দেশে নেতার বাম্পার ফলন হয় মাগার পেঁয়াজের হয়না !!

প্রকাশিত

তুহিন সারোয়ার-
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ডুকলে দেখা যায় দেশে নেতার বাম্পার ফলন হইছে। এসব পাতি এবং সেলফি নেতা, ভাইজান নেতা, অনলাইন নেতাদের কাজ শুধু ফেসবুকে স্ট্যাটাস মারা- অমুক ভাইয়ের সাথে সেলফি…তমুক ভাইয়ের সাথে ……!অনেক দিন পর ভাইয়ের সাথে …! এসব অনলাইন এবং সেলফি নেতারা স্টাটাসের কারনে ফেসবুকের নিউজফিড প্রেগনেন্ট করে ফেললেও বাস্তবে এদের ঘরে বউও থাকেনা ! শুধু ফেসবুকে এসব নেতা-কর্মীদের অভিনয় কিংবা কীর্তিকলাপের নেই কোনো শেষ।

এসব সেলফি নেতাদের দেখে সড়ক যোগাযোগ ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন-দেশে এখন কর্মী উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। সবাই নেতা। নেতা উৎপাদনের উর্বর ক্ষেত্র। দলে কোনো পদ নেই, ব্যানারে লেখে সাংগঠনিক সম্পাদক পদপ্রার্থী।

আচ্ছা বলুনতো- নেতার পেছনে মানুষ ছুটবে কেন? নেতা জনগণ কেন খুশি করবে? জনগণ ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে। এখন নেতার কাজ দায়িত্ব পালন করে জনগণকে খুশি করা।

মনে কষ্ট নিয়েন না। দল ভাঙ্গাইয়া তো অনেকে অনেক খাইছেন, কামাইছেন, আবার কেউ কেউ হুদাই লাফাইছেন।
তাও জিজ্ঞেস করি- ভাইরে কন তো দেখি গত ২ বছরে দল এবং দেশের মানুয়ের জন্য আপনি কী অবদান রাখছেন?
দেশের জন্য যা করার তা তো সরকার করতাছে, দলের জন্য আফনেরা করছেনটা কী? খালি তো দেখলাম অমুক ভাইয়ের জন্মদিনে শুভেচ্ছা (অবশ্যই নামের সামনে ইয়া বিশাল বিশেষণ), তমুক ভাইয়ের সঙ্গে সেলফি (দলের কতটা অন্দরমহলে আপনার পদচারণা তা বোঝানোর জন্য), গণভবন বা বঙ্গভবনে ইফতার পার্টি, ক্ষমতাবানদের আশেপাশে ঘুড়োঘুড়ি।

অনেকেরে দেখছি, সরকারি চাকরি হয় না মন খারাপ কইরা ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দেয়- ‘সরকার রাজাকারের ছানাপোনারে চাকরি দেয়, আমাগোরে দেয় না!’ অনেকেরে দেখছি টেন্ডার না পাইয়া মন খারাপ কইরা কইতে- ‘সরকারের কাছে আমাগো মূল্য হারাইয়া গেছে!’ আবার এমন অনেকের দেখছি তদবির বাণিজ্য করতে না পাইরা দলের নাড়িভুড়ি লইয়া টান দিতে!

দলের জন্য স্বার্থহীনভাবে কিছু একটা করছেন এমন একটা উদাহরণ দেন তো দেখি। আমি নিশ্চিত শতকরা ৯০ ভাগ একটা উদাহরণও দিতে পারব না। উত্তরটাও দিতে হইব সেই মানুষগুলারে, যারা কিনা শেখ হাসিনার একটা বাক্য শুনতে রোদে পুইড়া, বৃষ্টিতে ভিজ্জা ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধৈর্য ধইরা বইসা থাকে। আবার শেখ হাসিনারে এক পলক দেখলে সব পাওয়া হাসি দিয়া এতক্ষণের কষ্ট ভুইল্লা যায়।

উত্তর দিতে হয় তাদের, যারা কিনা ক্ষণিকের আওয়ামী লীগারগো লাথিগুতা খাইয়াও দলের দুঃসময়ে পাশে থাকে। রিকশা চালাইয়া টাকা জমাইয়া স্কুল বানায়। আবার সেই স্কুলের নাম দেয় শেখ হাসিনার নামে, উত্তর দিতে হয় তাদের। উত্তর দিতে হয় যারা কিনা শেষ সম্বল বঙ্গবন্ধুর নামে লেইখ্যা দিয়া যায়।

কই কোনোদিন তো তাগোরে কেউ গণভবনে ডাকে নাই, বঙ্গভবনে সৌজন্য সাক্ষাতের দাওয়াত পায় নাই।

উত্তর দিতে হয় তাগোরে যারা সর্বোচ্চ ডিগ্রি লইয়া গ্রামে পইরা থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি কইরাও থানার রাজনীতিতে ভাত পায় না। উত্তর দিতে হয় তাগোরে, যারা মরলেও বঙ্গবন্ধুর সৈনিক, বাঁচলেও সৈনিক।

মুল কথা-
আমরা চাই রাজনীতি কেবল রাজনীতিবিদগণই করুন। আদর্শভিত্তিক রাজনীতির জন্য রাজনীতিবিদরা তৈরি হোন। তাদের গঠনতন্ত্র মেনে চলুন। প্রয়োজনে গঠনতন্ত্র পরিবর্তন করুন, তবু এর মধ্যেই চলতে হবে। রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের মন-মানসিকতার পরিবর্তন না হলে গণতন্ত্র ও সংবিধান রক্ষা করা যাবে না। এদেশের মানুষেরও কোনো লাভ হবে না। যারা নোংরা রাজনীতির আশ্রয় নেবেন, তাদের দল ও সমাজচ্যুত করা বাঞ্ছনীয়। আমরা চাই সুষ্ঠু গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মন-মানসিকতাসম্পন্ন ধৈর্যশীল, সুদূর দৃষ্টির অধিকারী ও বিবেকবান আদর্শ নেতা। কথায় আছে, A Leader is one who knows the way, goes the way, and shows the way. ডেল-কার্নেগির একটি বইয়ে পড়েছিলাম, সেই ব্যক্তি নেতা যিনি উত্তরাধিকারের মতো শত শত নেতা তৈরি করতে পারেন। কিন্তু দঃখের বিষয়, আজকের সমাজের নেতারা একজন আরেক জনকে গুম, খুন, নির্যাতন করে নেতা হতে পারাকেই গর্বের বিষয় মনে করে। এমনকি দলীয় পদের জন্য নিচের সারির নেতা উপর সারির নেতাকে বা উপর সারির নেতা নিচের সারির নেতাকে পরিকল্পিতভাবে সরিয়ে ফেলে। এজন্য দলের ভেতর কোন্দল লেগেই থাকে। এইসব করে কি আদর্শবান নেতা হওয়া যায়? আর এইসব নেতাকে অনুসরণ করাও জীবনের মারাত্মক ভুল। বর্তমান সময়ের নেতারা রাজনীতি করে জিরো থেকে সুপার হিরো হয়ে যাচ্ছেন। অর্থাত্ তারা রাতারাতি নিজেদের কোটিপতি বানিয়ে ফেলছেন। অথচ পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে মহাত্মা গান্ধীর মতো একজন নেতা কত সাধারণ জীবন-যাপন করেছেন। আমার কথা হচ্ছে, তিনিও তো জীবনে অনেক বছর রাজনীতি করেছেন। তাদের রাজনীতি আর আমাদের সমাজের রাজনৈতিক নেতাদের রাজনীতির মধ্যে পার্থক্য আসলে যোজন যোজন দূর। শুভবুদ্ধি সম্পন্ন ও সুরাজনীতিবিদ তো দেশে অবশ্যই আছেন। আমরা চাই তাঁরা আরো সামনের দিকে আসুন।

– লেখক- সাংবাদিক রম্য লেখক
– বাংলাদেশ প্রতিনিধি -হিন্দুস্তান টাইম (ভারত)
– ভাপ্রাপ্ত সম্পাদক- দৈনিক এই দেশ
– সি,ই,ও -চ্যানেল সিক্স,
– সি,ই,ও -রেডিও- ঢাকা ভয়েস
– চেয়ারম্যান, তুলি মিডিয়া এন্টারটেইনমেন্ট লি: