১৪৮ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দেবে উবার

প্রকাশিত

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ডেস্ক :গ্রাহকদের তথ্য সুরক্ষায় ব্যর্থতার মামলায়, সমঝোতা করতে ১৪৮ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপরণ দিতে যাচ্ছে অ্যাপভিত্তিক গাড়ি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান উবার। এ ঘটনা কোম্পানিটির জন্য যেমন বিব্রতকর, তেমনি ব্যয়বহুল।

ক্ষতিপূরণ প্রদানের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি রাজ্যে এবং ওয়াশিংটন ডিসির সঙ্গে উবারের দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের অবসান ঘটতে যাচ্ছে। ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষায় ব্যর্থতার ক্ষতিপূরণের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এটিই সর্বোচ্চ পরিমাণের ক্ষতিপূরণ আদায়।

২০১৬ সালে হ্যাকিংয়ের শিকার হয় উবার। ৫ কোটি ৭০ লাখ উবার ব্যবহারকারীর তথ্য হাতিয়ে নিয়েছিল হ্যাকাররা, যার মধ্যে ৬ লাখ উবার চালকের লাইসেন্স নম্বরও ছিল। গ্রাহকদের তথ্য সুরক্ষা দিতে ব্যর্থতার এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যে, অস্ট্রেলিয়া এবং ফিলিপাইনে ব্যাপক চাপের মুখে পড়ে উবার। তথ্য চুরির শিকার হওয়া প্রায় ৬ কোটি উবার ব্যবহারকারীর অর্ধেকই যুক্তরাষ্ট্রের।

এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রে ১০ মাস ধরে তদন্ত চলে উবারের বিরুদ্ধে। দেশটির বিভিন্ন রাজ্যে চলা মামলার নিষ্পত্তিতে সমঝোতা করতে অবশেষে ১৪৮ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে রাজি হয়েছে উবার। নিষ্পত্তির শর্তাবলীর মধ্যে উবারের ব্যবসায়িক ও কর্পোরেট নীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন এবং ভবিষ্যতে গ্রাহক তথ্যসুরক্ষা নিশ্চিত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আগামী দুই বছরের জন্য উবারকে প্রতি তিন মাস পর পর যুক্তরাষ্ট্রকে তথ্যসুরক্ষা সংক্রান্ত প্রতিবেদন দিতে হবে এবং উবারের পরিচালনা পর্ষদের তদারকিতে তথ্য নিরাপত্তা কর্মসূচি চালু করতে হবে।

উবারের প্রধান আইনি কর্মকর্তা টনি ওয়েস্ট বলেন, ‘আমরা জানি যে, আমাদের গ্রাহকদের বিশ্বাস অর্জন করা এবং বিশ্বব্যাপী আমরা যে নিয়ন্ত্রকদের সঙ্গে কাজ করি তা কোনো সহজ কাজ নয়। আমাদের গ্রাহকদেরকে এবং তাদের তথ্য নিরাপদ রাখতে সুরক্ষাপ্রযুক্তিতে আমরা বিনিয়োগ চালিয়ে যাব এবং বিশ্বজুড়ে সরকারগুলোর সঙ্গে গঠনমূলক এবং সহযোগী সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

উবারের সাবেক প্রধান নির্বাহী ট্রাভিস কালানিক দায়িত্ব থাকাকালীন সময়ে ২০১৬ সালে হ্যাকারদের কবলে পড়েছিল উবার। হ্যাকারদের হাতে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ফাঁস হওয়া ঠেকাতে সেসময় বাগ বাউন্টি প্রোগ্রামের আওতায় হ্যাকারদের এক লাখ মার্কিন ডলার অর্থ পরিশোধ করে কোম্পানিটি। পাশাপাশি হ্যাকিংয়ের ঘটনাটি গ্রাহক ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কর্তৃপক্ষের কাছে প্রকাশ না করে চেপে যায়। বিষয়টি ২০১৭ সালের নভেম্বরে ফাঁস করেন উবারের নতুন প্রধান নির্বাহী দারা খোশরোশাহি এবং দায়িত্ব অবহেলার জন্য দুজন শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে বরখাস্তও করেন।

ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল জাভিয়ার বেসাররা বলেন, ‘এই ঘটনা ঢেকে রাখার উবারের সিদ্ধান্তটি জনসাধারণের বিশ্বাসের লঙ্ঘন ছিল। যা উবারের কর্পোরেট নীতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় এবং ইচ্ছাকৃতভাবে আইন ভঙ্গের শামিল।’

শিকাগো এবং লস অ্যাঞ্জেলেসে উবারের বিরুদ্ধে এ সংক্রান্ত মামলা এখনো বিচারাধীন রয়েছে।

তথ্যসূত্র : ডেইলি মেইল