জুয়াড়ি চেয়েছেন ‘ডলার অ্যাকাউন্ট’, দেখা করতে চান সাকিব

প্রকাশিত

স্পোর্টস ডেস্ক-

একটি-দুটি নয়, তিনটি অপরাধের শাস্তি হিসেবেই আইসিসির পক্ষ থেকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ হলেন সাকিব আল হাসান। জুয়াড়ির কাছ থেকে ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব পাওয়ার পরও তিনি আইসিসির দুর্নীতি দমন সংস্থা আকসুকে কিছুই জানাননি। এটাই হলো কাল। যে কারণে, আইসিসিও তদন্তে নামে এবং অনেক বড় প্রমাণ হাতে নিয়েই তবে শাস্তির রায় ঘোষণা করে তারা।

যদিও সব দায় স্বীকার করে নেয়ায় এবং তদন্তে সহযোগিতায় করার কারণে নিষেধাজ্ঞা দুই বছর থেকে এমনিতেই এক বছর কমিয়ে দিয়েছে আইসিসি। যে কারণে, এক বছর নিষেধাজ্ঞার শাস্তি কাটিয়ে আগামী বছর ২৯ অক্টোবর আবারও মাঠে ফিরতে পারবেন সাকিব।

সাকিবকে চলতি বছর ২৩ জানুয়ারি ও ২৭ আগস্ট জিজ্ঞাসাবাদ করে আইসিসি। এরপর আজ মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্তের কথা জানায় আইসিসি।

আকসুর সঙ্গে ওই সাক্ষাৎকারে নিশ্চিত করেছেন, ২০১৭ সালের নভেম্বরে ঢাকা ডায়নামাইটসের হয়ে খেলার সময় তিনি জানতেন, তারই পরিচিত একজন আগারওয়ালকে তার ফোন নম্বর দেন। ওই ব্যক্তিকে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে খেলা খেলোয়াড়দের ফোন নম্বর দেওয়ার জন্য বলেছিলেন আগারওয়াল।

আকসুর সঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদে সাকিব আল হাসান দীপক আগারওয়াল নামে এক ভারতীয় জুয়াড়ির সাথে কথোপকথনের বিষয়টি স্বীকার করেন। আইসিসি কর্তৃক প্রকাশিত এ সম্পর্কিত বিস্তারিত রিপোর্টেই এ ব্যাপারে লিখেছে আইসিসি।

সাকিব জানান, তার এক পরিচিত ব্যক্তি জুয়াড়ি আগাওয়ালকে সাকিবের নাম্বার দেন। এরপর তাদের মধ্যে যোগাযোগ হয়। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে জিম্বাবুয়ে ও শ্রীলঙ্কার সঙ্গে ত্রিদেশীয় সিরিজের দলে ডাক পান বাঁ-হাতি অলরাউন্ডার। ওই সিরিজেও হোয়াটসঅ্যাপে তাদের সঙ্গে কথোপকথন হয়। ২০১৯ সালের ১৯ জানুয়ারি আগারওয়াল সাকিবকে অভিনন্দন জানিয়ে একটি মেসেজ পাঠান। আগারওয়াল লেখেন, ‘do we work in this or i wait till the ipl’.

‘work’ শব্দ দ্বারাই সাকিবকে প্রস্তাব দেয়া হয়েছে বলে জানাচ্ছে আইসিসি। ২০১৮ সালে ২৩ এ জানুয়ারি আগারওয়াল মেসেজে লেখে ‘bro anything in this series?’ এই ম্যাসেজের মাধ্যমে আগারওয়াল ত্রি-দেশীয় সিরিজের বিষয় জানতে চেয়েছিলেন। এই যোগাযোগের কথা দুর্নীতিবিরোধী ইউনিটের কাছে গোপন করেন সাকিব।

২০১৮ সালে ২৬ এপ্রিল আইপিএলে কিংস পাঞ্জাবের বিরুদ্ধে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে খেলার সময় আগারওয়াল সাকিবের সঙ্গে যোগাযোগ করে। এসময় আগারওয়াল বিট কয়েন ও ডলার নিয়ে কথা বলেন। এ সময় তিনি সাকিবের ডলারের অ্যাকাউন্টের তথ্য চান।

তবে সাকিব হোয়াটঅ্যাপে ব্যাংকের তথ্য না দিয়ে আগারওয়ালের সঙ্গে দেখা করতে চান। ২৬ এপ্রিলের পর থেকে আগারওয়ালের অনুরোধে হোয়াটসঅ্যাপের ম্যাসেজগুলো ডিলেট করে দেন সাকিব। তিনি নিশ্চিত করেন, ভেতরের খবর জানতে চেয়েই ছিল ওই মেসেজগুলো। আগারওয়ালকে নিয়ে আগে থেকেই উদ্বেগের মধ্যে ছিলেন সাকিব। এই কথোপকথনে তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, আগারওয়াল একজন জুয়াড়ি। কিন্তু তৃতীয় প্রস্তাবও দুর্নীতিবিরোধী ইউনিটকে জানাননি সাকিব।