১১৬ বছর পর বিএল কলেজ দিবস পালন

প্রকাশিত
মোঃ মুস্তাইন কবির-
সরকারী ব্রজলাল কলেজ বাংলাদেশের খুলনা বিভাগের অন্যতম প্রধান কলেজ,যা দৌলতপুরে ভৈরব নদীর তীরে অবস্থিত। ১৯০২ সালে শিক্ষায় পৃষ্ঠপোষক শিক্ষানুরাগী  শ্রী ব্রজলাল চক্রবর্তী (শাস্ত্রী) কলকাতার হিন্দু কলেজের আদলে ২ একর জায়গার উপর দৌলতপুর হিন্দু একাডেমী নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। পরবর্তীতে হাজী মুহাম্মদ মুহসিন ট্রাস্ট সৈয়দপুর এস্টেট ৪০ একর জমি দান করেন।
সেই জমিতে ২ টি টিনশেড ঘরে ১৯০২ সালের ২৭ জুলাই থেকে প্রতিষ্ঠানটির ক্লাস শুরু হয়।একটি বোর্ড অব ট্রাস্টির মাধ্যমে কলেজটি পরিচালনা করা হত যার সভাপতি ছিলেন,শ্রী ব্রজলাল শাস্ত্রী।তখন থেকে এই কলেজটি ২৭ জুলাই প্রতিষ্ঠা দিবস হিসেবে ধরা হয়।
আজ(বৃহঃবার)২৬ জুলাই বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা,  আলোচনাসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে কলেজটির ১১৬তম প্রতিষ্ঠা দিবস পালন করা হয়।২৭জুলাই প্রতিষ্ঠা দিবস থাকলেও ঐদিন শুক্রবার থাকায় একদিন আগেই দিবসটি পালন করা হচ্ছে।
আজ সকাল ১০ টায় কলেজের প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে আনন্দ শোভাযাত্রা শুরু হয়, শোভাযাত্রাটি দৌলতপুর ট্রাফিক মোড়, মহসিন মোড় প্রদক্ষিণ করে ক্যাম্পাসের শহীদ মিনার চত্বরে এসে আলোচনা সভাও সাংস্কৃতিক অনুষ্টানের মাধ্যমে শেষ হয়।
অধ্যক্ষ প্রফেসর সৈয়দ সাদিক জাহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে, আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তারা কলেজের ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরেন। উক্ত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন  কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর কে, এম আলমগীর,ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শরিফ আতিক উজ্জামান,অর্থনীতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান-অধ্যপক আনোয়ার হোসেন সহ সাবেক শিক্ষকবৃন্দ।ছাত্রদের মধ্যে ছাত্রমৈত্রী-সাধারন সম্পাদক বিকাশ চন্দ্র,ছাত্র ইউনিয়ন সভাপতি-রকি বিশ্বাস,ছাত্রলীগ সভাপতি-রাকিব মোড়ল সহ আরো অন্যান্য সাবেক ছাত্র নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
আরো উপস্থিত ছিলেন-বিএল কলেজ এ্যলামনাই এসোসিয়েশনের সভাপতি এ্যাডভোকেট এনায়েত আলী ও সাধারন সম্পাদক প্রফেসর মোঃ জাফর ইমাম।এসময় ছাত্র নেতারা ক্যাম্পাসে হোস্টেলের সংখ্যা বাড়ানো এবং ক্যাম্পাসে সার্বিক বিষয়ের উপর সার্বক্ষণিক তদারকি করার জন্য কলেজ প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানায়।এছাড়া কলেজের বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠন বিএনসিসি,রেড ক্রিসেন্ট, রোভার স্কাউটসহ আরো অন্যান্য সংগঠনের বিভিন্ন কুচকাওয়াজে মুখোর করে তোলে সমগ্র শোভাযাত্রাটি।কলেজের অধ্যক্ষ সৈয়দ সাদিক জাহিদুল ইসলাম তার সভাপতির বক্তব্যে বলেন-আমার সৌভাগ্য যে, আমি এই কলেজেরই ছাত্র এখানে পড়ালেখা করেছি আর এখন এই কলেজের অধ্যক্ষ।তিনি আরও বলেন,এর আগে কখনও বিএল কলেজ দিবস পালন করা হয়নি।এবারই প্রথম এই দিবস পালন করা হচ্ছে।
তাই শোভাযাত্রাই অংশগ্রহনকারী সকল শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী এবং কর্মচারীদের তিনি বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান।
পরবর্তীতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সকল কার্যক্রম শেষ করা হয়।