সাতক্ষীরায় স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

প্রকাশিত

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি :
যৌতুকের টাকা না পেয়ে স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যার দায়ের দোষী সাব্যস্ত করে এক স্বামীকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আদেশ দিয়েছে আদালত। একইসাথে তাকে দু’ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বুধবার সাতক্ষীরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক হোসনে আরা আক্তার এক জানকীর্ণ আদালতে এ রায় ঘোষণা করেন।
ফাঁসির দণ্ডাদেশ প্রাপ্ত রঞ্জন মণ্ডল (৩৭) সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার জালালাবাদ গ্রামের জেলটুপি খ্রীষ্ঠানপাড়ার রবিন মন্ডলের ছেলে।

মামলার বিবরনে জানা যায়, তালা উপজেলার বারাত গ্রামের নিমাই চন্দ্র দাসের মেয়ে স্বপ্না দাসের সঙ্গে কলারোয়া উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নের জেলটুপি খ্রীষ্টানপাড়ার রবিন মন্ডলের ছেলে রঞ্জন মন্ডলের ২০০২ সালে বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন যেতে না যেতেই যৌতুকের দাবিতে রঞ্জন মন্ডল তার স্ত্রী স্পপ্নাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতো। ২০১২ সালে ৯ মার্চ বাপের বাড়ি থেকে ৫০ হাজার যৌতুকের টাকা আনতে বলে রঞ্জন ও তার পরিবারের সদস্যরা। স্বপ্না তা আনতে আপত্তি করায় রঞ্জন, তার বাবা রবিন মন্ডল, মা ছোট রানী মন্ডল, ধীরেন মন্ডলের চেলে দুলাল মন্ডল, দুলাল মন্ডলের স্ত্রী তেরেজা, তাদের ছেলে লিটন ক্ষুব্ধ হয়ে স্বপনআকে পিটিয়ে জখম করার একপর্যায়ে ওই দিন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মারা যায়। পরে তার মুখে বিষ ঢেলে দিয়ে স্বপ্না আত্মহত্যা করেছে মর্মে মোবাইল ফোনে তার বাপের বাড়ির লোকজনকে খবর দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই শিবুপদ দাস বাদী হয়ে রঞ্জন মণ্ডল, রবিন মন্ডল, ছোট রানী মন্ডল, তেরেজা মন্ডল, দুলাল মন্ডল ও লিটন মন্ডলের নাম উলে­খ করে ২০০০ সালের সংশোধিত ২০০৩ এর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১১ (ক)/৩০ ধারায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ রঞ্জনকে গ্রেপ্তার করলেও জামিনে মুক্তি পেয়ে সে পালিয়ে যায়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কলারোয়া থানার উপপরিদর্শক গোলাম সরোয়ার মোল্যা তদন্ত শেষে আদালতে ২০১২ সালের ১২ জুলাই পাঁচজনকে বাদ দিয়ে কেবলমাত্র রঞ্জন মন্ডলের নামে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
মামলার নথি ও নয় জন সাক্ষীর জবানবন্দি পর্যালোচনা শেষে আসামী রঞ্জন মন্ডলের বিরুদ্ধে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক হোসনে আরা আক্তার তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার নির্দেশ দেন। একইসাথে তাকে দু’ লাখ টাকার জরিমানার নির্দেশ দেন।
রায় এর সময় আসামী রঞ্জন মণ্ডল পলাতক ছিল।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন বিশেষ পিপি অ্যাড. এসএম জহুরুল হায়দার বাবু।