পেঁয়াজের বাজারে পুলিশ সুপারের অভিযান, দাম কমলো প্রতি কেজিতে ৫০ টাকা

প্রকাশিত

ময়মনসিংহ প্রতিনিধিঃ

ময়মনসিংহের খুচরা বাজারে গেল কয়েকদিন ধরে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছিল ২২০ থেকে ২৩০ টাকার মধ্যে। রোববার (১৭ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে হঠাৎ নগরের মেছুয়া বাজার এলাকার পেঁয়াজের আড়ত ও খুচরা বাজারে অভিযান চালান জেলা পুলিশ সুপার শাহ আবিদ হোসেন (অতিরিক্ত ডিআইজি) । পুলিশের অভিযান দেখেই প্রতি কেজিতে সঙ্গে সঙ্গেই ৫০ টাকা কমিয়ে ১৭০ টাকায় পেঁয়াজ বিক্রি শুরু করে দেয় ব্যবসায়ীরা। পুলিশ সুপার পেয়াঁজ আড়ৎ গুলোতে ও খুচরা বাজার নিয়ন্ত্রণে সতর্কতামূলক প্রচার অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় পাইকারি ও খুচরা বাজারের প্রতিটি দোকানে গিয়ে পেয়াজের দরের বিষয়ে খোঁজ ও দাম যাচাই করেন পুলিশ সুপার। তিনি প্রতিটি ব্যবসায়ীকে সাবধান করে দেন দামের ব্যাপারে। কেউ যদি অতিরিক্ত ও বেশি মুনাফা করে তাদের তালিকা তৈরি করে ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণা দেন।
এসময় ডিএসবির ডিআইওয়ান মোখলেছুর রহমান, ওসি কোতোয়ালি মাহমুদুল ইসলাম, ওসি ডিবি শাহ কামাল আকন্দ, ২ নং পুলিশ ফাঁড়ির এস.আই ফারুক হোসেন প্রমুখ ।
পুলিশ সুপার শাহ আবিদ হোসেন বলেন, ‘সতর্ক ও সচেতনতা তৈরি করতেই আমরা অভিযান চালাচ্ছি। শুধু জেলা শহরে নয়, এমন অভিযান চলবে উপজেলা ও গ্রাম পর্যায়ের হাটবাজারগুলোতেও।
পেঁয়াজের অব্যাহত মূল্য বৃদ্ধি ও সিন্ডিকেটের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ সুপার জেলার সবচেয়ে বড় পাইকারি ও খুচরা বাজার মেছুয়া বাজারের আড়তে অভিযানে নামেন।
ব্যবসায়ীরা জানান, তারা পাইকারি বাজার থেকে ১৭০ টাকা কেজিতে পেঁয়াজ ক্রয় করেন। এ সময় ব্যবসায়ীরা ২২০ টাকা কেজিতে বিক্রি করছিলেন। এক কেজি পেঁয়াজে ব্যবসায়ীরা লাভ করছিলেন ৫০ টাকা।
পরে সাংবাদিকদের বলেন, পেঁয়াজ নিয়ে কেউ সিন্ডিকেট করলে তাৎক্ষণিক তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাজারে গোয়েন্দা পুলিশ কাজ করছে। তারা সব তথ্য সংগ্রহ করছে। দাম নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাবধান করা হয়েছে ব্যবসায়ীদের। এরপর অনিয়ম পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি সকলকে এ ব্যাপারে সজাগ হওয়ার অনুরোধ করেন।
ব্যবসায়ীরা বলেন, এক সপ্তাহের মধ্যে পেঁয়াজের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে চলে আসবে। সরবরাহ বাড়লে দামও কমে যাবে। এ ধরনের অভিযানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন জেলা নাগরিক আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার সনূরুল ললমিন কালামসহ ভোক্তারা।
এদিকে গতকাল বিকেলে শহরের মেছুয়া বাজারের ক্রেতা গণ কল্যাণ পরিষদ (জিকেপি) প্রধান নির্বাহী লায়ন ড. মোঃ সিরাজুল ইসলাম, ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকারের ইমেজ নষ্ট করার জন্য এক শ্রেণীর মুনাফাখোর অসাধু ব্যবসায়ী অতি মূল্যে পেঁয়াজ বিক্রি করছে। তা ছাড়া কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ পেঁয়াজ উৎপাদানের গাফিলতির কারণে এবং সরকার ও বেসরকারিভাবে কোল্ডস্টোরেজে প্রয়োজনীয় পেঁয়াজ মজুদ না রাখায়, সর্বোপরি সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে না পারার প্রেক্ষিতে পেঁয়াজের বাজারে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। অবিলম্বে দেশের চাহিদা পূরণে প্রয়োজনীয় পেঁয়াজ উৎপাদন এবং আমদানি করার প্রয়োজন হলে সমুদয় পেঁয়াজ সারা বছরের জন্য মজুত করে রাখতে সরকারের সর্বোচ্চ মহলকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য আহবান জানিয়েছেন ড. মোঃ সিরাজুল ইসলাম।