১২ অস্ত্রধারী চিহ্নিত

প্রকাশিত

নারায়ণগঞ্জে হকার ইস্যুতে গত মঙ্গলবারের সহিংস ঘটনায় ১২ অস্ত্রধারীকে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। স্থির ও ভিডিওচিত্র দেখে ওইসব অস্ত্রধারীকে চিহ্নিত করার পর তাদের অনেককেই নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে। বাকিদের বিষয়ে খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে। পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এদিকে মঙ্গলবারের সহিংস ঘটনার পর চার দিন পেরিয়ে গেলেও ওই ঘটনায় কোনো পক্ষই গতকাল শনিবার পর্যন্ত থানায় মামলা করেনি। পুলিশও ওই সহিংস ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। ঘটনার সময় সাবেক যুবলীগ নেতার লাইসেন্স করা যে অস্ত্রটি ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল তাও উদ্ধার করতে পারেনি। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে নিজ  কার্যালয়ে  অসুস্থ হয়ে সিটি করপোরেশন মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী এখন ঢাকায় ল্যাবএইডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার মাইল্ডস্ট্রোক হয়েছে। সেখানে তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। মেয়র অসুস্থ হয়ে পড়ায় তার পক্ষ থেকে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টিও ঝিমিয়ে পড়েছে। গত বুধবার নগর ভবনে গণমাধ্যম কর্মীদের তিনি বলেছিলেন, তার ওপর হামলার ঘটনায় তিনি আইনি ব্যবস্থা নেবেন।

নারায়ণগঞ্জ পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছে, গত মঙ্গলবারের ঘটনার পুরো ভিডিও ফুটেজ তারা সংগ্রহ করেছে। তাছাড়া গণমাধ্যমে প্রকাশিত-অপ্রকাশিত স্থিরচিত্রও তাদের সংগ্রহে রয়েছে। এসব ভিডিও ও স্থিরচিত্র দেখে মোটামুটি ১২ জন অস্ত্রধারীকে চিহ্নিত করা হয়েছে। ঘটনার জন্য কোন পক্ষ দায়ী, তৃতীয় পক্ষের কোনো ইন্ধন রয়েছে কি-না এবং মেয়রের পদযাত্রায় যারা ছিলেন তাদের কর্মকাণ্ডও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। মেয়র আইভীকে কারা চাষাঢ়ার দিকে এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করেছেন তাদের ব্যাপারেও খোঁজ নিচ্ছে পুলিশ। তবে বিষয়গুলো এতটাই গোপনীয়তা রক্ষা করে হচ্ছে যে তা দৃশ্যমান নয়।

সূত্রটি জানায়, গত মঙ্গলবারের ঘটনার পর বিষয়টি পুলিশ হেডকোয়ার্টার থেকেও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কেন্দ্র থেকে যে দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে জেলা পুলিশ সেভাবেই কাজ করছে। সবচেয়ে বড় বিষয়, সরকারদলীয় দুই জনপ্রতিনিধির এ ধরনের প্রকাশ্যে দ্বন্দ্বে বিব্রত নারায়ণগঞ্জ পুলিশ প্রশাসন। সংসদ সদস্য শামীম ওসমান ও মেয়র আইভী উভয়েই নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে প্রভাবশালী এবং কেন্দ্রের রাজনীতিতে সুপরিচিত।

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ‘ক’ অঞ্চল শরফুদ্দিন সমকালকে বলেন, গত মঙ্গলবারের ঘটনায় কোনো পক্ষই এখনও মামলা করেনি। তাছাড়া নিয়াজুল নামে যে ব্যক্তির লাইসেন্স করা অস্ত্রটি ঘটনার দিন ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল তা এখনও উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। তবে পুলিশের অভিযান ও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।