২৪ ঘন্টার সেবিকা তিনি !

প্রকাশিত

আলফাজ সরকার আকাশ,শ্রীপুর (গাজীপুর)-
মানবসেবাই পরম ধর্ম,সেবার মাঝেই সৃষ্টির মর্ম- এমন ধারণায় আত্মবিশ্বাসী হয়ে নিজের জীবনের উর্দ্ধে রোগীকে সেবা দিয়ে আসছেন, মানুষের প্রয়োজনে ২৪ঘন্টার সেবাদাত্রী তিনি। রোগীদেরকে নিজের পরিবারের সদস্য বানিয়ে তাদের জন্যই জীবনের সব চাওয়া পাওয়া তার। কমিউনিটি ক্লিনিকের অন্যান্য সেবা দানকারীর মতো সরকারি নির্ধারিত সময়ে শুধু তার সেবা সীমিত নয়। মধ্য রাতেও কোন প্রসূতি মায়ের ডেলিভারির ব্যাথার ডাক পেলে পাশে থাকেন তিনি। কয়েক শত নরমাল ডেলিভারি করিয়ে এভাবেই ২৪ ঘন্টার সেবিকা গাজীপুর জেলার শ্রীপুরের সিএইচসিপি মাহফুজা আক্তার।
৭ এপ্রিল মঙ্গলবার তার নিজের কর্মস্থল কেওয়া পূর্বখন্ড হারিছ উকিল কমিউনিটি ক্লিনিকে কথা হয় তার সাথে। মাহফুজা আক্তার (৪০) পৌর এলাকার ১নং ওয়ার্ড শ্রীপুর গ্রামের নূরে আলম শাহীনের স্ত্রী। তিনি সিএসবিএ প্রশিক্ষণ নিয়ে ৯ বছর ধরে কমিউনিটি হেলথ্ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি)-এর দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
সেবাদাত্রী মাহফুজার স্বামী নূরে আলম শাহীন জানান, এক কোরবানি ঈদের রাত সাড়ে বারোটা। তখন আমি অসুস্থ ছিলাম। এমন সময় কেওয়া গ্রাম থেকে একটি ফোন আসলো। দিনমজুর পরিবারের ঋতু নামের এক মা প্রসব ব্যাথায় কাতরাচ্ছিলেন। এ সংবাদ পেয়ে আমাকে এমন অবস্থায় রেখেও ওই মায়ের নরমাল ডেলিভারি করিয়েছিলেন মাহফুজা। যাওয়ার সময় আমাকে বললো, “জ্বরে তুমি এখনো নিজেকে নিজেই সামলে নিতে পারবা। কিন্তু ওই প্রসূতি মায়ের এমন সময়টা খুবই কষ্ট ও একার। যা পুরুষ হয়ে তুমি বুঝতে পারবে না”। যা-ই হোক তাকে নিয়ে আমি গর্বিত।
শ্রীপুর উপজেলা সিএইচসিপি এসোসিয়েশনের সভাপতি জহিরুল ইসলাম জানান, করোনার এই জাতীয় সংকটে মাহফুজা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে, ২৪ ঘন্টা কমিউনিটি ক্লিনিকে থেকে সচেতনতা মূলক পরামর্শ ও চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। তাকে নিয়ে আমরা গর্ববোধ করতে পারি। তিনি আরও জানান, শ্রীপুর উপজেলার ৫২টি কমিউনিটি ক্লিনিকে সীমিত আকারে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত রোগীদের প্রাথমিক সেবা দিয়ে যাচ্ছে সিএইচসিপিরা। তাছাড়া উপজেলার গজারিয়া কমিউনিটি ক্লিনিকে প্রসূতি মায়েদের স্বাস্থ্য পরামর্শ ও নরমাল ডেলিভারি অব্যাহত রয়েছে।
শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডাঃ ফাতেহ্ আকরাম দোলন জানান, মাহফুজা সিএসবিএ প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত একজন দক্ষ সিএইচসিপি। কমিউনিটি ক্লিনিকে ৫০-১০০ জন সাধারণ রোগীদের প্রাথমিক সেবা দিয়ে থাকেন তিনি। আমার জানা মতে, প্রসূতি মায়েদের নরমাল ডেলিভারিতে তিনি খুবই অভিজ্ঞ। নিজের দায়িত্বরত ক্লিনিকে স্বাভাবিক প্রসব করিয়ে থাকেন। এছাড়াও কোন মা যদি ক্লিনিকে আসতে না পারেন তবে বাসায় যেয়ে নরমাল ডেলিভারি করিয়ে দেন তিনি ।