হাকালুকি হাওরে বন্যার অবনতি

প্রকাশিত

এশিয়ার বৃহত্তম হাকালুকি হাওর পাড়ের কুলাউড়া, জুড়ী ও বড়লেখা উপজেলা সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির ক্রমাবনতি হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাকালুকি হাওর এলাকায় পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। হাকালুকি হাওর তীরে এদিকে কুলাউড়ায় ৪টি আশ্রয় কেন্দে  ৫৯টি পরিবার, বড়লেখার ৪টি আশ্রয় কেন্দ্রে ৩০টি পারিবার ও জুড়ী উপজেলা ১টি আশ্রয় কেন্দ্রে ৮-৯টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, হাকালুকি হাওর পাড়ের কুলাউড়া উপজেলা ভুকশিমইল ইউনিয়ন, জয়চণ্ডী, কাদিপুর, কুলাউড়া সদর, ব্রাহ্মণবাজার, ভাটেরা ও বরমচাল ইউনিয়নের শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এ ৭ ইউনিয়নের প্রায় ২৫-৩০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও প্রায় সকল রাস্তাঘাট পানিবন্দি রয়েছে। জুড়ী উপজেলার ৪ ইউনিয়নের প্রায় ৩০টি গ্রামে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ। উপজেলার ১৪-১৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও প্লাবিত হয়েছে। এ উপজেলার জায়ফরনগর ইউনিয়নের বেলাগাঁও, সোনাপুর, শাহাপুর, রাজাপুর, নিশ্চিন্তপুর, গোবিন্দপুর, জাঙ্গিরাই, নয়াগ্রাম, শিমুলতলা, ইউসুফনগর, পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়নের বাছিরপুর, খাগটেকা, তালতলা, কালনিগড়, হরিরামপুর, কৃষ্ণনগর, ভবানীপুরসহ ৩০টি গ্রামের বিভিন্ন রাস্তা ও বাড়িঘর, ফসলি জমি ও সবজি ক্ষেত পানিতে তলিয়ে যায়। বড়লেখা উপজেলার সুজানগর ইউনিয়নের ভোলারকান্দি, রাঙ্গিনগর, দশঘরি, বাড্ডা, ব্রাহ্মণের চক গ্রামের অধিকাংশ এলাকা নিমজ্জিত হয়েছে। পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলার বর্নি, সুজানগর, দক্ষিণভাগ, দাসেরবাজার ইউনিয়নের প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। হাওরপারের দুর্গত মানুষের বসবাসের জন্য উপজেলা প্রশাসন তালিমপুর ইউনিয়নে হাকালুকি হাইস্কুল ও হাকালুকি প্রাইমারি স্কুলে এবং সুজানগর ইউনিয়নের ছিদ্দিক আলী উচ্চ বিদ্যালয় ও আজিমগঞ্জ প্রাইমারি স্কুলে বন্যা আশ্রয়কেন্দ  খুলে দিয়েছে। এদিকে কুলাউড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের উদ্যোগে বন্যায় হাকালুকি হাওর এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত খামরিদের মাঝে বিনামূল্যে গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির খাদ্য, ক্ষতিগ্রস্ত খামার মেরামত উপকরণ, ঔষধ বিতরণ করা হয়েছে বলে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সাইফ উদ্দিন জানিয়েছেন। কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার চৌধুরী মো. গোলাম রাব্বি জানান, প্রতিদিনই আমরা বন্যা পরিস্থিতির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে নোট পাঠাই। উপজেলা পরিষদের পক্ষ বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে চাল ডাল ও ১৭ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে। বড়লেখা উপজেলা চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম সুন্দর জানান, অব্যাহত ভারী বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। হাওরপাড়ে দুই ইউনিয়নে চারটি আশ্রয় কেন্দ্র খুলে দেওয়া হয়েছে। আশ্রিতদের শুকনো খাবার স্যালাইন দেওয়া হয়েছে।

Be the first to write a comment.

Leave a Reply