রাজারহাটে বাল্য বিবাহ মুক্ত ইউনিয়ন ঘোষণার ৪৮ ঘন্টায় ২ মেধাবী ছাত্রীর বাল্য বিয়ে

প্রকাশিত

রাজারহাট(কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি-
কুড়িগ্রামের রাজারহাটে বাল্যবিবাহ মুক্ত ইউনিয়ন ঘোষণার ৪৮ ঘন্টার মধ্যে ২ মেধাবী ছাত্রীর বাল্য বিয়ের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বাল্য বিয়ে মুক্ত এলাকা হিসেবে ওই ইউনিয়নকে কাগজে-কলমে লিপিবদ্ধ করে রাখার অভিযোগ তুলেছে এলাকাবাসী।
আরডিআরএস বাংলাদেশ এর বাস্তবায়নে বিল্ডিং বেটার ফিউচার ফর গার্লস প্রজেক্ট এর অর্থায়নে কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় ২০১৭ সালের শেষের দিকে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ কার্যক্রম শুরু হয়। এরই কার্যক্রমে গত ২০ নভেম্বর’১৯ ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের এক অনুষ্ঠানে ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান রবীন্দ্র নাথ কর্মকার ও রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ যোবায়ের হোসেন ওই ইউনিয়নকে বাল্যবিবাহ মুক্ত ইউনিয়ন হিসেবে ঘোষণা করেন। কিন্তু ঘোষণার পরদিন ২১ নভেম্বর ইউনিয়নের চেতনা গ্রামের শৈলেন্দ্র নাথ রায়ের কন্যা ও সিংগারডাবড়ীহাট আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্রী এসএসসি পরীক্ষার্থী পিয়াসী রানীর(১৬) এবং ২২ নভেম্বর গহতিয়াসাম গ্রামের আলূ ব্যবসায়ী আঃ খালেক মিয়ার কন্যা ও সরকারবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী এসএসসি পরীক্ষার্থী শামসুন্নাহার বেগম(১৬) এর বিয়ে হওয়ার অভিযোগ উঠে। এ ঘটনায় সিংগারডাবড়ীহাট আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ ফারুক আহমেদ বলেন, পিয়াসী রানী ছাত্রী মেধাবী ক্লাসে ২ রোল, বিয়ে না হলে জিপিএ-৫ পাওয়ার সম্ভবনা ছিল। রাজারহাট উপজেলা শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান আঁশু বলেন, বাল্যবিবাহ মুক্ত ইউনিয়ন ঘোষণার পূর্বে উপজেলার সকল মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীকে নিয়ে সচেতনতা মূলক অনুষ্ঠান করলে শিক্ষার্থীগণ বাল্যবিয়ের কুফল সম্পর্কে জানতে পারতো। এ ব্যাপারে ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান রবীন্দ্র নাথ কর্মকার বলেন, এ বিয়ে দু’টি সম্পর্কে আমার জানা ছিল না। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ প্রোগ্রামের আরডিআরএস এর প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর আব্দুল্লা আল মামুন বলেন, এটি ৫বছরের প্রজেক্ট, এখন প্রাথমিক ভাবে ঘোষণা করা হচ্ছে, ৩ বছর পর পুর্ণাঙ্গভাবে রাজারহাট উপজেলাকে বাল্যবিবাহ মুক্ত ঘোষণা করা হবে। উল্লেখ্য, ইতোমধ্যে রাজারহাট উপজেলার ৪টি ইউনিয়নকে বাল্যবিবাহ মুক্ত ইউনিয়ন হিসেবে ঘোষনা করেছে আরডিআরএস এর এ প্রকল্পটি