প্রকাশিত

প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করে শত শত রোহিঙ্গা শরণার্থী বিক্ষোভ করেছে। মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগেই শুক্রবার বিক্ষোভ করেন মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে স¤প্রতি একটি চুক্তি করেছে মিয়ানমার। চুক্তি অনুযায়ী, সপ্তাহে ১৫০০ জন রোহিঙ্গাকে ফেরত নেবে দেশটি। মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে ফিরে যাওয়া আগে শ্লোগান দিয়ে, হাতে ব্যানার নিয়ে বিক্ষোভে অংশ নেয়া রোহিঙ্গারা নাগরিকত্ব এবং তাদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা চেয়েছে। মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর জন্য চুক্তি হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ায় রোহিঙ্গাদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। তারা বলছেন, মিয়ানমারে তাদের নাগরিকত্ব, বসতভিটা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করে তাদের ফেরত যাওয়ার পরিবেশ এখনও তৈরি হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে তারা ফিরতে চাইছেন না। এদিকে জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক সংস্থাও মনে করছে, রোহিঙ্গাদের মৌলিক অধিকারগুলো নিশ্চিত না হলে তাদের মিয়ানমারের ফেরত পাঠানো ঠিক হবে না। রয়টার্স ও বিবিসি’র প্রতিবেদনে বলা হয়, রোহিঙ্গাদের মাতৃভূমি রাখাইন রাজ্যে ফেরত পাঠানোর জন্য চূড়ান্ত প্রস্তুতির মধ্যেই নাগরিকত্বের অধিকার, হত্যা-ধর্ষণ-লুটপাটের বিচারসহ কয়েক দফা শর্ত নিয়ে সামনে আসার পরিকল্পনা করছেন কক্সবাজারের ক্যাম্পে থাকা রোহিঙ্গা নেতারা। রয়টার্স জানিয়েছে, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সফল করতে যে বিপুল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে, রোহিঙ্গাদের এই শর্ত ও দাবিনামা তার একটি নমুনা। এ দিকে ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে একদল রোহিঙ্গা গত শুক্রবার কক্সবাজারের একটি শরণার্থী শিবিরে বিক্ষোভ করেছে। কুতুপালং শরণার্থী শিবিরের একটি বøকে এই বিক্ষোভে শতাধিক শরণার্থী অংশ নেন। বিক্ষোভকারীরা মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর আগে সেখানে জাতিসংঘের তত্ত¡াবধানে একটি নিরাপদ এলাকা গড়ে তোলার দাবি জানান। বিক্ষোভকারীদের সামনে ছিল ইংরেজিতে লেখা একটি ব্যানার। এতে ছয়টি দাবি তুলে ধরা হয়। তবে স্থানীয় সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, রোহিঙ্গাদের এ ধরনের বিক্ষোভের কোনো তথ্য তাদের জানা নেই। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ছয়জন রোহিঙ্গা নেতা বার্মিজ ভাষায় হাতে লেখা একটি স্মারকলিপির খসড়া তৈরি করেছেন।