শরনখোলায় মডেল স্কুলের উন্নয়ন কাজ বন্ধ!

প্রকাশিত

শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধিঃ
বাগেরহাটের শরনখোলা উপজেলাধীন ২১নং রায়েন্দা মডেল সরকারী প্রাধমিক বিদ্যালয়ের উন্নয়ন কাজ ব্যাহত করতে মামলা দায়ের করেছেন এক অভিবাবক। দীর্ঘদিন ধরে স্কুলটির নির্মান কাজ বন্ধ থাকায় ম্যানেজিং কমিটির সদস্য, শিক্ষক-শিক্ষার্থী সহ অভিবাবকদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে সম্পত্তির মালিকানা দাবী করে উপজেলা সদর রায়েন্দা বাজারের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর হোসেন (মাসুম) বাদী হয়ে চলতি বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর বাগেরহাট অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্টেটের আদালতে ৬২/১৯ নং একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি জিয়াউল হাসান বাচ্চু ও প্রধান শিক্ষক মোঃ ছাইয়েদুল হককে বিবাদী করা হয়। মামলার লিখিত জবানবন্দীতে বিদ্যালয়টির ভোগ দখলীয় ৩০ শতক জমির মধ্যে ১৯৮৮ সালের রেজিষ্ট্রীকৃত ২৯৭১ ও ২০১২ সালে রেজিষ্ট্রীকৃত ১২৭৯ নং দুটি কবলা দলিলের অনুকুলে সাড়ে আট শতক সম্পত্তি দাবী করেন এবং (১৪৪ ধারা ) নিষেধাজ্ঞা জারীর আবেদন করলে তা মঞ্জুর হলে ১ কোটি ২৭ লাখ টাকা বরাদ্ধের স্কুলটির নুতন ভবনের নির্মান কাজ বন্ধ হয়ে যায়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ সাইয়েদুল হক বলেন, ব্রিটিশ সরকারের আমলে ১৯২৬ সালে তৎকালীন সমাজ সেবক শ্রী যোগেশ চন্দ্র দাস ও হাজী ভেলা খানের দানকৃত ৬৬ শতাংশ জমির উপর শরনখোলা মাইনর ইংলিশ স্কুল নামের একটি বিদ্যালয় স্থাপন করেন তৎকালীন স্থানীয় গন্যমান্য ব্যাক্তিরা। পরে ১৯৪৭ সালে স্কুলটি দ্বি-মুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয় হিসেবে অনুমোদন লাভ করেন এবং ১৯৫১ সালে রায়েন্দা প্রাথমিক বিদ্যালয়টি আলাদা হয়ে যায়। পরবর্তীতে ১৯৭৩ সালে শেখ মুজিবুর রহমানের ঘোষনায় জাতীয়করন করা হয় প্রাথমিক বিদ্যালয়টি। সেই থেকে ৩নং রায়েন্দা ইউনিয়নের ৯নং মৌজার ৫৬২ নং দাগ থেকে ৩০ শতাংশ জমি স্কুলটির ভোগ দখলে রয়েছে। এছাড়া বর্তমানে স্কুলটিতে ৬০৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। ভবন সংকটের কারনে অর্ধেক শিশু শিক্ষার্থী স্কুল থেকে প্রায় ১০০ মিটার দুরে রায়েন্দা সরকারী পাইলট হাইস্কুলের ফায়েল খায়ের ভবনে ক্লাস করানো হচ্ছে এবং চলতি বছরে অত্র বিদ্যালয়ের নামে নুতন একটি ভবন বরাদ্দ দেয় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। পুরোনো পরিত্যক্ত ভবনটি ভেঙ্গে নতুন ভবন স্থাপনের প্রস্তুতি নেয়ার পূর্ব মুহুর্তে সম্পত্তির মালিকানা দাবী করে মামলা দায়ের করার কারনে স্কুলটির নুতন ভবনের নির্মান কাজ স্থগিত রয়েছে।
ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি জিয়াউল হাসান বচ্চু বলেন, স্কুলের জমিতে জাহাঙ্গীর হোসেন মাসুমের কোন দাবী থাকলে স্থানীয় ভাবে ফয়সালা করা সম্ভব কিন্তু সে কোন কাগজ পত্র দেখাচ্ছে না। বিদ্যালয়ে নির্মান কাজ বাঁধাগ্রস্থ করতে এমন সিদ্বান্ত গ্রহন করেছেন তিনি।
অপরদিকে, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স মধু এন্টার প্রাইজের সত্ত্বাধিকারী গোলাম মোস্তফা মধু বলেন, ভবন নির্মানের জমিতে আদালত নিষেধাজ্ঞা জারি করায় ভবনের নির্মান কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে।
উপজেলা সিনিয়র সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ মিজানুর রহমান পাইক বলেন, আমাদের জানা মতে, স্কুল ক্যাম্পাসে মামলার বাদীর কোন জমি নেই। তবে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সমন্বয়ে বিষয়টি শীঘ্রই খতিয়ে দেখা হবে।
অন্যদিকে, মামলার বাদী জাহাঙ্গীর হোসেন মাসুম দাবী বলেন, কাগজ পত্রে জমি না পেলে ক্ষতিপুরনের দ্বায় আমার। আমি এস.এ রেকর্ডীয় মূল মালিকের নিকট হইতে ক্রয়কৃত মালিক আঃ হাই ও শাহজাহান আলী হাওলাদারের নিকট হইতে খরিদ করিয়াছি। ইতিপুর্বে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে বসা হয়েছে। আমার দাবি সঠিক এবং সে ব্যাপারে স্কুল কর্তৃপক্ষ ২০০৬ সালে একটি রেজুলেশনে লিখিত দিয়েছেন। তবে, স্থানীয় গন্যমান্যদের অনুরোধে মামলা তুলে আনা হয়েছে। সুষ্ঠ ফয়সালা না হলে পুনরায় মামলা দায়ের করা হবে।###