মাহমুদউল্লাহর ব্যাটে চড়ে বাংলাদেশের ৫১৩

প্রকাশিত

নিউজ চট্টগ্রাম থেকে :টেস্ট ক্রিকেটে সপ্তমবারের মতো পাঁচশর বেশি রান করল বাংলাদেশ।

সম্ভাবনা জাগিয়েও হলো না মাহমুদউল্লাহর সেঞ্চুরি। মুস্তাফিজুর রহমান শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হওয়ায় ৫১৩ রানে শেষ বাংলাদেশের ইনিংস। মাহমুদউল্লাহ নট আউট ৮৩ রানে।

অধিনায়কত্বের অভিষেকে মাহমুদউল্লাহর সামনে হাতছানি ছিল বিরাট কীর্তি গড়ার হাতছানি। কিন্তু হতে হতেও হলো না। সেটাও সঙ্গীর অভাবে। টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে মাত্র ৩০ ক্রিকেটার নিজেদের অধিনায়কত্বের অভিষেক ম্যাচে পেয়েছিলেন সেঞ্চুরি। সেখানে ক্লাইভ লয়েড, গ্রেগ চ্যাপেল এবং সুনীল গাভাস্কারের মতো তারকারও আছেন। সঙ্গীর অভাবে মাহমুদউল্লাহ বসতে পারেননি এলিট ক্লাবে। যদিও দ্বিতীয় ইনিংসে এ ক্লাবে নাম লেখানোর সুযোগও রয়েছে তার।

অধিনায়কের ১৩৪ বলে ৭ চার ও ২ ছক্কায় সাজানো ইনিংসটি বাংলাদেশকে নিয়ে গেছে পাঁচশর চূড়ায়। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে যা বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এবং চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ। মাহমুদউল্লাহকে শেষ উইকেটে সঙ্গ দিয়েছিলেন মুস্তাফিজুর রহমান। হেরাথের বলে তাইজুল (১) বোল্ড হওয়ার পর মুস্তাফিজ ব্যাটিংয়ে আসেন। ৯.৩ ওভারের জুটিতে ২১ বল খেলেন মুস্তাফিজ। রান করেন ৮। পরিকল্পনামতো বেশিরভাগ বলই খেলেছিলেন মাহমুদউল্লাহ। কিন্তু লাকমালের বাউন্সারে হঠাৎ পথ হারিয়ে আউট মুস্তাফিজ।

৪ উইকেটে ৩৭৪ রান নিয়ে আজ দ্বিতীয় দিন শুরু করা বাংলাদেশ প্রথম ঘণ্টায় হারায় ৩ গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। আগের দিনের ১৭৫ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামা মুমিনুল হক ১ রান যোগ করে আউট হন হেরাথের বলে শর্ট লেগে ক্যাচ দিয়ে। মোসাদ্দেক লাকমালের বলে বাউন্ডারি মেরে রানের খাতা খুললেও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। হেরাথের বলে এগিয়ে এসে মারতে গিয়ে লং অনে ক্যাচ দেন ৮ রানে।

মেহেদী হাসান মিরাজকে নিয়ে ২৭ রানের জুটি গড়ে আশা দেখিয়েছিলেন মাহমুদউল্লাহ। কিন্তু ভুল এক ডাকে রান আউটে কাটা পড়ে মিরাজের ২০ রানের ইনিংসের ইতি ঘটে। মিরাজকে হারিয়ে মাহমুদউল্লাহ অনেকটাই একা হয়ে যান। কিন্তু অভিষিক্ত সানজামুল তাকে সঙ্গ দিতে দাঁড়িয়ে যান।

মধ্যাহ্ন বিরতির আগে আর কোনো উইকেট পড়তে দেননি তারা। দুজন অষ্টম উইকেটে গুরুত্বপূর্ণ ৫৮ রান স্কোরবোর্ডে যোগ করেন। বিরতিপর পর সান্দাকানের লেগ স্টাম্পের বাইরে বেরিয়ে যাওয়া বলে শট খেলতে গিয়ে টাইমিংয়ে গড়মিল করে ফেলেন সানজামুল। বল মিস করে এগিয়ে যান ক্রিজ থেকে। উইকেটরক্ষক ডিকাভেলা বল তালুবন্দি করে স্টাম্পিং করতে সময় নেননি।

হেরাথের তৃতীয় শিকারে পরিণত হন তাইজুল। বলের লাইন মিস করে বোল্ড হন তাইজুল। এরপর মুস্তাফিজ ও মাহমুদউল্লাহর জুটিতে বাংলাদেশ পায় ৫১৩ রানের সংগ্রহ।

মুমিনুলের ১৭৬ রান বাদে মুশফিকুর রহিমের ব্যাট থেকে আসে ৯২ রান। এ ছাড়া তামিম ৫২ ও ইমরুল ৪০ রান করেন। লঙ্কানদের সেরা বোলার পেসার লাকমাল। ৬৮ রানে নিয়েছেন ৩ উইকেট। হেরাথ ১৫০ রান দিয়ে নিয়েছেন ৩ উইকেট। ২টি উইকেট নিয়েছেন সান্দাকান।