নড়াইলে ঈদের আনন্দ,করতে এসে ডেঙ্গু জ্বর আক্রান্ত : ছেলেকে নিয়ে বিপাকে বাবা-মা

প্রকাশিত

নড়াইল প্রতিনিধি- ঈদ করতে বাবা-মায়ের সঙ্গে এসেছে আদমজি ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুলের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র নাজমুস সাকিব সাদ। নড়াইলে। বাড়িতে এসে জ্বরে আক্রান্ত সাকিব। ঈদের আনন্দ,বন্ধুদের সাথে আড্ডা, বেড়ানো সবই কেড়ে নিয়েছে জ্বরে। প্যাথলোজিক্যাল পরিক্ষার জন্য তার পিতা সাদিকুর রহমান সকালে সাকিবকে নিয়ে যায় নড়াইলের লোহাগড়ার ডক্টর’স স্পেশালাইজ্ড হসপিটালে। সেখানে পরিক্ষা করে তার শরিরে ডেঙ্গুজ্বর সনাক্ত করেন চিকিৎসক। কর্তব্যরত চিকিৎসক সাকিবের উন্নত চিকিৎসার পরামর্শ দেওয়ায় অভিভাবক ছুটে যান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লে∙ে। সেখানে পরামর্শ দেওয়া হয় নড়াইল সদর হাসপাতালে ভর্তির জন্য। আমাদের নড়াইল জেলা প্রতিনিধি উজ্জ্বল রায় জানান, রোগী আনোয়নে নড়াইলের লোহাগড়া হাসপাতালের এ্যাম্বুলেন্সটি হাসপাতালে থাকলেও চালক প্রেষনে রয়েছেন নড়াইল সদর হাসপাতালে এমনটি জানান জরুরি বিভাগের চিকিৎসক। যোগাযোগ করা হয় মাশরাফি ফাউন্ডেশনের এ্যাম্বুলেন্স চালক আকবর শেখ’র সাথে। তিনি সাফ জানিয়ে দেন তার শরীর ভাল না যেতে পারবেন না। নড়াইল-লোহাগড়ার প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা ও অসহযোগীতার কারনে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন সাকিবের অভিভাবক সাদিকুর রহমান। তিনি যশোর সদরের বেসরকারী এনজিও সংস্থা “গ্রামীন কল্যাণ মোবাইল হেল্থ প্রকল্পের” সাথে যোগাযোগ করে এ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করেন। ভাড়াকৃত এ্যাম্বুলেন্স লোহাগড়ায় পৌছলে বেলা ১২ টার দিকে সাকিবকে নিয়ে পরিবার রওয়ানা হন ঢাকার উদ্দেশে। সাকিবের পিতা ঢাকায় একটা বেসরকারী কোম্পানীতে চাকুরী করেন। দু’ভাই বোনের মধ্যে সাকিব বড়। তার বাড়ি নড়াইলের লোহাগড়া পৌর এলাকার গোপীনাথপুর। সাকিবের পিতা সাদিকুর রহমান বুধবার নড়াইলের লোহাগড়া হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার মোহাইমিন জিসান বলেন, নড়াইলের লোহাগড়া হাসপাতালের এ্যাম্বুলেন্স চালক প্রশাসনিক কাজে নড়াইল সদর হাসপাতালে প্রেষনে রয়েছে। প্রেষন শেষ,অথবা নতুন চালক পেতে কিছুটা সময় লাগবে। এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দিবেন বিভাগীয় পরিচালক। তিনি হজ্বে রয়েছেন। নড়াইলের সিভিল সার্জন (সিএস) আসাদুজ্জামান মুন্সি বলেন, ডেঙ্গু রোগীদের নড়াইল সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ্যাম্বুলেন্স চালক না থাকা প্রসঙ্গে বলেন, চালকের বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তিতে সদর হাসপাতালে সংযুক্ত করা হয়েছে। তদন্ত আদালতের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অতিরিক্ত চালক না থাকায় সহসায় চালক দেওয়া সম্ভব নয়। অপরদিকে নড়াইলসহ খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ২ হাজার ছাড়িয়েছে। এ পর্যন্ত এ বিভাগে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ২০৮৯। এরমধ্যে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর গত ২৪ ঘণ্টায় এ বিভাগে নতুন করে আরও ১৪৪ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে। নতুনভাবে আক্রান্তদের মধ্যে ১৪১ জন সরকারি হাসপাতালে ও ৩ জন বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ পর্যন্ত মোট ২০৮৯ জন আক্রান্তের মধ্যে ১৮৬৩ জন সরকারি হাসপাতালে ভর্তি ও ২২৬ জন বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন। এরমধ্যে ৫২৮ জন এখনও চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আর ১৫২৩ জন সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরে গেছেন। বাকি ৩৮ জনকে বিভিন্ন স্থানে রেফার করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের (রোগ নিয়ন্ত্রণ) সহকারী পরিচালক ডা. ফেরদৌসী আক্তার বলেন, খুলনা বিভাগে নতুন ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে যশোরে ৩২ জন, খুলনায় ২৩ জন, কুস্টিয়ায় ২৯ জন, ঝিনাইদহে ৯ জন, নড়াইলে ১২ জন, মহেরপুরে ৯ জন, চুয়াডাঙ্গায় ৩ জন, সাতক্ষীরায় ১২ জন, বাগেরহাটে ৭ জন ও মাগুরায় ৮ জন রয়েছে। খুলনা স্বাস্থ্য অধিদফতর (রোগ নিয়ন্ত্রণ) সূত্র মতে, ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত নড়াইলসহ দশ জেলায় মোট ২০৮৯ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেছে। এরমধ্যে নড়াইলে ১১৬ জন (১ জন মৃত), বাগেরহাটে ৭১ জন ও মেহেরপুরে ৭২ জন যশোরে ৫১১ জন, কুষ্টিয়ায় ৩৩৭ জন, ঝিনাইদহে ১৪৭ জন, সাতক্ষীরায় ১৭০ জন, মাগুরায় ১২৫ জন (১ জন মৃত), চুয়াডাঙ্গায় ৭০ জন, ও খুলনায় ৪৭০ জন (৪ জন মৃত), রয়েছে। মোট আক্রান্তদের মধ্যে বর্তমানে খুলনায় ১৪৫ জন, বাগেরহাটে ১০ জন, সাতক্ষীরায় ৩৯ জন, যশোরে ১৫৯ জন, ঝিনাইদহে ২৭ জন, মাগুরায় ২৬ জন, নড়াইলে ৩৫ জন, কুষ্টিয়ায় ৬৩ জন, চুয়াডাঙ্গায় ৭ জন ও মেহেরপুরে ১৭ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।