ফ্রান্সে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ২০০ শিশুকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ

প্রকাশিত

ফ্রান্স প্রতিনিধি-ফ্রান্সের অবসরপ্রাপ্ত এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে দুই শত বেশি শিশুর উপর যৌন নির্যাতন চালানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত চিকিৎসকের নাম জোয়েল লে স্কোয়ারনেক (৬৮)।

অভিযোগ প্রমাণ হলে এটি ফ্রান্সের সবচেয়ে বড় শিশু যৌন নির্যাতনের ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হবে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে প্রথমবারের মতো প্রতিবেশী ছয় বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। পাশাপাশি আরও দুই নাবালিকা ও এক তরুণীকে যৌন নিপীড়নের ঘটনায় নাম আসে ওই চিকিৎসকের। এই সব অভিযোগের ভিত্তিতে স্কোয়ারনেকের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হলে বেরিয়ে আসে দু’শোরও বেশি শিশুকে যৌন নির্যাতনের চাঞ্চল্যকর তথ্য!
চলতি বছরের মার্চ মাসে এক প্রতিবেশী শিশুকে ধর্ষণ ও যৌন নিগ্রহ করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় বিচার শুরু হয় তার বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে ১৯৮৯ থেকে ২০১৭ সাল পযন্ত সময়ে এসব যৌন নিগ্রহের অভিযোগ ওঠে। সেই সময় হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন ওই চিকিৎসক।

২০১৭ সালে তার বিরুদ্ধে প্রথম অভিযোগ ওঠে। ছয় বছরের এক শিশুকন্যার বাবা-মা অভিযোগ করেন, ওই চিকিৎসক তাদের মেয়েকে ধর্ষণ করেছেন। এরই পাশপাশি আরও দুই নাবালিকা আত্মীয়া ও এক তরুণী রোগীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগও উঠে অভিযুক্ত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে।

এই অভিযোগ ওঠার পর শুরু হয় তদন্ত। ওই সময়ই চিকিৎসকের গোপন ডায়েরির সন্ধান মেলে। ওই ডায়েরি গুলোতে অভিযুক্ত চিকিৎসক লিখে রেখেছেন, নিজের যৌন অপরাধের ধারাবাহিক বিবরণ।

সিটি অব লা রোচেলের সরকারি কৌঁসুলি বলেন, ২৫০ নাবালিকা-কিশোরী আক্রান্তের কথা উঠে এসেছে দ্বিতীয় পর্যায়ের তদন্তে। এদের মধ্যে ২০৯ জনের সঙ্গে এখন পর্যন্ত কথা বলার সুযোগ পেয়েছে পুলিশ। তাদের মধ্যে কেউ কেউ যথাযথভাবে সেই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন বলে পুলিশের দাবি।

অভিযুক্তের আইনজীবীরা চেষ্টা করছিলেন ঘটনাগুলো ওই চিকিৎসকের মনগড়া ‘ফ্যান্টাসি’। কিন্তু ১৮৪ জনের মধ্যে ১৮১ জন ঘটনার সময় যারা নাবালিকা ছিল, তারাও ওই চিকিৎসকের নামে অভিযোগ করেছেন। সেখানে তারা তাদের সঙ্গে কী কী হয়েছে তা বিস্তারে জানিয়েছেন।

ডায়েরি ছাড়াও ওই চিকিৎসকের বাড়ি থেকে শিশু পর্নোগ্রাফির ছবি ও সেক্স টয় পাওয়া গেছে। দোষী সাব্যস্ত হলে ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে ওই চিকিৎসকের।