৪ মাসে খরচ ৩০ হাজার ৬৫২ কোটি

প্রকাশিত

নিজস্ব প্রতিবেদক-চলতি অর্থবছরের (২০১৯-২০) প্রথম চারমাসে (জুলাই-অক্টোবর) বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিভুক্ত (এডিপি) প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো এখন পর্যন্ত খরচ করেছে ৩০ হাজার ৬৫২ কোটি টাকা।

এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ২২ হাজার ২২২ কোটি, বৈদেশিক সাত হাজার ৬৩৭ কোটি এবং সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে খরচ করা হয়েছে ৭৯৪ কোটি টাকা।

গত অর্থবছরে একই সময়ে ২৪ হাজার ৮৬৪ কোটি টাকা খরচ করা হয়েছিল। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ১৪ হাজার ৮০০ কোটি, বৈদেশিক আট হাজার ৩৬০ কোটি এবং সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে এক হাজার ৭০৪ কোটি টাকা খরচ করা হয়।

হিসেব অনুযায়ী গত অর্থবছরের তুলনায় এ অর্থবছর বৈদেশিক অর্থ ব্যয়ে পিছিয়ে পড়েছে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো।

মঙ্গলবার রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে ২০১৯-২০ অর্থবছরের এডিপির বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার কার্যপত্র থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

এডিপির বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা তৈরি করেছে পরিকল্পনা কমিশনের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি)।

সভা সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের অক্টোবর ২০১৯ পর্যন্ত এডিপির বাস্তবায়ন অগ্রগতির গড় ১৪ দশমিক ২৫ শতাংশ অর্জন হয়েছে। চলমান প্রকল্পগুলোর গতি বাড়াতে নানা ধরনের উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। এর মধ্যে এ অর্থবছরের এডিপিতে অন্তর্ভুক্ত নতুন অননুমোদিত প্রকল্পগুলোর অগ্রাধিকার (উচ্চ, মধ্যম ও নিম্ন) তালিকা প্রণয়ণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন।

চলতি অর্থবছরের এডিপিতে নতুন অননুমোদিত এক হাজার ৪৫টি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত আছে। এর মধ্যে উচ্চ অগ্রাধিকার ৪৭৭টি, মধ্যম ২৮৮টি এবং নিম্ন ২৮০টি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত আছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এখন থেকে প্রথমে উচ্চ অগ্রাধিকার সম্পন্ন প্রকল্প গ্রহণ ও অনুমোদন হলে পর্যায়ক্রমে মধ্যম ও নিম্ন অগ্রাধিকার প্রকল্পের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘প্রকল্পের অর্থ ছাড়ের বিষয়ে উন্নয়ন সহযোগিদের সাথে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর একটা গ্যাপ আছে। পাইপলাইনে অনেক বৈদেশিক অর্থ জমা থাকলেও অর্থ ছাড়ের ক্ষেত্রে সংস্থাগুলোর প্রক্রিয়া মেনে অর্থ পেতে আমাদের দেরি হয়।’

এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘রেলের বেশির ভাগ প্রকল্প বাস্তবায়নে ভূমি অধিগ্রহণে আটকে থাকে। রেলের অনেক প্রকল্প আছে, যেগুলোর ভূমি অধিগ্রহণ হয়েছে কিন্তু দখল করা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে তাদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এছাড়া আগামী মার্চেই যমুনা নদীর উপরে বঙ্গবন্ধু রেল সেতুর কাজ শুরু করতে বলেছি।’

তিনি বলেন, ‘আজকের মিটিংয়ে আমি অংগ্রহণকারী সবাইকে বলেছি, নতুন প্রকল্প গ্রহণে কোনো থোক বরাদ্দের ডিপিপি আর অনুমোদন দেয়া হবে না। নতুন সব প্রকল্পের ডিপিপিতে ইউনিট প্রাইজ নির্ধারণ করে পরিকল্পনা কমিশনে প্রস্তাব করতে হবে। এছাড়া সরকারি সব কর্মকর্তাদের বিদেশে অপ্রয়োজনীয় স্টাডি ট্যুর বাদ দিতে বলেছি। ’

সভায় ইআরডির পক্ষ থেকে জানানো হয়, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সংস্থাগুলোর সাথে আমাদের যখন চুক্তি হয় তখন বাস্তবায়নকারী সংস্থার কোনো প্রতিনিধি থাকে না। ইআরডির আশা চুক্তিতে বাস্তবায়নকারী সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকলে অর্থ ছাড় আরো সহজ হয়ে যাবে।