৩২ ধারা– মরিচ ছোট, ঝাল বেশি

প্রকাশিত

জহিরুল আলম পিলু : একদিন এক চোর এক গৃহে চুরি করতে গেছে। চোরটি ঘরে ঢুকে বীরদর্পে বিনা বাঁধায় সব মালামাল গুছিয়ে বেরিয়ে গেল। আর গৃহকর্তা জেগে জেগে চোরের এসব দৃশ্য দেখল। কিন্ত চিৎকার বা চোরকে ধরার জন্য কোন চেষ্টাও করলনা। এমনকি কাউকে একথা বলেওনি। কিন্ত পুলিশ যেভাবেই হোক খবর পেয়ে বাড়িতে এসে গৃহকর্তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, আপনার বাড়ীতে নাকি চুরি হয়েছে? গৃহকর্তা বললেন, জ্বী স্যার। আপনি কি দেখেছেন? গৃহকর্তা বললেন-জ্বী স্যার। তাকে চেনেন? গৃহকর্তার উত্তর-চিনি স্যার। ঘটনাটা কিভাবে ঘটল বলুনতো? গৃহকর্তা পুলিশের দারোগাকে বললেন, স্যার এব্যাপারে আমি মুখ খুলতে পারবো না অর্থাৎ কিছু বলতে পারবো না। আমাকে মাফ করে দেন। তখন দারোগা সাহেব গৃহকর্তাকে উচ্চস্বরে বললেন, আপনাকে বলতে হবে কিভাবে চোর ঘরে এলো, চুরি করল ও নিরাপদে চলে গেল। তখন গৃহকর্তা বললেন, স্যার আমি চোরকে ঘরে ঢুকতে দেখেছি, কিভাবে জিনিষপত্র বের করল তা-ও দেখেছি- দারোগা তখন গৃহকর্তাকে বলল-তাহলে আপনি চিৎকার দিলেন না কেন? গৃহকর্তা-আমি ভাবছিলাম, ‘দেখি চোর কি করে।’ দারোগা তারপর? গৃহকর্তা- এরপর চোরটি সবকিছু নিয়ে দরজা দিয়ে চলে গেল। দারোগা-তারপর আপনি কি করলেন? আমি জানালা খুলে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখলাম, চোরটি চলে গেল। তারপর? গৃহকর্তা- আমি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখলাম আর ভাবলাম ‘দেখি কি করে।’ দারোগা অনেকটা বিরক্ত হয়ে গৃহকর্তাকে বললেন-রাখেন আপনার ‘দেখি কি করে।’ চোর চুরি করে চলে গেল, আর আপনি চেয়ে চেয়ে নীরব ও বোবার মত সবকিছু দেখলেন। এছাড়া আপনি চোরকে ধরলেন না, চিৎকার দিলেন না এমনকি কাউকে জানালেন না – নিশ্চয়ই এরমধ্যে আপনার কোন রহস্য আছে। তাড়াতাড়ি বলুন,তা-না হলে–। এক পর্যায়ে গৃহকর্তা অনেক ভীতস্বরে দারোগাকে বললেন, আমিতো বলতে চেয়েছিলাম।  কিন্ত ৩২ ধারা  ! এটাইতো আমাকে বোবা ও নীরব বানিয়েছে। সাংবাদিকরা সাবধান ! ৩২ ধারা আমাদের লিখনি থামিয়ে দিতে চাচ্ছে। ঘুষ খেলে, চুরি বা দূর্নীতি করলে দেখেও বোবা ও নীরব থাকতে হবে। আর এরা বীরদর্পে চালিয়ে যাবে তাদের অনৈতিক কার্যকলাপ। কিন্ত সত্য কথা সাংবাদিকরা তুলে ধরলেই যেতে হবে জেলে ও গুনতে হবে মোটা অঙ্কের অর্থদন্ড। তাহলে সাংবাদিকরা কি দূর্নীতিবাজ, ঘুষখোরদের নিয়ে রচনা লিখা ছাড়া কোন কাজই থাকবেনা।