শরণখোলা উপজেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলনকে ঘিরে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি

প্রকাশিত

শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি-
দীর্ঘ সাত বছর পর অনুষ্ঠিত হচ্ছে বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলা আওয়ামীলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন। আগামী ২৫ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য সম্মেলনকে ঘিরে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। প্রধান দুটি পদের মধ্যে সভাপতি পদে কোনো প্রতিদন্ধী প্রার্থী নেই সে কারণে বর্তমান সভাপতি কামাল উদ্দিন আকন স্বপদে বহাল থাকছেন। এছাড়া, সাধারণ সম্পাদক পদে একাধিক প্রার্থী হওয়ায় পদ প্রত্যাশীরা প্রকাশ্য ঘোষনা না দিলেও গোপনীয়তা রক্ষা করে কাউন্সিলরদের কাছে ছুটে বেড়াচ্ছেন এবং পেছনের ভুলত্রুটি ভুলে নিবিড় সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করছেন।
অন্যদিকে বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির বাবুল লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ঢাকায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। যার ফলে, এবারের সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আসছে নতুন মুখ। উপজেলা কমিটির ৭১ জনসহ মোট ২০৮ জন কাউন্সিলর গোপন ভোটের মাধ্যমে নির্বাচন করবেন আগামী তিন বছরের জন্য দলের দ্বিতীয় প্রধান নেতা।
সাধারণ সম্পাদক পদে সম্ভাব্য যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান কমিটির সহ-সভাপতি এম সাইফুল ইসলাম খোকন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম কালাম, রায়েন্দা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি শাহজাহান বাদল জমাদ্দার, খোন্তাকাটা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি জাকির হোসেন খান মহিউদ্দিন, ধানসাগর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মহিম আকন ও সদ্য যুবলীগ থেকে আসা আজমল হোসেন মুক্তা।
সর্বশেষ শরণখোলা উপজেলা আওয়ামীলীগের কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয় ২০১২ সালের ৪ এপ্রিল। যে কারণে দীর্ঘদিন পর সম্মেলন হওয়ায় ঝিমিয়ে পড়া দলীয় নেতাকর্মীরা সরব হয়ে উঠেছে। রায়েন্দা সরকারি পাইলট হাই স্কুল মাঠের সম্মেলন মঞ্চ থেকে শুরু করে উপজেলা সদরে চলছে সাজ সজ্জার প্রস্তুতি
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান এবং উদ্বোধক হিসেবে বাগেরহাট-৪ আসনের এমপি ও জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ডাঃ মোজাম্মেল হোসেন এমপি উপস্থিত থাকবেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে কেন্দ্রীয় কমিটি এবং জেলার দায়িত্বপ্রাপ নেতাদের থাকার কথা রয়েছে। উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি কামাল উদ্দিন আকনের সভাপতিত্বে সম্মেলনে প্রধান বক্তা থাকবেন জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ কামরুজ্জামান টুকু।
দলের জ্যেষ্ঠ নেতা এম সাইফুল ইসলাম খোকন বলেন, ৭৫ পরবর্তী দলের দুঃসময়ে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের মূল পদের দায়িত্বে থেকে বহু ত্যাগের বিনিময়ে দলকে সুসংগঠিত করেছি। ১৯৯৩ সাল থেকে ২০১২ সালের সর্বশেষ কাউন্সিলের আগ পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদে প্রায় ২০বছর আমি দলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছি। এখন দল যদি আমাকে প্রয়োজন মনে করে তাহলে আমাকে বিবেচনা করবে। পদ না পেলেও একজন সাধারণ কর্মী হিসেবে আজীবন দলের জন্য কাজ করে যাবো।
উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি কামাল উদ্দিন আকন বলেন, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক অসুস্থ থাকায় প্রার্থী হিসাবে অনেকের নাম শোনা যাচ্ছে। এখন কেন্দ্রীয় ও জেলা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ যে সিদ্ধান্ত দেবেন সেভাবেই সবকিছু হবে।