ফরিদপুরে সাধারন মানুষদের কাছে একজন অসাধারন ব্যক্তি-ডাক্তার ওবায়দুর

প্রকাশিত

মাহবুব হোসেন পিয়াল,ফরিদপুর –
বাংলাদেশের স্বাস্থ্য বিভাগে ডাক্তারদের সততা, লাইফ স্টাইল, জীবন-যাপন রীতি নিয়ে মিডিয়ায় লেখালেখি হয়না। হওয়া দরকার। কেননা এর মাধ্যমে শেখার আছে। প্রচুর সৎ ডাক্তার আছেন, স্বাস্থ্য বিভাগে। ডাক্তারদের দুর্নীতি, অবহেলা, অনিয়ম, নানারকম অদক্ষতা, বিতর্কীত কর্মকান্ড নিয়ে মিডিয়া থাকে ভরপুর। তাতে ভুল মেসেস যায় দেশে বিদেশে, বিশেষ করে পরবর্তী প্রজন্ম শেখে দুর্নীতির। তাতে তারাও উষ্কানী পায় অমন কাজের। ভালো খবরটাও লেখা উচিত। সেটাও যে শিক্ষণীয় ও অনুকরনীয়। আমাদের দেশে এখনও ভালো, মানবিক সম্পূর্ণ ডাক্তার আছে। তিনি হলেনÑ সৈয়দ ওবায়দুর রহমান। এ ধরণের ডাক্তারের কাছে গেলেই রোগ অর্ধেক ভালো হয়ে যায়। ডাক্তার সৈয়দ ওবায়দুর রহমান বলেন, “আমি সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ২.৩০ মিনিট পর্যন্ত আমার কর্মস্থল ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে রোগী দেখে। ধনী দরিদ্র সহ সকল শ্রেণীর রোগী আসেন চিকিৎসা নিতে, আমি আমার সাধ্যমত চেষ্টা করিÑতাদের সঠিক চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ্য করে তোলার। একজন মানুষ যখন রোগাক্রান্ত হন, তখনই সবচেয়ে বেশি অসহায় হয়ে পড়েন এবং চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। তাই চিকিৎসাসেবা শুধু ব্যবসা নয়, মানুষের দোয়া পাওয়া, মানুষকে সেবা করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করার অন্যতম মাধ্যম।

প্রসঙ্গতঃ ফরিদপুর সদর হাসপাতল-এর কার্ডিওলজী বিভাগের কনসালটেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ডাক্তার সৈয়দ ওবায়দুর রহমান। ডাক্তার সৈয়দ ওবায়দুর রহমান-এর রোগী দেখা শুরু হয় সকাল সাড়ে ৮টা থেকে দুপুর ২.৩০ টা পর্যন্ত ফরিদপুর সদর হাসপাতালে।এছাড়াও তিনি প্রতিদিনই সান্ধ্যকালীন ভিজিটে হাসপাতালে ভর্র্তি রোগীদের সেবা প্রদান করে থাকেন। এরপর ১ঘন্টা বিশ্রাম নিয়ে বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে তিনি তার ব্যক্তিগত চেম্বারে সময় কাটে রোগী-স্টেথোস্কেপা-প্রেসক্রিপশন নিয়ে। বিরতিহীনভাবে চলে রোগী দেখা। অনেক সময় খানিকটাও বিশ্রাম পান না ডাক্তার সৈয়দ ওবায়দুর রহমান। তিনি বলেন, “বিশ্রামের সময় কোনো ইমার্জেন্সি কল আসলোÑতখন তো আর চুপ করে বসে থাকা যায় না। ছুটে যাই রোগীদের কাছে। সে কারণে বলা যায়, তিনি দিনে ১০-১২ ঘন্টাই রোগী দেখার কাজে ব্যস্ত থাকেন। বিশ্রামের সময় কাট-ছাঁট করেই রোগী দেখতে ছুটেন ডাক্তার সৈয়দ ওবায়দুর রহমান। তিনি আরও বলেন, “রাত দশটা পর্যন্ত রোগী দেখিÑমানে এমন নয় যে, তারপরে রোগী এলে দেখব না। আমার দরজা রোগীদের জন্য সবসময় খোলা থাকে।” দৈনিক ২৫০-৩০০ জন রোগীর চিকিৎসা করতে হয় তাকে। সাদাসিদের জীবনযাপনে অভ্যস্ত এ মানুষটিকে না দেখলে বুঝা যাবে না। এছাড়াও ডাক্তার সৈয়দ ওবায়দুর রহমান প্রতি শুক্রবার তার নিজ এলাকা বোয়ালমারী উপজেলার সদর এলাকায় বিনামুল্যে রোগীদের চিকিৎসা ও ঔষুধ প্রদান করে থাকেন।

অসহায় দরিদ্র ও দুস্থ্য মানুষদের চিকিৎসা সেবা দিতে খুবই অল্প পরিমাণে টাকা নিয়ে থাকেন তিনি। তাই সবাই তাকে গরিবের ডাক্তার নামে ডাকেন। উনি গরিবদের কথা মন দিয়ে শোনেন। ফলে উনার ভালো ব্যবহার ও আচরণেই অর্ধেক রোগী সুস্থ হয়ে যান।

এক নজরে ডাক্তার সৈয়দ ওবায়দুর রহমান –
ডাক্তার সৈয়দ ওবায়দুর রহমান ফরিদপুর জেলাধীন বোয়ালমারী উপজেলার জয়পাশা গ্রামে সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে ১৯৬৯ সালের ১ জুলাই জন্মগ্রহন করেন। প্রথম শ্রেণি থেকে ৭ম শ্রেণি পর্যন্ত জয়পাশা সৈয়দ ফজলুল হক একাডেমী স্কুলে পড়াশোনা করেন। ৭ম শ্রেণি থেকে এইচএসসি পর্যন্ত ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ এরপর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ, মিটফোর্ড, ঢাকা থেকে ১৯৯৬ সালে এমবিবিএস ডিগ্রি লাভ করেন। কিছুদিন অক্সিডেন্টাল কোম্পনীতে মেডিকেল অফিসার হিসেবে চাকুরী করেন। ২০০৩ সালে ২১তম বিসিএস এর মাধ্যমে সরকারি চাকুরিতে যোগদান করেন। তার পিতা সৈয়দ নওশের আলী ও মাতা কমেলা বেগম। ৪ ভাই, ৩ বোন মধ্যে তিনি ৬ষ্ঠ। পিতা একজন প্রাইমারী স্কুলের শিক্ষক ছিলেন। ২০০২ সালে কার্ডিওলজীর উপর ডিপ্লোমা ডিগ্রি অর্জন করেন এবং ২০১৩ সালে ভারতের নয়াদিল্লীতে ইকো-কার্ডিওগ্রাফীর উপর উচ্চতর প্রশিক্ষণ লাভ করেন। এছাড়াও হৃদরোগের উপরে তিনি বিভিন্ন সময়ে সেমিনারে অংশগ্রহন করেন। সেমিনারে তিনি বাংলাদেশ ছাড়াও থাইল্যান্ড, সিংগাপুর, ভিয়েতনাম ও মালয়েশিয়াতে অংশগ্রহন করেন। বর্তমানে তিনি স্ত্রী, এক পুত্র ও দুই কন্যা নিয়ে ফরিদপুরে বসবাস করছেন। তাঁর প্রিয় শখ ক্রিকেট খেলা দেখা।