্রুপবদ্ধ হয়ে টানছেন।
জানা যায়, হাকালুকি হাওর তীরে কয়েকটি সংঘবদ্ধ লুটেরা চক্র রয়েছে। যাদের কাছে রয়েছে ২ থেকে ৫ হাজার ফুট পর্যন্ত দীর্ঘ একেকটি বেড় জাল। এসব বেড় জাল দিয়ে বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত চলে মাছ শিকার। বড় ধরনের একেকটি বেড়জাল টানতে ৩০-৪০ জন জেলে লাগে। এসব বেড় জালের কারণে হাওরে মাছের বিস্তার প্রতিনিয়ত কমে যাচ্ছে। জালের আঘাতে হাওরে জলজ উদ্ভিদ কিংবা শেওলাও জন্ম নিতে পারে না। অবৈধভাবে শিকার করা এসব মাছ পিক আপ ভ্যান যোগে দেশের বিভিন্ন হাট বাজারে নিয়ে যান বিক্রেতারা। পুলিশ এসব ভ্যান থেকে মাসোহারা পেয়ে থাকে বলে জানা গেছে। ফলে তাদের মাছ নির্বিঘেœ নিয়ে যেতে কেউ কোন বাঁধা দেয় না।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিল ইজারাদারেরা এই চক্রের অন্তর্ভুক্ত। ফলে অবৈধভাবে শিকার করা মাছের একটা ভাগ হাকালুকি তীরবর্তী উপজেলার ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী কয়েক নেতা, প্রশাসনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং জনপ্রতিনিধিদের বাসায় যায়। ফলে হাওরে লুটপাটের বিষয়ে এখন তাদের নজর একটু কম।
কুলাউড়া সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুলতান মাহমুদ জানান, গত ১২ সেপ্টেম্বর তিনি হাকালুকি হাওরের কুলাউড়া উপজেলার ভাটেরা ইউনিয়নে কিছু এলাকায় অবৈধ জাল আটক করেছেন। তবে হাওর তীরবর্তী সকল উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে হাকালুকি হাওরে এবার কোন অভিযান পরিচালনা হয়নি। একা মৎস্য বিভাগের পক্ষে অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব নয়। অভিযান না হওয়ার কারণ হিসেবে তিনি জানান, উপজেলা পর্যায়ে সমন্বয় করাটা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে আর অভিযান করা সম্ভব হয় না। তারপরও শিগগিরই একটা বড় ধরনের অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।