৪৭ সালে প্রতিষ্ঠিত পাকিস্তান কখনই বঙ্গবন্ধুর রাষ্ট্র ভাবনায় ছিল না-উপাচার্য ড. হারুন-অর-রশিদ

প্রকাশিত

প্রধান সম্পাদক :
আজ ১৪ই আগস্ট ২০১৮ মঙ্গলবার বিকেল ৪:৩০ টায় বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটির মিলনায়তনে সোসাইটির মাসিক সভায় জাতীয় বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. হারুন-অর-রশিদ ‘পাকিস্তান আন্দোলন, বাঙালির রাষ্ট্রভাবনা ও বঙ্গবন্ধু’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে বলেন, “বাংলায় মুসলিম লীগ ও পাকিস্তান আন্দোলনের মূলভিত্তি ছিল আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক, ধর্মবিশ^াস নয়। ধর্ম এক পর্যায়ে রাজনৈতিক মোবিলাইজেশনে ব্যবহৃত হয় মাত্র। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনাধীন ১৭৯৩ সালের লর্ড কর্নওয়ালিসের চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত বা জমিদারি ব্যবস্থা প্রবর্তন ও এর ফলে বাংলার সমাজ-অর্থনীতিতে ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক ধারায় বিভাজন না ঘটলে বাংলা কখনো বিভক্ত হতো না। মুসলিম লীগ/পাকিস্তান আন্দোলন পর্বেও হিন্দু জমিদার-মহাজনদের পাশাপাশি অবাঙালি মুসলিম নেতৃত্বের নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধেও বাঙালি মুসলমানদের মধ্যে ক্ষোভ-অসন্তোষ বিদ্যমান ছিল। বাঙালির জাতির পিতা ও স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পাকিস্তান আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা ছিল বটে, তবে ৪৭ সালে প্রতিষ্ঠিত পাকিস্তান তাঁর রাষ্ট্রভাবনায় ছিল না। তাঁর ভাবনায় ছিল পূর্ব ভারতে (বর্তমান বাংলাদেশ ও তৎসংলগ্ন অঞ্চল) একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। এর পরিবর্তে ১৯৪৭ সালে হাজার মাইলেরও অধিক ব্যবধানে অবস্থিত ভারতের দুটি অংশ নিয়ে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠিত হলে রাষ্ট্রভাষার প্রশ্নকে ধারণ করে শুরু থেকেই পাকিস্তান রাষ্ট্রে তাঁর নেতৃত্বে বাঙালির জাতীয় মুক্তির সংগ্রাম নতুন আঙ্গীকে গড়ে ওঠে। ১৯৭১ সালে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় এরই চূড়ান্ত পরিণতি। বস্তুত স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পেছনে রয়েছে বাঙালির আত্মপরিচয় প্রতিষ্ঠার অন্তত হাজার বছরের আন্দোলন-সংগ্রাম-স্বপ্ন। এক দীর্ঘ ঐতিহাসিক পথপরিক্রমা শেষে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বেই এ স্বপ্নের পূরণ। তাই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলেন বাঙালির ইতিহাসের মহানায়ক ও সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি আর বাংলাদেশ তাঁর অমর র্কীতি।”
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটির সহ-সভাপতি অধ্যাপক মেজবাহ উস সালেহীন সভাপতিত্ব করেন।
##