৬ মাস সাগরে ভেসে বাংলাদেশ থেকে ইন্দোনেশিয়ায় ২৯৭ রোহিঙ্গা

প্রকাশিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক-

ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশে নেমেছে প্রায় ৩০০ রোহিঙ্গা শরণার্থী। একটি কাঠের নৌকায় করে ছয় মাস তারা সাগরের বুকে ভেসেছে বলে কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছে। এক এনজিও কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ইন্দোনেশিয়ায় নামা এসব রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিরুদ্দেশ যাত্রা শুরু হয়েছিল বাংলাদেশ থেকে।

আচেহ প্রদেশের পুলিশ বলেছে, সুমাত্রার উত্তরে অবস্থিত লোকসিউমাবের উপকূল থেকে কয়েক মাইল দূরে রোহিঙ্গাদের বহনকারী কাঠের নৌকা শনাক্ত করেন স্থানীয় জেলেরা। ওই নৌকায় ১৪ শিশুসহ ২৯৭ জন ছিলেন।

রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে কাজ করা এনজিও আরাকান প্রজেক্টের পরিচালক ক্রিস লেবা বলেছেন, ২০১৫ সালের পর ইন্দোনেশিয়ায় একসঙ্গে এটাই সর্বাধিক রোহিঙ্গা আগমনের ঘটনা। তিনি আরও জানান, মার্চের শেষ কিংবা এপ্রিলের শুরুতে বাংলাদেশ থেকে পাড়ি জমান এই শরণার্থীরা। তাদের উদ্দেশ্য ছিল মালয়েশিয়ায় যাওয়ার। কিন্তু করোনা বিধিনিষেধের কারণে মালয়েশিয়ান ও থাই কর্তৃপক্ষ তাদের ফিরিয়ে দেয়।

এছাড়া পাচারকারীরাও তাদের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। অর্থ চেয়ে তাদের বন্দি করে রেখেছিল তারা। ইন্দোনেশিয়ায় নামা এই রোহিঙ্গাদের একজনের অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের কো-অর্ডিনেটর ওকটিনা বলেছেন, ‘আমরা দেখতে পেয়েছি তাদের শারীরিক অবস্থা এই মুহূর্তে খুবই দুর্বল।’

স্থানীয়রা তাদের খাবার ও কাপড় দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন আইশা নামের এক বাসিন্দা, ‘তাদের অবস্থা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। তাদের মানবিক সহায়তা প্রয়োজন, তারাও আমাদের মতো মানুষ।’

এর আগে গত জুনে শতাধিক রোহিঙ্গা মুসলমানকে উদ্ধার করেছিল আচেহ প্রদেশের জেলেরা। ওই দলে ৪৯ জন নারী ও ৩০টি শিশু ছিল। প্রথম দিকে ইন্দোনেশিয়ার সরকার এসব রোহিঙ্গা মুসলমানকে দেশে ফেরত পাঠানোর হুমকি দিয়েছিল।

এ পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে আটশ জনের মতো রোহিঙ্গা ইন্দোনেশিয়ায় গেছে বলে জানান লেবা। এছাড়া ৩০ জন মারা গেছেন বলে যোগ করেছেন তিনি।

Be the first to write a comment.

Leave a Reply