১২১ বছরে পদার্পণ করলো কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ

প্রকাশিত

এস.এম.মনির,কুমিল্লা-
দক্ষিণ পূর্ব বাংলার ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ। দেশের গন্ডি পেরিয়ে যার সুখ্যতি রয়েছে বিশ্বব্যাপী। দেশের অন্যতম সেরা এই বিদ্যাপীঠটি বহু ইতিহাস আর ঐতিহ্যের সাক্ষী। ইতিহাস-ঐতিহ্যের ধারক-বাহক কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ শত বাধা পেরিয়ে আজ (২৪ নভেম্বর) ১২০ বছর অতিক্রম করে ১২১ বছরে পদার্পণ করলো।
কলেজ সূত্রে জানা গেছে, ১৮৯৯ সালের ২৪ নভেম্বর জমিদার রায় বাহাদুর আনন্দ চন্দ্র রায় সবার মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে প্রতিষ্ঠা করেন “কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ”। শিক্ষা-সংস্কৃতির বিকাশে ব্রিটিশ ভারতে প্রথম পর্যায়ে যে কয়টি কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয়, ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ তার মধ্যে অন্যতম।
তিতাস চৌধুরী লিখেছেন, ‘প্রাচীনত্বের বিচারে এই কলেজটি বুড়োদের দলেই পড়ে’। মূলত এই কলেজটিই ছিল এই অঞ্চলের অন্ধকার যুগের শিক্ষা-সংস্কৃতি, ইতিহাস-ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক। তবে পাকিস্তান সৃষ্টির পর এই কলেজের নাম পরিবর্তনের চেষ্টা করা হয়। ‘ভিক্টোরিয়া’ শব্দটি ছেঁটে ফেলে দেয়ার চিন্তা করা হয়। শেষ পর্যন্ত তা আর সম্ভব হয়ে ওঠেনি। কলেজটি প্রতিষ্ঠার পর ব্রিটিশ সরকার তাকে ‘রায় বাহাদুর’ উপাধিতে ভূষিত করেছিল। তৎকালীন ব্রিটেনের রানী ভিক্টোরিয়ার নামানুসারে কলেজটির নামকরণ করা হয়েছিল।
এদিকে, বর্তমানে কলেজটি দু’টি অংশে বিভক্ত। কুমিল্লা নগরীর কান্দিরপাড় রানীদীঘির পাড়ে কলেজের এইচএসসি (ইন্টারমিডিয়েট) শাখা। আর ধর্মপুরে ডিগ্রি-অনার্স শাখা অবস্থিত। প্রায় ২৮ হাজার শিক্ষার্থীর পদচারণায় কলেজটি এখন মুখরিত থাকে প্রতিদিন। এ কলেজে বর্তমানে ২২টি বিষয়ে অনার্স ও ১৯টি বিষয়ে মাস্টার্স কোর্স চালু রয়েছে। রয়েছে ১২টি সক্রিয় সাংস্কৃতিক সংগঠন। সংগঠনগুলো শিক্ষা ও সংস্কৃতির বিকাশে বেশ অবদান রাখছে।
কুমিল্লার ইতিহাস পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ভাষা আন্দোলন ও স্বাধীনতা সংগ্রামে কলেজটির ভূমিকা ছিল অনন্য।
অন্যদিকে, আধুনিকতার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে কলেজটি। এখানকার প্রতিটি ভবনের নকশা মনোমুগ্ধকর। এছাড়া হৃদয়ে বঙ্গবন্ধু মুরাল, জিয়া অডিটোরিয়াম, মুক্তমঞ্চ (নির্মাণাধীন), স্বাধীনতা স্তম্ভ, আনন্দচন্দ্র রায়ের প্রতিকৃতি, শহীদ মিনার, কলেজ ক্যান্টিন, কলেজ লেক, রানীদীঘি, কবি নজরুল ইসলাম হল, নওয়াব ফয়জুন্নেছা হল, মুতাহের হোসেন চৌধুরী লাইব্রেরি ভিক্টোরিয়া কলেজের সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিয়েছে বহুগুণ।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম কলেজটির ইন্টারমিডিয়েট শাখার রানীদীঘির পাড়ে বসে তার বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতেন ও কবিতা লিখতেন। কথিত আছে, এখানে বসেই কবি তার প্রিয়তমা নার্গিসকে প্রেমপত্র লিখে পাঠাতেন।
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক রুহুল আমিন ভূঁইয়া বলেন, ‘ভিক্টোরিয়া কলেজের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সাবেক, বর্তমান শিক্ষার্থীসহ কুমিল্লার নবীন-প্রবীণ গুণী মানুষদের পদচারণায় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বিভিন্ন অনুষ্ঠান মুখরিত হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা এ বছর ভিক্টোরিয়ায় অধ্যায়ন করা পাঁচজন গুণী মানুষকে সম্মাননা প্রদান করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি ২০১৯ সালে ভিক্টোরিয়ার যেসব মেধাবী শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পড়ার সুযোগ পেয়েছেন তাদের সংবর্ধনা দেওয়া হবে। শত বছর নয়, হাজার বছর শিক্ষার আলো ছড়াবে এই প্রতিষ্ঠান।’
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ প্রতিষ্ঠাকালে যে আনন্দধারা প্রবাহিত ছিল, তা অব্যাহত থাকবে- এমনটাই প্রত্যাশা সবার।ৎ