৪৫.৫৫.৫৬.৫৭ ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীদের প্রধান চ্যালেঞ্জ জলাবদ্ধতা,মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত ওয়ার্ড গঠন

প্রকাশিত

মৃণাল চৌধুরী সৈকত :-
গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা উৎসবমুখর পরিবেশে মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে। ভোটারদের দুয়ারে দুয়ারে গিয়ে নিজেকে যোগ্য প্রার্থী দাবি করে ও নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন প্রার্থীরা। গত কয়েকদিন প্রতিটি ওয়ার্ডে মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীসহ তাদেদের কর্মী-সমর্থকদের পদচারণায় ছিলো মুখর।
৫৭টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত গাজীপুর সিটি করপোরেশন এলাকায় ব্যবসা-বাণিজ্যের দিক থেকে অন্যতম টঙ্গী বাজার এলাকার ৫৭ নম্বর ওয়ার্ড। একই সঙ্গে সন্ত্রাস ও মাদকের সমস্যাও এ এলাকার একটি বড় সমস্যা। এ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থীদের তাই প্রধান চ্যালেঞ্জ সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত ওয়ার্ড গঠন। এই ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট ৫ জন। যাদের মধ্যে ৪ জন আওয়ামী লীগের ও ১জন বিএনপির। তবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে আওয়ামী লীগের ৩ প্রার্থীর মধ্যে। ৫৭ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান কাউন্সিলর গিয়াস উদ্দিন সরকার (টিফিন ক্যারিয়ার প্রতীক), সাবেক কমিশনার এবং আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আজাহার উদ্দিন (মিষ্টি কুমড়া প্রতীক) ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা কাজী মোহাম্মদ সেলিমের (লাটিম প্রতীক)।
অন্য প্রার্থীরা হলেন আওয়ামীলীগ টঙ্গী থানা সমাজকল্যাণ সম্পাদক ও সাবেক কমিশনার নজরুল ইসলাম (ঠেলাগাড়ি প্রতীক) ও থানা যুবদলের সভাপতি সুরুজ্জামান মাস্টার (ঘুড়ি প্রতীক)। এসব প্রার্থীদের মধ্যে গিয়াস উদ্দিন সরকার ও আজাহার উদ্দিনের মধ্যে জয়ের সম্ভবনা রয়েছে বলে ধারনা করা হচ্ছে।
সংরক্ষিত ৫৫, ৫৬, ৫৭ নং ওয়ার্ডে মহিলা প্রার্থী ৪ জন। তারা হলেন বর্তমান কাউন্সিলর রাখি সরকার (চশমা প্রতীক) রাশিদা বেগম (আনারস প্রতীক), শিরিন শহিদ (অ্যারোপ্লেন প্রতীক ) ও শাহিনুর বেগম (জিপগাড়ি প্রতীক)। তাদের মধ্যে ৩ জন আওয়ামী লীগ সমর্থক। রাখি সরকার এই তিন ওয়ার্ড থেকে গত ৪ বারের নির্বাচিত কাউন্সিলর। বাকি তিনজন নতুন প্রার্থী। তাদের মধ্যে প্রতিদ্বন্ধিতা হবে ২ জনের রাখি সরকার ও রাশিদা বেগমের তবে এবারও জয়লাভের সম্ভাবনা রয়েছে রাখি সরকারের। সিটির অন্যান্য এলাকার সঙ্গে একযোগে ভোট নেয়া হবে ৫৭ নং ওয়ার্ডের ৭টি কেন্দ্রে।
অন্যদিকে ৫৬ নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট ৪ জন। এই ওয়ার্ডে ৩ জন আওয়ামী লীগের ও ১ জন বিএনপির। এখানে ৪ জনের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে ৪ জনের মধ্যে। তবে জয়ের সম্ভবনা রয়েছে আওয়ামীলীগের বর্তমান কাউন্সিলর আবুল হোসেন (ঘুড়ি প্রতিক)। এছাড়া লড়াইয়ে থাকবেন বিএনপির গাজী আমান (ঠেলাগাড়ি প্রতীক) এছাড়া তাঁতীলীগের শাহ আলম (টিফিন ক্যারিয়ার প্রতীক) এবং আওয়ামীলীগের মফিজ উদ্দিন (লাটিম প্রতীক) এর মধ্যে প্রতিদ্বন্ধিতা হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। তবে আবুল হোসেন ও গাজী আমানের মধ্যে বিজয়ের সম্ভবনা বেশী বলে ধারনা স্থানীয় ভোটারদের।
অপরদিকে ৫৫ নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দিতা করছেন মোট ৫ জন। আওয়ামীলীগের ৩ জন এবং বিএনপির ২ জন। তারা হলেন, আওয়ামীলীগের বদিউজ্জামান বদি (টিফিন ক্যারিয়ার প্রতীক), দেলোয়ার হোসেন (লাটিম প্রতীক), আনোয়ার হোসেন এলো (ঘুড়ি প্রতিক) এবং বিএনপির বর্তমান সফল কাউন্সিলর সার্জেন্ট (অব:) সেলিম হোসেন (রেডিও প্রতিক) ও আবুল হাসেম (ঠেলাগাড়ি প্রতীক)। এদের মধ্যে সেলিম হোসেনের সাথে আবুল হাসেম ও বদিউজ্জামান বদির হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলে এলাকাবাসীর ধারনা।
এছাড়াও ৪৫ নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী রয়েছে মোট ৪ জন। তাদের মধ্যে আওয়ামীলীগের ৩ জন ও বিএনপির ১ জন প্রার্থী রয়েছে। তারা হলেন আওয়ামীলীগের বর্তমান কাউন্সিলর শাহ আলম রিপন (ঘুড়ি প্রতিক), ঈসমাইল হোসেন বাবু (লাটিম প্রতীক), ও গাজী সালাউদ্দিন (টিফিন ক্যারিয়ার প্রতীক), এবং বিএনপির মোখলেছুর রহমান (ঠেলাগাড়ি প্রতীক)। ৪ প্রার্থীর মধ্যে আওয়ামীলীগের ৩ প্রার্থী বর্তমান কাউন্সিলর শাহ আলম রিপন ও সাবেক কমিশনার ঈমাইল হোসেন বাবুসহ গাজী সালাউদ্দিনের মধ্যে দলীয় ভোটের ভাগাভাগীর ফলে বিএনপির মোখলেছুর রহমানের জয় অনেকটাই নিশ্চিত বলে ধারনা করছেন শ্রমিক অদ্যুষিত এলাকার ভোটাররা। এছাড়া ৬ জন সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থীও রয়েছেন এ ওয়ার্ডে। তারা হলেন সাহেরা আক্তার মৌসুমী (জিপ গাড়ী প্রতীক), ফেরদৌসী জামান ফিরু ( চশমা প্রতীক), মমতাজ বেগম (আলমারী প্রতীক), শামীমা খানম বেবী (হেলিকপ্টার প্রতীক), পারুল খান (আনারস প্রতীক), নাজমা উসলাম রানী (বই প্রতীক)। এদের মধ্যে সাহেরা আক্তার মৌসুমী ও ফেরদৌসী জামান ফিরুর মধ্যে একজন বিজয় চিনিয়ে আনবেন বলেও ধারনা এলাকাবাসীর।
স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নগরীর অন্যান্য ওয়ার্ডের চেয়ে এই ৪ টি ওয়ার্ডে সবচেয়ে বেশি কাউন্সিলর প্রার্থী। ভোটাররা প্রার্থীদের ইশতেহার এবং অতীত ও বর্তমান কর্মকান্ড নিয়ে বিচার-বিশ্লেষণ করছেন। কাকে নির্বাচিত করলে এলাকার মাদক. সন্ত্রাস নির্মূল, জলাবদ্ধতা নিরশনসহ সামাজিক এবং এলাকার উন্নয়ন হবে।
এলাকাবাসীর মতে, এই ওয়ার্ডগুলোর মূল সমস্যা মাদক ব্যবসা। ভোটারদের দাবী, প্রার্থীদের মধ্যে যিনি ওয়ার্ডের মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, গার্মেন্টস শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা দিতে পারবে তাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন তারা।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, ৫৭ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যে মাজার বস্তিটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয়দের কাছে মাদকের হাট বলে পরিচিত। ভোটারদের দাবি, এই মাদক পল্লিটি দীর্ঘ দুই যুগ ধরে চলে এলেও স্থানীয় প্রশাসন বস্তিতে মাদক বন্ধের তেমন কোনো উদ্যোগ নেয়নি। বর্তমান কাউন্সিলর গিয়াস উদ্দিন সরকার নির্বাচিত হওয়ার পর প্রশাসনের সহায়তায় মাদক নিয়ন্ত্রণে বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু কতিপয় নেতা-কর্মীদের আশ্রয়ে ও প্রশাসনের সহযোগিতায় বস্তিতে গোপনে মাদক বেচাকেনা চলে। মাদকের কারণে এলাকায় প্রতিনিয়ত চুরি, ছিনতাইসহ বড় বড় অপরাধ সংঘটিত হয়।
কাউন্সিলর প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন সরকার বলেন, ‘আমি গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে গতবার বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়ে এলাকার সড়ক ব্যবস্থা সংস্কার করে মানুষের চলাচলের উপযোগী করে তুলেছি। মাজার বস্তির প্রভাবশালী কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ীকে আইনের হাতে তুলে দিয়েছি এবং মাদকের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়েছি। তাই ভোটাররা এবারও আমাকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করবেন বলে আমি আশাবাদী।
অপর কাউন্সিলর ৫৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী ও বর্তমান কাউন্সিলর আবুল হোসেন দাবি করেন, টঙ্গী পৌরসভার কমিশনার এবং সিটি করর্পোরেশনের কাউন্সিলর হওয়ার পর স্থানীয় লোকজনের সহযোগীতায় আজও অবধি আমার এলাকাটি সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত রেখেছি। এলাকায় অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করেছি। তিনি বলেন, আমি এলাকায় কাজ করে থাকলে এলাকার ভোটাররা এবার আমাকেই ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবে।
প্রার্থীরা নির্বাচনের আগে উন্নয়ন ও সেবার প্রতিশ্রুতি দেয় কিন্তু নির্বাচিত হওয়ার পর আর কথা রাখে না- এমন এক প্রশ্নের জবাবে ৪৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী বিএনপির মোখলেছুর রহমান বলেন, আমি জয়লাভ করলে আমার প্রত্যেকটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করব। মাদকের বিষয়ে তিনি বলেন, মাদক একটি সামাজিক ব্যাধি। এটা কারও একার পক্ষে নির্মূল করা সম্ভব নয়। তবে এই ওয়ার্ডে মাদক নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য আমি সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাব। তাছাড়া সন্ত্রাস, চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে আমার অবস্থান সব সময় ছিলো আগামীতেও থাকবে। আর নীরিহ ও দরিদ্র গার্মেন্টস কর্মী ও ব্যবসায়ীদের জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নসহ শিক্ষা বিস্তারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবো ইনশাল্লাহ। একই কথা বলেন, ৫৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী ও বর্তমান বিএনপি সমর্থিত কাউন্সিলর সার্জেন্ট (অব:) সেলিম হোসেন।
পৌরসভায় ৩ বার ও সিটি করপোরেশনে ১ বার বিজয়ী কাউন্সিলর রাখি সরকার জানান, ৪ বারই আমি বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছি। এবারও ভোটাররা আমাকে ভোট দিয়ে তাদের সেবা করার সুযোগ দেবেন।
##