ফরিদপুরে মুক্তিপণের দাবীতে মাদ্রাসা ছাত্রী অপহরণ

প্রকাশিত

মাহবুব হোসেন পিয়াল,ফরিদপুর-
৭ লক্ষ টাকা মুক্তিপণের জন্য খালা অপহরণ করল আপন ভাগ্নি মাদ্রাসার ছাত্রী ফারজানা (৭) কে। সে ভাঙ্গা পৌরসভার দাড়িয়ারমাঠ মহল্লার ‘কোরআনের আলো মহিলা মাদ্রাসা’র মক্তব বিভাগের ছাত্রী। গত বুধবার (১৩নভেম্বর) সকালে মাদ্রাসা এলাকা থেকে অপহরণের তিনদিন পর গতকাল শনিবার (১৬নভেম্বর) সকালে জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী উপজেলা থেকে মাদ্রাসা ছাত্রী ফারজানাকে উদ্ধার করেছে ভাঙ্গা থানা পুলিশ। এ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে মাদ্রাসার ছাত্রীর আপন খালা ভাঙ্গা পৌরসভার চন্ডিদাসদি মহল্লার বেদানা বেগম (৪৫), তার ছেলে হৃদয় মোল্লা (১৮) ও ভাঙ্গা পৌরসভার কাপুড়িয়া সদরদী মহল্লার ইমন মুন্সী (১৮) কে আটক করেছে ভাঙ্গা থানার পুলিশ।
পুলিশ ও মাদ্রাসা সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার সকালে কোরআনের আলো মহিলা মাদ্রাসা থেকে কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে ফারজানাকে তার খালাতো ভাই হৃদয় কৌশলে মুক্তিপণের জন্য জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী নিয়ে আটকে রাখে। এরপর চক্রটি ফারজানার মাকে মোবাইলে ফোনে কল করে ৭ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবী করে। মোবাইল কলের সূত্র ধরে ভাঙ্গা থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে অবশেষে সরিষাবাড়ী এলাকা থেকে শিশু ফারজানাকে উদ্ধার করেন। এসময় খালা ও খালাতো ভাই হৃদয় ও প্রতিবেশী ইমনকে আটক করে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, ফারজানার মা কুলসুম বেগম সৌদী আরবে চাকরী করেন। ফারজানার বাবার সাথে কয়েক বছর আগে বিবাহ বিচ্ছেদ হওয়ায় বিদেশে যাওয়ার সময়ে তার বড় বোন বেদানার নিকট ফারজানাকে রেখে যায়। বেদানা তার ভাগ্নিকে মাদ্রাসায় ভর্তি করান। দেড় মাস যাবৎ কুলসুম বেগম সৌদি থেকে বাংলাদেশে এসে দ্বিতীয় স্বামী নিয়ে ঢাকায় বসবাস করেন। বোন সৌদি থেকে অনেক টাকা আয় করে এনেছে এ খবর শুনে বড় বোন ও তার ছেলে অপহরণের মাধ্যমে মুক্তিপণ আদায়ের সিদ্ধান্ত নেয়।
এ বিষয় উদ্ধারকারী দলের নেতৃত্বে থাকা ভাঙ্গা থানার পরিদর্শক নিখিল অধিকারী জানান, অপহৃত শিশু ফারজানাকে আমরা জামালপুরের সরিষাবাড়ী থেকে উদ্ধার করেছি। অপহরণ চক্রের সাথে জড়িত তিন জনকে আটক করেছি।