হাসপাতালে লাশ ফেলে পালানোর চেষ্টা, গ্রেফতার ৫

প্রকাশিত

গাজীপুর প্রতিনিধি-

গাজীপুরে একটি পার্লার কর্মচারীর লাশ মধ্যরাতে হাসপাতালে ফেলে পালানোর চেষ্টাকালে ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ১১ জনকে আসামি করে নিহতের ভাই হোসেন মন্ডল বাদী হয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) সদর থানায় মামলা করেছেন।

নিহত আসেদুল রনি (৩৫) নওগাঁ জেলা সদরের জয়নুদ্দীনের ছেলে। তিনি গাজীপুর শহরের দক্ষিণ বরুদা এলাকায় ভাড়া থেকে অ্যাডাম জেন্ট্স পার্লারে কাজ করতেন। তার স্ত্রী ও দুই ছেলে রয়েছে।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, অ্যাডম জেন্ট্স পার্লারের মালিকের স্ত্রী লাইজু আক্তার (২৫), ম্যানেজার আল-আমিন (১৯), তিন কর্মচারী  রিমন (২০), আজিজুর (২৫) ও রিমন (২) (১৮)।

পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২ টার দিকে রনিকে নিয়ে কয়েকজন গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যায়। রনি মারা গেছে শুনে লাশ ফেলে সঙ্গে আসা লোকজন গা ঢাকা দিতে শুরু করে। এ সময় হাসপাতালে দায়িত্বরত আনসার সদস্যরা আলামীন ও লাইজু নামে দুইজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে আরো ৩ জনকে আটক করে।

গাজীপুর মেট্টোপলিটন পুলিশের সদর থানার এস আই সাইদুর রহমান জানান, অ্যাডম জেন্টস্ পার্লারের মালিক নোমান, এনামুল ও রিংকু। রিংকুর পরিবার ও নিহত রনি পরিবার নিয়ে একই বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। রনি রিংকুর ৯ বছর বয়সী ছোট বোনকে উত্ত্যক্তের অভিযোগে বৃহস্পতিবার রাতে পার্লারে বিচার শালিস বসে। এক পর্যায়ে রনিকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। রনি অচেতন হয়ে পড়লে তাকে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে জরুরী বিভাগের চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করে। মৃত্যুর কথা টের পেয়ে পালানোর সময় কর্তব্যরত আনসার সদস্যরা আল আমিন ও লাইজুকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। পরে অভিযান চালিয়ে অপর তিনজনকে আটক করা হয়। নিহত রনির শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। শুক্রবার মামলা হলে আটককৃত ৫ জনকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) প্রণয় ভূষন দাস বলেন, মৃত অবস্থায় রনিকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল।